•       রোহিঙ্গা শরণার্থী সব ক্যাম্পে টেলিটকের বুথ থাকবে, সেখান থেকে নাম মাত্র মূল্যে তাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন: টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম
বিশেষ সংবাদদাতা    |    
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
বিশেষজ্ঞ দলের প্রতিবেদনে হতবাক সংসদীয় কমিটি
প্রতিযোগিতা করে উৎপাদন হচ্ছে ভেজাল ওষুধ
অনেকটা প্রতিযোগিতা করেই দেশে উৎপাদন করা হচ্ছে ভেজাল ও নিুমানের ওষুধ। দেশের নামিদামি প্রতিষ্ঠানগুলো অনেকটা প্রকাশ্যেই মরণব্যাধি ক্যান্সারসহ নানা ধরনের এন্টিবায়োটিক ওষুধ উৎপাদন করছে প্রতিনিয়ত। বাইরে থেকে দরজা তালাবদ্ধ করে রেখে কারখানার ভেতরে ভেজাল ওষুধ উৎপাদন করছে। প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওষুধ উৎপাদনের এই অসুস্থ প্রতিযোগিতার চিত্র দেখে হতবাক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।
বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে সংসদীয় কমিটি কর্তৃক গঠিত বিশেষজ্ঞ তদন্ত দলের উপস্থাপিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভয়াবহ এসব চিত্র। কমিটি নকল ওষুধ উৎপাদনকারী, অনুমোদনকারী এবং যেসব দোকান বা যাদের কাছে এসব ওষুধ পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি এখন থেকে ওষুধ উৎপাদনে ট্রাক অ্যান্ড ট্রেস সিস্টেম চালু এবং ওষুধ শিল্প সমিতির সদস্য ছাড়া কিংবা সমিতির অনুমোদন ছাড়া লাইসেন্স না দেয়ার বা লাইসেন্স নবায়ন না করারও সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিমের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, আফম রুহুল হক, মো. ইউনুস আলী সরকার এবং সেলিনা বেগম অংশ নেন। ওষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে অংশ নেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. আবম ফারুক বিভিন্ন ওষুধ কারখানা পরিদর্শন করে ওষুধ শিল্প উন্নয়ন ও নকল ওষুধ প্রতিরোধে কী করণীয় তার একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। তার নেতৃত্বে গঠিত ওই বিশেষজ্ঞ তদন্ত কমিটিতে অন্যদের মধ্যে ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মো. সাহাবুদ্দিন কবীর চৌধুরী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনুয়ারুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী।
উপস্থাপিত প্রতিবেদনে ৮৪টি ওষুধ কোম্পানির ওষুধ উৎপাদন ও বিপণনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়। তদন্ত দলটি ২০টি ওষুধ কোম্পানির ওষুধ উৎপাদনের লাইসেন্স বাতিল, ১৪টি কোম্পানির সব ধরনের এন্টিবায়োটিক (নন-পেনিসিলিন, পেনিসিলিন ও সেফালোস্পোরিন গ্রুপ) উৎপাদনের অনুমতি বাতিল, ২২টি কোম্পানির পেনিসিলিন ও সেফালোস্পোরিন গ্রুপের এন্টিবায়োটিক উৎপাদনের অনুমতি বাতিল করার সুপারিশ করেছে। এছাড়া দুটি কোম্পানির মানবদেহে বাহ্যিকভাবে ব্যবহার্য ওষুধ, একটিকে প্রাণিসম্পদে ব্যবহার্য ওষুধ এবং অপর একটিকে সেফালোস্পোরিন বাদে অন্যান্য গ্রুপের ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি অব্যাহত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, ক্যান্সারের মতো মরণঘাতী রোগের ওষুধেও ভেজাল পাওয়া গেছে। টেকনো ড্রাগসসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে ক্যান্সারের এই ভেজাল ওষুধ। এছাড়াও ভেজাল এবং নিুমানের কাঁচামাল দিয়ে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ উৎপাদন করছে নামিদামি