যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের দেখতে যাওয়ায় আমরা খুশি : মির্জা ফখরুল
সংসদে নিন্দা প্রস্তাব না আনায় নিন্দা * রোহিঙ্গা প্রশ্নে সরকার এখনও দ্বিধা-দ্বন্দ্বে * সীমান্তে মাইন পোঁতা নিয়ে সরকার নিশ্চুপ * কাদের বিরুদ্ধে সীমান্তে যৌথ অভিযানের প্রস্তাব?
মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দেরিতে হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেখতে যাওয়ায় খুশি বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সেখানে প্রধানমন্ত্রী কিছু ত্রাণও বিতরণ করেছেন। এসব খবর শুনে আমরা অন্তত এটুকু খুশি হলাম যে, এতদিনে তার বোধোদয় হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে মঙ্গলবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।
জাতীয়তাবাদী যুবদলের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সংগঠনের সভাপতি সাইফুল আলম নীরবের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, বরকতউল্লাহ বুলু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আবদুস সালাম আজাদ, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সিনিয়র সহসভাপতি মোরতাজুল করীম বদরু, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, মহানগর নেতা এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, শফিকুল ইসলাম মিল্টন, গোলাম মাওলা শাহিন প্রমুখ।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তুরস্কের ফার্স্ট লেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের দেখে গেছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার টিমও আসছে। অর্থাৎ সারা বিশ্ব যখন রোহিঙ্গাদের নিয়ে সোচ্চার, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘের মহাসচিব যখন নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি দিলেন, তখন প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের দেখতে উখিয়ায় গেলেন। বিরাট বহর নিয়ে তিনি উখিয়ায় গেছেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী কিছু ত্রাণও বিতরণ করেছেন। যা হোক, এতদিনে তার বোধোদয় হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে চাপ দেয়ার প্রস্তাব নিয়ে জাতীয় সংসদে সোমবার আলোচনা হয়েছে। কিন্তু মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে কোনো নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি। তিনি বলেন, যারা নিন্দা প্রস্তাব নিতে সাহস করেননি, এ সভা থেকে তাদের নিন্দা জানাই। রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এর আগে আপনারা (শাসক দলের নেতারা) বলেছেন, সেখান থেকে কারা আসছে তা দেখতে হবে, সন্ত্রাসী আসছে কিনা দেখতে হবে? তিনি বলেন, এখনও সরকারের লোকজন দ্বিধা-দ্বন্দ্বেই আছেন।
মিয়ানমার সীমান্তে মাইন পোঁতা ও বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনায় সরকারের নীরব ভূমিকার সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব ফখরুল বলেন, মিয়ানমার যখন তিন লাখ শরণার্থীকে আমাদের দেশে ঠেলে দিয়েছে, তখন তো আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব আক্রান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, মিয়ানমারের হেলিকপ্টারগুলো সীমান্তের কাছ দিয়ে ঘুরলেও এবং সীমান্তে সেদেশের সেনাবাহিনী মাইন বসালেও আপনারা একটা কথাও বলছেন না। সীমান্তে দুই দেশের যৌথ অভিযানের প্রস্তাবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে সরকার রাজনীতি করতে চায়। এ কারণে সরকার এ প্রস্তাব দিয়েছে। তিনি বলেন, কাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে? যাদের হত্যা, ধর্ষণ, অত্যাচার, নির্যাতন করা হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে? যাদের গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে? তারা কী বলতে চান? তিনি বলেন, পুরোপুরি নতজানু হলে, নিজস্ব স্বকীয়তা না থাকলে এবং অন্যের ওপর নির্ভর করে চললে এ ধরনের সিদ্ধান্ত হয়। মিয়ানমারের গণহত্যাকে নিন্দা জানাই, ধিক্কার জানাই। মিয়ানমারকে অবিলম্বে এ গণহত্যা বন্ধ করতে হবে। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সুচির নেতৃত্বাধীন মিয়ানমার সরকারের এ ধরনের গণহত্যার ঘটনা লজ্জার বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। দেশে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর সরকারের দমনপীড়নের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানান মির্জা ফখরুল।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by