Logo
Logo
×
   

ইসলাম ও জীবন

বৃষ্টির সময় দোয়া কবুল হয়

Icon

মুফতি এ এইচ এম আবুল কালাম আযাদ

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বৃষ্টির সময় দোয়া কবুল হয়

সংগৃহীত ছবি

আল্লাহতায়ালার অশেষ নেয়ামত বৃষ্টি। প্রখর রোদে চারদিক যখন উত্তপ্ত তখন একপশলা বৃষ্টি যেন প্রশান্তির বার্তা নিয়ে হাজির হয়। মুহূর্তেই স্বস্তিতে ভরে ওঠে সবার মন। সজীবতায় মেতে ওঠে গাছ-গাছালির সবুজ পাতা। প্রকৃতি নতুন রূপ ধারণ করে সজ্জিত হয়।

মুমিনের কাছে বৃষ্টির রয়েছে নতুন বার্তা। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে বৃষ্টির উপকারিতার কথা এসেছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি ভূপৃষ্ঠকে বিস্তৃত করেছি, তাতে পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং তাতে সব ধরনের নয়নাভিরাম উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি।’ (সূরা : কাফ : ৭)।

বৃষ্টিবর্ষণের মুহূর্তটি মানুষের প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের সময়। এ সময় মানুষের দোয়া কবুল হয়। সাহাল বিন সাআদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘দুই সময় দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না কিংবা খুবই কম ফেরানো হয়। আজানের সময় এবং যখন শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধ চলে। আরেক বর্ণনা মতে, বৃষ্টিবর্ষণের সময়। (আবু দাউদ : ২৫৪০)।

জায়েদ বিন খালিদ (রা.) বর্ণনা করেছেন, হুদায়বিয়ার বছর একদিন আমরা রাসূল (সা.)-এর সঙ্গে বের হই এবং এক রাতে মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষিত হয়। রাসূল (সা.) আমাদের নিয়ে ফজর নামাজ পড়েন। এরপর আমাদের দিকে ফিরে বললেন, ‘তোমরা কি জান তোমাদের রব কী বলেছেন?’ আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভালো জানেন। অতঃপর তিনি বলেন, ‘আল্লাহ বলেন, আজ আমার অনেক বান্দা ইমান এনেছে এবং অনেকে কুফরি করেছে। যারা বলেছে, আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও দয়ায় আমরা বৃষ্টি লাভ করেছি; তারা আমার প্রতি ইমান এনেছে এবং নক্ষত্রের প্রভাব অস্বীকার করেছে। পক্ষান্তরে যারা বলেছে, আমরা অমুক তারকার প্রভাবে বৃষ্টি লাভ করেছি; তারা তারকার প্রতি বিশ্বাস রেখেছে এবং আমাকে অস্বীকার করেছে।’ (সহিহ বুখারি : ৪১৪৭)।

বৃষ্টির আগ মুহূর্তে মেঘের গর্জন শুনলে রাসূল (সা.)-এর চেহারায় কিছু দুশ্চিন্তার ছাপ দেখা যেত। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, আমি কখনো রাসূল (সা.)-কে এমনভাবে হাসতে দেখিনি যে তাঁর আলা জিহ্বা দেখা যায়। তিনি সব সময় মুচকি হাসতেন। মেঘ বা বাতাস দেখলে তাঁর চেহারায় শঙ্কা দেখা যেত। আমি বলতাম, হে আল্লাহর রাসূল (সা.), মানুষ মেঘ দেখে খুশি হয়। কারণ তাদের আশা একটু পরই বৃষ্টি হবে। আর মেঘ দেখলে আপনার চেহারায় দুশ্চিন্তার ছাপ লক্ষ করা যায়? তখন তিনি বলেন, ‘হে আয়েশা, আমি কীভাবে নিশ্চিত হব যে, তাতে আজাব নেই? কারণ অনেক সম্প্রদায় প্রবল বাতাসে নিশ্চিহ্ন হয়েছে। অনেক সম্প্রদায় মেঘ দেখে বলেছে, এই মেঘ আমাদের বৃষ্টি দেবে।’ (সহিহ বুখারি : ৪৮২৮)।

দমকা হওয়া বইতে দেখলে রাসূল (সা.) আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে যেতেন এবং উদ্বিগ্ন হয়ে চলাফেরা করতেন। যখন বৃষ্টি হতো তখন তিনি খুব খুশি হতেন। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমার আশঙ্কা হয়, আমার উম্মতের ওপর কোনো গজব আসে কি না। বৃষ্টি দেখলেই তিনি বলতেন, রাহমাতান অর্থাৎ এটি আল্লাহর রহমত। (হাদিস : ১৯৬৯)।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .