যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
তিতাসের দুর্নীতির খোঁজে পেট্রোবাংলায় দুদক টিম
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন লিমিটেডের দুর্নীতি এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা জানতে পেট্রোবাংলায় অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটির উচ্চ পর্যায়ের একটি টিম পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান আবুল মোমেন মো. ফয়জুল্লাহর সঙ্গে দেখা করে এ বিষয়ে তথ্য চায়। টিমের সদস্যরা তিতাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ৫ বছরে ওঠা সব অভিযোগ ও এর তদন্ত প্রতিবেদন এক সপ্তাহের মধ্যে দুদককে দেয়ার নির্দেশ দেন।
৪ মার্চ দুদক টিম পেট্রোবাংলায় এসে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট চিত্র তুলে ধরেছিল। এর মধ্যে রয়েছে- অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দেয়া, রাইজার বাজারজাত করা, মিটার টেম্পারিং করে শিল্প-কারখানায় বিল কমানো, মালামাল না কিনেই বিল দেয়া, ওভারটাইমের নাম করে সরকারি টাকার নয়ছয় ইত্যাদি। সেই সঙ্গে এসবে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিতে বলেছিল। দেড় মাসে পেট্রোবাংলা কী ব্যবস্থা নিয়েছে, কতগুলো অবৈধ লাইন বিচ্ছিন্ন করেছে- মূলত তা জানতেই বৃহস্পতিবার ওই দফতরে যায় দুদক টিম।
কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়ার প্রমাণ পায়নি টিমটি।
দুদকের পরিচালক জায়েদ হোসেন খান টিমের নেতৃত্ব দেন। টিমের দুই সদস্য হলেন- সিনিয়র উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল জাহিদ ও সহকারী পরিচালক মনিরুজ্জামান। জানতে চাইলে জায়েদ হোসেন খান যুগান্তরকে জানান, তিতাসের বিভিন্ন দুর্নীতির ব্যাপারে রেগুলেটরি বডি হিসেবে পেট্রোবাংলা কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে তা জানতে চাওয়া হয় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের কাছে। জবাবে তিনি বলেছেন, তিনি (আবুল মোমেন মো. ফয়জুল্লাহ) পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান হিসেবে নতুন যোগ দিয়েছেন। উত্থাপিত দুর্নীতির বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।
দুদকের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহায়তায় গাজীপুরের বিভিন্ন উপজেলায় ও ঢাকার সাভারের বিভিন্ন গ্রামে কয়েক হাজার অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে গাজীপুরের প্রত্যন্ত গ্রামে অবৈধ সংযোগ দেয়া হয় সংযোগপ্রতি ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায়। এ প্রক্রিয়ায় বহু কোটি টাকা লেনদেনের সঙ্গে জড়িত তিতাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছিল দুদক টিম। সেই সঙ্গে এসব অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতেও বলেছিল তারা।
টিমের সদস্য আবদুল্লাহ আল জাহিদ যুগান্তরকে জানান, বিভিন্ন সময়ে যেসব অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল, সেগুলো আবারও চালু করা হয়েছে বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে। এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।
শিল্প-কারখানায় মিটার টেম্পারিং করে বিল কমানোর প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের দুর্নীতি হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ঠেকাতে পেট্রোবাংলার উদ্যোগ জানতে চায় দুদক টিম। অভিযোগ রয়েছে, তিতাসের বিভিন্ন অঞ্চলের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে অনেক ব্যবসায়ী তাদের শিল্প-কারখানায় অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিচ্ছে। অথচ প্রকৃত শিল্প উদ্যোক্তারা আবেদন করেও তাদের শিল্পে গ্যাস সংযোগ পাচ্ছেন না। দুদক টিমের এক সদস্য বলেন, টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে দেয়া সংযোগ বন্ধ করতে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে দুদক। সূত্র জানায়, তিতাস কীভাবে গ্যাসের রাইজার বাজারে ছাড়ছে সে প্রশ্নও ছিল পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের কাছে। গ্যাস সংযোগের রাইজার বেসরকারিভাবে আমদানির সুযোগ নেই। অথচ এখন তা খোলাবাজারেও পাওয়া যাচ্ছে। যা দিয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেয়া হচ্ছে।
পেট্রোবাংলা ও এর অধীন তিতাস গ্যাসের মালামাল না কিনেই বিল দেয়া এবং কাজ না করেই কর্মচারীদের ঢালাওভাবে ওভারটাইম দিয়ে সরকারের আর্থিক ক্ষতি করার অভিযোগও রয়েছে দুদকের কাছে। টিমের একজন কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়েও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চাওয়া হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়া, একই পদ বছরের পর বছর আঁকড়ে থাকা এবং সিন্ডিকেট করে দুর্নীতি করছেন- এমন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানতে চাওয়া হয়েছে সেটিও।
সূত্র জানায়, প্রকৃত অর্থে এসবেরও সদুত্তর মেলেনি। পরে দুদক টিমের সদস্যরা তিতাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে গত ৫ বছরে যত অভিযোগ আছে, যত গোপন প্রতিবেদন ও তদন্ত প্রতিবেদন আছে তা এক সপ্তাহের মধ্যে দুদক টিমকে সরবরাহ করার জন্য পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যানকে বলেন। দুদক টিমের এক সদস্য জানান, বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য নিয়ে তিতাসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের একটি তালিকাও তৈরির কাজ শুরু করেছেন তারা।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত