•       রোহিঙ্গা শরণার্থী সব ক্যাম্পে টেলিটকের বুথ থাকবে, সেখান থেকে নাম মাত্র মূল্যে তাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন: টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম
যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
এফবিআই ও সিবিআই স্টাইলে পরিচালিত হবে দুদকের কার্যক্রম
সরকারি প্রতিষ্ঠানে গোপনে নজরদারি শুরু * অর্থ পাচারকারীর বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ * তৈরি হচ্ছে নিজস্ব হাজতখানা
দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান, তদন্ত ও গ্রেফতার প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) ও ভারতের সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) আদলে (স্টাইলে) করতে চায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান আরও শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার থেকে দুদকে যুক্ত হয়েছে আর্মড ইউনিট। দুর্নীতি মামলার আসামিকে গ্রেফতার ও আদালতে হাজির, তল্লাশি ও আলামত জব্দ করা এবং দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে নিয়োজিত টিমের সদস্যদের সার্বিক নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব ২০ সদস্যের পুলিশের এ ইউনিটের। দুদকের নিজস্ব হাজতখানা নির্মাণকাজও প্রায় শেষ হয়েছে। এদিকে, মঙ্গলবার ‘দুদকের এক বছরের কর্মপরিকল্পনা’ নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দুদকের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে আমরা চেষ্টা করছি একটু ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে। এফবিআই যেমন অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করে, আমরাও সেটা অনুসরণ করছি। তিনি জানান, এরই মধ্যে দুদকের বিশেষ টিম এ ধরনের কার্যক্রম শুরু করেছে। তিনি বলেন, যেসব মামলা হবে, সেগুলোর অপরাধীদের সাজা শতভাগ নিশ্চিত করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। দুদকের মহাপরিচালক মুনীর চৌধুরী জানান, দুর্নীতি করে কেউ যাতে পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য দুদকের দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। দুর্নীতিবাজদের কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে। তিনি বলেন, নিজস্ব বাহিনীর মতোই এফবিআই ও সিবিআই স্টাইলে দুদকের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, দুদকের নিজস্ব হাজতখানা নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হয়েছে। নারী আসামি ও পুরুষ আসামিদের জন্য আলাদা হাজতখানা হবে। হাজতখানা পরিচালনার নীতিমালার খসড়াও করা হয়েছে। কমিশনের অনুমোদন পাওয়া গেলেই নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে।
দুদকের অভিযোগ কেন্দ্র ১০৬-এ আসা অভিযোগের সূত্র ধরে দুদকের বিশেষ টিম বৃহস্পতিবার মিরপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে অভিযান চালায়। একইভাবে সোমবার অডিটর জেনারেলের কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। জানা গেছে, সরকারি দফতরের দুর্নীতি ধরার ক্ষেত্রে দুদকের টিম এখন থেকে যেকোনো দফতরে অভিযান পরিচালনা করবে। তবে এ ধরনের অভিযানের খবর আগেভাগে জানানো হবে না। অভিযান সফল হলে সেটা জানানো হবে। বিশেষ করে যেসব দফতরে বেশি ঘুষ লেনদেন হয়, সেসব দফতর ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে নোটিশ ছাড়াই অভিযান চালাবে দুদক। মহাপরিচালক মুনীর চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে এসব অভিযান পরিচালিত হবে।
দুদকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, নিত্যনতুন কৌশলে দুর্নীতিবাজদের ধরার জন্য দুদক কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ করা হচ্ছে। তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে। মানিলন্ডারিং ঠেকাতে কর্মকর্তাদের নিয়ে বিশেষ সেল গঠন করা হচ্ছে। দেশের বাইরে অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য মাঠপর্যায়ে দুদকের পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীর তত্ত্বাবধানে একটি টিম কাজ শুরু করছে। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচারে ঢাকার এক শ্রেণীর ‘ব্রোকার’ কাজ করছে বলে দুদকের কাছে অভিযোগ এসেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে গোপনে কাজ করছে দুদকের টিম। ওই টিমের একজন কর্মকর্তা বলেন, এফবিআই স্টাইলে কিছু তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সময় নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এভাবে কাজ করলে দুর্নীতিবাজ ও অর্থ পাচারকারীকে শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। দুদক কার্যালয়ে মঙ্গলবার দুদক ও জার্মানভিত্তিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার (জিআইজেড) যৌথ উদ্যোগে কমিশনের ‘এক বছর মেয়াদি কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা ২০১৭’ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবাইকে নিরলসভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো কর্মপরিকল্পনাই অপরিবর্তনীয় নয়। অপরাধীদের কৌশল পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কমিশনের কৌশলগত কর্মপরিকল্পনাও পরিবর্তন হবে। কাজের গতি, ধরন ও পদক্ষেপ সব সময়ই অপরাধীদের চেয়ে উচ্চতর হতে হবে। সভায় দুদক কমিশনার ড. নাসির উদ্দীন আহমেদ বলেন, কমিশন নির্দিষ্ট টাইম ফ্রেমের মধ্যে সব কার্যক্রম শেষ করতে চায়। দুদক সচিব ড. মো. শামসুল আরেফিন জানান, এ পর্যন্ত ৬৪টি গণশুনানি করেছে কমিশন। কমিশনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ও অর্থায়নে ইতিমধ্যে ৬৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সততা স্টোর স্থাপন করা হয়েছে। কমিশনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে জিআইজেডের কনসালটেন্ট জেরি ওজ বর্ন বলেন, দুদকের নিজস্ব সশস্ত্র ইউনিট গঠনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by