অনেক প্রতিষ্ঠানই। প্রতিবেদনে মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হওয়ায় যে ২০টি কোম্পানির উৎপাদনের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে সেগুলো হল এক্সিম ফার্মাসিউটিক্যাল, এভার্ট ফার্মা, বিকল্প ফার্মাসিউটিক্যাল, ডলফিন ফার্মাসিউটিক্যাল, ড্রাগল্যান্ড, গ্লোব ল্যাবরেটরিজ, জলপা ল্যাবরেটরিজ, কাফিনা ফার্মাসিউটিক্যাল, মেডিকো ফার্মাসিউটিক্যাল, ন্যাশনাল ড্রাগ, নর্থ বেঙ্গল ফার্মাসিউটিক্যাল, রিমো কেমিক্যাল, রিদ ফার্মাসিউটিক্যাল, স্কাইল্যাব ফার্মাসিউটিক্যাল, স্পার্ক ফার্মাসিউটিক্যাল, স্টার ফার্মাসিউটিক্যাল, সুনিপুণ ফার্মাসিউটিক্যাল, টুডে ফার্মাসিউটিক্যাল, ট্রপিক্যাল ফার্মাসিউটিক্যাল এবং ইউনিভার্সেল ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড।
নন-পেনিসিলিন, পেনিসিলিন ও সেফালোস্পোরিন গ্রুপের ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি বাতিল করার সুপারিশ করা ১৪টি কোম্পানি হচ্ছে আদ-দ্বীন ফার্মাসিউটিক্যাল, আলকাদ ল্যাবরেটরিজ, বেলসেন ফার্মাসিউটিক্যাল, বেঙ্গল প্রাগস, ব্রিস্টল ফার্মা, ক্রাইস্ট্যাল ফার্মাসিউটিক্যাল, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যাল, মিল্লাত ফার্মাসিউটিক্যাল, এমএসটি ফার্মা, অরবিট ফার্মাসিউটিক্যাল, ফার্মিক ল্যাবরেটরিজ, পনিক্স কেমিক্যাল, রাসা ফার্মাসিউটিক্যাল এবং সেভ ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড।
এছাড়া পেনিসিলিন ও সেফালোস্পোরিন গ্রুপের ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি বাতিলের সুপারিশ করা ২২টি কোম্পানি হচ্ছে আমিকো ফার্মাসিউটিক্যাল, অ্যাজটেক ফার্মাসিউটিক্যাল, বেঙ্গল টেকনো ফার্মা, বেনহাম ফার্মাসিউটিক্যাল, সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যাল, ডিসেন্ট ফার্মা, ড. টিআইএম’স ল্যাবরেটরিজ, গ্লোবেক্স ফার্মাসিউটিক্যাল, গ্রিনল্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল, ইনোভা ফার্মাসিউটিক্যাল, মাকস ড্রাগস, মেডিম্যাট ল্যাবরেটরিজ, মডার্ন ফার্মাসিউটিক্যাল, মাইস্টিক ফার্মাসিউটিক্যাল, ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিজ, অর্গানিক হেলথ কেয়ার, ওয়েস্টার ফার্মা, প্রিমিয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল, প্রাইম ফার্মাসিউটিক্যাল, সীমা ফার্মাসিউটিক্যাল, ইউনাইটেড কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল এবং হোয়াইট হর্স ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড।
জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ভেজাল এবং নিুমানের ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চিহ্নিত করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ তদন্ত কমিটি গঠন করে। বিশেষজ্ঞ দল গত দেড় বছরে ৮৪টি ওষুধ কারখানা পরিদর্শন করে। এর মধ্যে নতুন ১৫টি এবং পুরনো ৬৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ১ ফেব্র“য়ারি তারা সংসদীয় কমিটির কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেয়। বুধবার অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এটি নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটি ভেজাল ও নিুমানের ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার সুপারিশ করে। তারা বলে, তা না হলে দেশের জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মধ্যে পড়বে।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by