•       ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে আটক ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক মহিউদ্দিন রানাকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার
যুগান্তর ডেস্ক    |    
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি
এ যাত্রায় বেঁচে গেলেন নওয়াজ শরিফ
পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে আপাতত ক্ষমতাচ্যুতির হাত থেকে রেহাই পেলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। কর ফাঁকি ও অর্থ পাচার সংক্রান্ত বহুল আলোচিত এই মামলায় আরও তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। নওয়াজকে অপসারণের মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানিয়ে তার পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে একটি যৌথ কমিশন গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। খবর ডন ও বিবিসির।
পাকিস্তানজুড়ে টান টান উত্তেজনা আর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার মধ্যে পাকিস্তান সুপ্রিমকোর্টের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানান, পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের বাইরে আসিফ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালত বলেছেন, এ বিষয়ে তদন্তের জন্য একটি কমিশন করতে হবে।’
গত বছর প্রকাশিত পানামা পেপারসের লাখ লাখ গোপন নথিতে বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক নেতা ও শীর্ষ ব্যবসায়ীদের গোপন সম্পদের তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। পানামার ল’ ফার্ম মোসাক ফনসেকার ফাঁস হওয়া সাড়ে ১১ লাখ নথির মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে মরিয়ম এবং ছেলে হাসান ও হুসেইন নওয়াজের নামে আটটি অফশোর কোম্পানি থাকার তথ্য আসে। এসব তথ্য ফাঁস হওয়ার পর নওয়াজ শরিফের পরিবারের সম্পদ, অফশোর হোল্ডিংস ও ব্যাণিজ্যিক স্বার্থ নিয়ে পাকিস্তানজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক দেখা দেয়। বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করে এবং নওয়াজের পদত্যাগ দাবি করে।
পানামা পেপারসের জের ধরে অভিযোগ ওঠে, গত শতকের নব্বইয়ের দশকে প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় নওয়াজ ও তার পরিবারের সদস্যরা অবৈধ মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচার করেছেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতে পিটিশন দায়ের করেন দেশটির সাবেক ক্রিকেটার ও রাজনীতিক ইমরান খান ও তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।
বিষয়টি নিষ্পত্তিতে গঠন করা হয় ৫ বিচারপতির সমন্বয়ে স্পেশাল বেঞ্চ। বৃহস্পতিবার সুপ্রিমকোর্ট এ মামলার রায় দেন। ৫৪০ পৃষ্ঠার রায়ে যৌথ তদন্ত দল গঠন করে এ বিষয়ে আরও তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। একইসঙ্গে তদন্তে ব্যর্থতার জন্য দেশটির ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ) ও ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিবিলিটি ব্যুরোর (এনএবি) সমালোচনা করেন আদালত।
আদালতের নির্দেশে যৌথ তদন্ত দলের নেতৃত্ব দেবেন এফআইএ মহাপরিচালক। তদন্তে সম্পৃক্ত থাকবে এফআইএ, এনএবি, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং সামরিক ও আন্তঃবাহিনী গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে যৌথ তদন্ত দলের সদস্যদের নাম জানাতে হবে। সেইসঙ্গে ৬০ দিনের মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। মাঝে প্রতি সপ্তাহে আদালতকে এ বিষয়ে অগ্রগতি জানাতে হবে বলেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বিচারিক বেঞ্চের সদস্য ছিলেন বিচারপতি আসিফ সায়েদ খোসা, বিচারপতি গুলজার আহমেদ, বিচারপতি আফজাল খান, বিচারপতি আজমত সায়েদ এবং বিচারপতি ইজাজুল আহসান। তাদের মধ্যে বিচারপতি আসিফ সায়েদ খোসা ও গুলজার আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর বিপক্ষে মত দেন। রায় ঘোষণার সময় সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০০ মানুষ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। জোরদার করা হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ইসলামাবাদে সুপ্রিমকোর্ট চত্বরে ১৫০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আদালতে অভিযুক্ত প্রমাণিত হলে ক্ষমতা ছাড়তে হতো নওয়াজ শরিফকে। কিন্তু ৩-২ ব্যবধানে তার পক্ষেই রায় আসে। রায় ঘোষণার পরপরই উল্লাসে মেতে ওঠেন তার সমর্থকরা। প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে মরিয়ম নওয়াজ টুইট করে উল্লাস প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এ রায়কে ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে চিহ্নিত করে উদযাপনে মেতেছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-এন। এক প্রতিক্রিয়ায় রেলওয়েমন্ত্রী সাদ রাফিকি বলেন, ‘আদালতের রায়ের ওপর সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের আস্থা আছে। তদন্তকাজে সব রকমের সহায়তা করা হবে।’ দেশটির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিষয়কমন্ত্রী আহমান ইকবাল এ রায়কে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ বলে মন্তব্য করেন।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত