মিজান চৌধুরী    |    
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ | অাপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০১:২৪:৫৫ প্রিন্ট
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ৫১ সুপারিশ
বড় ঋণখেলাপিদের মনিটরিংয়ের আওতায় আনা ও বকেয়া আদায়ে ডেট রিকভারি ট্রাইব্যুনাল গঠনে গুরুত্বারোপ

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ৫১ দফা সুপারিশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এসব ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রধান এবং বিশেষজ্ঞদের মতের ভিত্তিতেই প্রণয়ন করা হয়েছে এসব সুপারিশমালা। এতে শত কোটি টাকার ওপরে ঋণ খেলাপিদের পৃথক মনিটরিংয়ের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি বড় অংকের বকেয়া ঋণ আদায়ে ডেট রিকভারি ট্রাইব্যুনাল গঠন, ঋণ অনুমোদনের পূর্বে ক্রেডিট রেটিং করা, ঋণের অনুকূলে জমির মূল্যায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নীতিমালা তৈরি, সিএসবি গাইড লাইন ও ফ্যাক্টরিং বিষয়ে আইন প্রণয়ন এবং পুরোপুরি চলতি মূলধনসহ ঋণ অনুমোদনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ে এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ব্যাংকিং খাতের সংকট মোকাবেলায় একটি সুপারিশমালা তৈরি করা হচ্ছে। চূড়ান্ত করার আগে বিশেষজ্ঞদের আরও মত নেয়া হবে। পরে পর্যায়ক্রমে এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে ব্যাংকগুলোকে বলা হবে। তিনি বলেন, সব সুপারিশ এক সঙ্গে বাস্তবায়ন করা যাবে না। এক্ষেত্রে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে তা বাস্তবায়ন করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সুপারিশ থাকতে পারে। তবে এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে সদিচ্ছা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার থাকতে হবে। অন্যথায় সুপারিশ কোনো কাজেই আসবে না।

সূত্রমতে, রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের অবস্থা পর্যালাচনায় ২৬ আগস্ট দিনব্যাপী একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মশালায় অংশ গ্রহণকারীদের সুপারিশের ভিত্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ একটি সুপারিশমালা তৈরি করে। অর্থমন্ত্রীর অনুমোদনের পর এসব সুপারিশ বিভিন্ন মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো হবে ।

জানা গেছে, ব্যাংকিং খাতের ৮টি কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে সুপারিশগুলো করা হয়। এগুলো হচ্ছে-ব্যাংক ঋণ ব্যবস্থাপনা, লোকবল নিয়োগ, ব্যাংকারদের পদোন্নতি, পদায়ন ও প্রশিক্ষণ, সার্বিক এবং ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও আইনগত দিক। সুপারিশমালায় ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতি প্রতিরোধ, স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। বড় ঋণ আদায়ে ডেট রিকভারী ট্রাইবুনাল গঠন, ব্যাংক দেউলিয়া আইন যুগোপযোগী করা, খেলাপিদের তালিকা পত্রিকায় প্রকাশ, সাম্যভাব সক্ষমতা যাচাই করে ঋণ ইস্যু, রিট মামলা শুনানির জন্য পৃথক বেঞ্চ গঠনের কথাও বলা হয়।

এ ছাড়া ব্যাংকারদের পদোন্নতি ও পদায়নের জন্য বেশ কিছু সুপারিশ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, এসিআরের অপব্যবহার বন্ধে বস্তুনিষ্ঠভাবে নম্বর দেয়ার ব্যবস্থা, পদোন্নতির ক্ষেত্রে বোর্ডের হাতে থাকা নম্বরের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীঢ আজীবন সদর দফতরে থাকলে নম্বর কর্তন করা, হাওর-বাওর ও দ্বীপাঞ্চলে চাকরির জন্য আলাদা নম্বর দেয়ার ব্যবস্থা চালু এবং কাজের পারফরমেন্সের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে পদোন্নতি নীতিমালা প্রণয়ন করা। অন্যান্য উল্লেখ্যযোগ্য সুপারিশ হচ্ছে ঋণ গ্রহীতার রীটের ক্ষেত্রে পাওনার অগ্রীম ৫০ শতাংশ জমা প্রদান, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কেন্দ্রীয় ভাবে কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের পদক্ষেপ নেয়া ।

জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণে হাবুডুবু খাচ্ছে। বর্তমানে ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৩২ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ২৭ শতাংশ। আগের বছর যা ছিল ২০ শতাংশের নিচে। অর্থাৎ প্রতি বছরই খেলাপি ঋণের হার বাড়ছে। এর মধ্যে বর্তমানেসোনালী ব্যাংকেই খেলাপি ঋণ ১০ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। এ ছাড়াও রূপালী ব্যাংকে ৪ হাজার ৩৫০ কোটি, বেসিক ব্যাংকে ৭ হাজার ২৩০ কোটি ও বিডিবিএলের ৭১৬ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে। এ ছাড়া অবলোপন করা হয়েছে আরও ২০ হাজার কোটি টাকা। আর এসব খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি বাড়ছে। বর্তমানে ৬ ব্যাংকের প্রভিশন (নিরাপত্তা সঞ্চিতি) ঘাটতি ৭ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে চলতি বছরের জুন শেষে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩১৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া সোনালী ব্যাংকের ঘাটতি ২ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা, বেসিক ব্যাংকের ঘাটতি ২ হাজার ২১০ কোটি, রূপালী ব্যাংকের ৭৪১ কোটি ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ৭১০ কোটি টাকা। আর এসব ঘাটতি মেটাতে চলতি বছরের শুরুতে সরকারের কাছে সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা চেয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো। সংকট মেটাতে সরকার এসব ব্যাংকে প্রতি বছরই মূলধনের জোগান দিয়ে চলেছে।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by