logo
সাঁওতালদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস ওবায়দুল কাদেরের
    |    
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০০:০০:০০
গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল সম্প্রদায়ের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। শুক্রবার বিকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ আশ্বাস দেন। বৈঠক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে বৈঠকে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ৭ সদস্যের প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন, সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সহসভাপতি ফিলিমন বাস্কে, লরেন্স বেসেরা, গণেশ মুরমু, প্রভাত টুডু, মানিক সরেন ও শাহজাহান আলী। আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সাঁওতাল প্রতিনিধিদলের সদস্যরা দাবি-দাওয়াসংবলিত লিখিত বক্তব্য জমা দেন। তাতে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ১৯৬২ সালের চুক্তির ধারা মোতাবেক যেসব পরিবারের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল সেগুলো সেই ভূমি আইনে অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানানো হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈঠক সূত্র জানায়- ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনাদের বাড়িঘর বানিয়ে দেয়ার ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভালো শাসক। তার চেয়ে আপন আপনারা অন্য কাউকে পাবেন না। আমাদের সবাইকে একটু ছাড় দিতে হবে। আপনাদের যেমন সমস্যা আছে, আমাদেরও আছে। আপনারা যদি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন, শেখ হাসিনার সরকার আপনাদের আপন। তাহলে নেত্রীর ওপর বিষয়টি ছেড়ে দেন। আপনাদের (সাঁওতাল) আমরা সবাই ছেড়ে গেলেও শেখ হাসিনা ছেড়ে যাবেন না।’ বৈঠক সূত্র আরও জানায়, বৈঠকে উপস্থিত সাঁওতাল নেতারা প্রধানমন্ত্রীর পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার নির্দেশ অনুসারে আদি বাসস্থান ছেড়ে অন্য জায়গায় যেতে অনীহা প্রকাশ করেন। এ ব্যাপারে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা দেশের উন্নয়নের স্বার্থে কোথাও কোথাও মুসলমান সম্প্রদায়ের মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও সরিয়ে অন্যখানে তার চেয়ে ভালো ব্যবস্থা করে দিয়েছি। জন্মস্থানে বসবাস করার ইচ্ছা সবারই জাগে, এটাই স্বাভাবিক। আপনাদের তো একেবারে আমরা ওখান থেকে সরানোর কথা ভাবছি না। এখন ওখানে একটা বদনাম রটে গেছে। আগে সেদিক বিবেচনা করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। আপনাদের নিরাপত্তা, বাসস্থান ও জীবিকা অর্জনের ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ প্রচণ্ড শীতের মধ্যে মানুষগুলো এখন তাঁবুতে বাস করছে। তারা তো প্রচণ্ড কষ্ট পাচ্ছে।’
পাশাপাশি আগামী ২৮ ডিসেম্বরের পর যে কোনো দিন গাইবান্ধার ওই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শনে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।
বৈঠক সূত্র আরও জানায়, সাঁওতাল প্রতিনিধিরা স্থানীয় এমপি, চেয়ারম্যান ও প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে কথা বলেন। এ সময় ওবায়দুল কাদের তাৎক্ষণিকভাবে ডিআইজিকে ফোন করে ওসির ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া যায় কিনা সে ব্যাপারে মতামত দেন। পাশাপাশি ডিসিকে ফোন করে ইউএনও’র ব্যাপারে কথা বলেন। আর স্থানীয় আওয়ামী লীগ এমপির ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ওকে তো ফোন করলে এমনভাবে কথা বলে, মনে হয় যেন ভাজা মাছটাও উল্টো করে খেতে জানে না।
বৈঠকে প্রতিনিধিদলের একজন সদস্য সমস্যা সমাধানের সদিচ্ছা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের সদিচ্ছার কোনো কমতি নেই। সমস্যা সমাধানে আপনারাও কোনো অনড় অবস্থানে থাকবেন না। অনড় অবস্থানে থাকলে সমস্যার সমাধান হবে না। অনড় অবস্থান থেকে আপনাদেরও কিছুটা সরে আসতে হবে। আপনারা আইনগতভাবে সরকারকে চাপ দিতে থাকেন। তাহলে সরকার অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে।’
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে ওবায়দুল কাদেরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে গণেশ মুরমু বলেন, ‘স্যার আমি একটু কথা বলতে চাই। সেদিন আমি ওখানে ছিলাম। জীবনেও এমন ঘটনা দেখিনি। এরপর আর তিনি কথা বলতে পারেননি, হু হু করে কেঁদে ওঠেন।’ এ পর্যায়ে গত ১৬ ডিসেম্বর বুধবার সচিবালয়ে এক সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের ভূমিহীন সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মানুষকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় প্রধানমন্ত্রী ঘরবাড়ি বানিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে ওবায়দুল কাদের জানান।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, ‘আমাদের মূল দাবি- আমরা ওই জমি ফিরে পেতে চাই। আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন চাই। আমরা ওই এলাকার বাইরে থাকার কথা চিন্তাভাবনা করছি না। কারণ সাঁওতালদের গুচ্ছগ্রামে থাকার অভিজ্ঞতা নেই। ওই ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। একটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। বাকি তিনটিও দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে।’ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে সুজিত রায় নন্দী বলেন, ‘আমাদের সরকার ও আওয়ামী লীগ সাঁওতালদের সমস্যা সমাধানে যথেষ্ট সহানুভূতিশীল। আলোচনা যথেষ্ট ফলপ্রসূ হয়েছে।’