নির্বাচনে কুরআনের পক্ষের শক্তিকে বিজয়ী করতে হবে: জামায়াত নেতা
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৫, ১০:২১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুরআনের পক্ষের শক্তিকে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
তিনি বলেন, দেশের মানুষের প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ‘মানবরচিত মতবাদ’কে দাফন করতে হবে। জালেমের বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করে শহীদ হয়েছেন, তাদের মহানবী (সা.) শহীদের মর্যাদা দিয়েছেন। প্রথম ও দ্বিতীয় স্বাধীনতার পর দেশের মানুষকে আরও একটি স্বাধীনতা অর্জন করতে হবে। মানুষ মানুষের গোলামি করে কখনো স্বাধীন হতে পারে না।
শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান : প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতার শহীদ ও আহত যারা’ বইয়ের ইংরেজি ও আরবি ভার্সনের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বইয়ের তথ্য সংগ্রহের ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
মুজিবুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে প্রথম স্বাধীনতা অর্জনের পরে আমরা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়েছি। মানুষের ওপর মানুষের গোলামি খতম করে আল্লাহর গোলামি কায়েম করার জন্য আমাদের আবার তৃতীয়বার স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করতে হবে। যদি দেশের ১৭ কোটি মানুষের জন্য সম্মান, কল্যাণ ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চাই, তাহলে আমাদের সংসদে কুরআনের পক্ষের শক্তিকে বিজয়ী করতে হবে। ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় কাঠামো পর্যন্ত সবখানে আল-কুরআনের বিধান প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের পথ অনুসরণ করতে হবে। প্রয়োজনে তাদের মতো জীবন উৎসর্গ করতে হবে। শহীদদের মা-বাবা আজ গর্বিত। সেই আদর্শকে বুকে ধারণ করে আমাদের সামনে এগোতে হবে।
জাতীয় সেমিনারে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি এসএম ফরহাদ প্রমুখ। এ সময় শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সাইফুল আলম খান মিলন, মো. আব্দুর রব, মোবারক হোসাইন, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।
সেমিনার যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিস্টের দোসররা প্রশাসনে ঘাপটি মেরে আছে, যারা নানাভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং পারস্পরিক সহমর্মিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। জুলাইয়ের অর্জনকে টেকসই করতে রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার ও রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য জরুরি।
জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, জুলাই সনদ ও ঘোষণা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। দলীয়করণমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, বিচার ও সরকারব্যবস্থা গড়ে তুলতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কাঠামো তৈরি করতে হবে, যেখানে নতুন কোনো ফ্যাসিবাদ জন্ম নেবে না। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের হত্যাকারীদের বেশির ভাগ এখনো গ্রেফতার হয়নি। তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘জুলাই সনদ ও ঘোষণা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে সম্পর্ক তৈরি হতে হবে। কোনো অন্যায্য হস্তক্ষেপ মানা হবে না। নতজানু পররাষ্ট্রনীতি চলবে না। সীমান্ত হত্যা, বৈষম্যপূর্ণ পানিবণ্টন নীতি এবং দেশের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর ট্রানজিট, করিডর সুবিধা দেওয়া হবে না।’
আশরাফ আলী আকন বলেন, ১৯৭১ সালের পর স্বাধীনতার চেতনার কথা বলে আওয়ামী লীগ জাতির ওপর শোষণ, জুলুম, নির্যাতন, লুটপাট চালিয়েছে। লাখ লাখ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে দেশের সম্পদ লুটপাট করেছে। আবার ৯০ সালের গণ-অভুত্থানের পরে আরেকটি দল ক্ষমতায় এসে লুটপাট, চাঁদাবাজি করেছে। কিন্তু জনগণের প্রত্যাশা আজও পূরণ হয়নি।
নাসীরুদ্দীন পটওয়ারী শহীদদের তালিকা করার জন্য জামায়াতে ইসলামীর নেতাদেরকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন- ঘুস, দুর্নীতি, চাঁদাবাজিমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে হলে সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে। আওয়ামী লীগের শাসনামলে মুসলমানদের জঙ্গি হিসেবে অভিহিত করে তাদের ওপর জুলুম করা হয়েছে। জামায়াত-শিবির ও মসজিদের ইমামদের জঙ্গি আখ্যা দিয়ে তাদের হত্যা করা হয়েছে।
