Logo
Logo
×

চাকরি

চাকরিকে সিচুয়েশনশিপ মনে করেন জেন-জিরা

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম

চাকরিকে সিচুয়েশনশিপ মনে করেন জেন-জিরা

ছবি: সংগৃহীত

জেন-জিরা চাকরিকে ‘দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার’ হিসেবে দেখে না, বরং তারা চাকরিকে স্বল্পমেয়াদি ‘সিচুয়েশনশিপ’ বা অস্থায়ী সম্পর্ক হিসেবে বিবেচনা করে। কর্মস্থলে জেনারেশন জেড (জেন-জি) ও ব্যবস্থাপক বা নিয়োগের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রায় ১ হাজার ৮ জনের বেশি কর্মীকে নিয়ে করা এক জরিপে এ ফলাফল উঠে আসে। গবেষণাটি করেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার আর্থিক প্রতিষ্ঠান গেটওয়ে কমার্শিয়াল ফাইন্যান্সের গবেষকেরা। 

১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী এই প্রজন্মকে প্রথম প্রকৃত ‘ডিজিটাল নেটিভ’ বা জেন-জি বলা হয়। 

দীর্ঘদিন ধরে যে নিয়মে কর্মস্থলের কর্মীরা চলে আসছেন সেসব যেন সহজে মেনে নিতে পারেন না জেন-জি কর্মীরা। পরিস্থিতিতে চাকরিকে ‘দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার’ হিসেবে না দেখে স্বল্পমেয়াদি ‘সিচুয়েশনশিপ’ বা অস্থায়ী সম্পর্ক হিসেবে বিবেচনা করছে জেন-জিরা। অনেকে জেন-জি প্রজন্মকে ‘চাকরির অযোগ্য’ বলেও অভিহিত করেন। 

জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, চাকরিকে ‘সিচুয়েশনশিপ’ হিসেবে দেখেন ৫৮ শতাংশ উত্তরদাতা। যেখানে দীর্ঘদিন স্থায়ী হওয়া সম্ভব নয়। ৪৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী চাকরি শুরু করার এক বছরের মধ্যেই চাকরি ছাড়ার পরিকল্পনার কথা জানান। 

জরিপে আরও উঠে এসেছে, জেন-জি চাকরি করার বিষয়টিকে কিভাবে দেখছে। মাত্র ৪৬ শতাংশ মনে করেন, বর্তমান চাকরির বাজারে একই নিয়োগকর্তার সঙ্গে দীর্ঘদিন থাকা বাড়তি সুবিধা দেয়। অন্যদিকে ৩৭ শতাংশের কাছে তাদের বর্তমান পদটি কেবল আয়ের একটি উৎস। আর মাত্র ২৫ শতাংশ এটিকে এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি সুযোগ হিসেবে দেখেন, যেখানে তারা সত্যিকার অর্থে বিনিয়োগ করতে চান।

জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক মানুষই যেকোনো সময় চাকরি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।

চাকরি ছাড়ার সম্ভাব্য কারণ জানতে চাইলে ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা বলেন, অন্য কোথাও বেশি বেতনের সুযোগ পেলে চলে যাবেন তারা। ৩৪ শতাংশ জেন-জি জানিয়েছেন- বর্তমান কর্মস্থলে মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব এবং বার্নআউটের অভিজ্ঞতার কথা। আর ২২ শতাংশ মনে করেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন বা স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না।

নিয়োগদাতার প্রতি চারজনের মধ্যে একজন মনে করেন, এক বছরের কম সময়ের স্বল্পমেয়াদি চাকরির অভিজ্ঞতা জেন-জির জীবনবৃত্তান্তে একটি ‘রেড ফ্ল্যাগ’। এছাড়া প্রতি তিনজনের বেশি নিয়োগদাতা স্বীকার করেছেন, ঘন ঘন চাকরি বদলের প্রবণতার কারণে তারা জেন-জিদের নিয়োগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ব্যাংক অব আমেরিকার ২০২৫ সালের ‘বেটার মানি হ্যাবিটস’ আর্থিক শিক্ষা–সংক্রান্ত গবেষণা অনুযায়ী, গত এক বছরে ৭২ শতাংশ জেন-জি তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতিতে পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে মাত্র ৩৯ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা পরিবার থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন, যা ২০২৪ সালে ছিল ৪৬ শতাংশ।

ব্যাংক অব আমেরিকার কনজ্যুমার, রিটেইলার ও প্রেফার্ড ব্যাংকিং বিভাগের প্রেসিডেন্ট হলি ও’নিল এক বিবৃতিতে বলেন, জেন-জিরা তরুণদের আর্থিক বিষয়ক প্রচলিত ধারণাকে ‘চ্যালেঞ্জ’ করছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম