শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, চট্টগ্রাম ব্যুরো    |    
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
আ’লীগে অপ্রতিদ্বন্দ্বী সামশুল আসন পুনরুদ্ধার চায় বিএনপি
মনোনয়ন লড়াই জাতীয় পার্টিতে

পটিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের সামশুল হক চৌধুরী হলেও এটি মূলত বিএনপির দখলে ছিল। ২০০৮ সালে ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১২ আসনে প্রথম জয় পায় আওয়ামী লীগ। দুইবারের সংসদ সদস্য বিএনপির গাজী শাহজাহান জুয়েলকে হারিয়ে এ আসনে এমপি হন সামশুল। ২০১৪ সালেও তিনি সংসদ সদস্য হন। আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনেও তিনি মনোনয়ন চাইবেন। স্থানীয় নেতাকর্মীরা সামশুল হককে অপ্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছেন। যদিও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন বিজিএমইএ’র সহসভাপতি ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ নাছির এবং কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউল আলম। অন্যদিকে বিএনপি ও জাতীয় পার্টিতে একাধিক শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছেন। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি (বর্তমানে অব্যাহতি পাওয়া) গাজী শাহজাহান জুয়েল যেমন মনোনয়ন চাইবেন তেমনি তার প্রতিদ্বন্দ্বী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহসভাপতি এনামুল হক এনাম মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন। আসলে বিএনপি তাদের হারানো আসনটি পুনরুদ্ধার চায়। তবে জাতীয় পার্টি আসনটিকে প্রেস্টিজ হিসেবে দেখছে। ১৯৮৮ সালে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য হন জাতীয় পার্টির শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা সিরাজুল ইসলাম। পটিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শামসুল আলম মাস্টার এর আগে দুইবার নির্বাচন করেছিলেন এ আসনে। দক্ষিণ জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরচ্ছপা সরকারও জাতীয় পার্টির জন্মলগ্ন থেকে কাজ করছেন পটিয়ায়। তারা উভয়ই মনে করেন, পটিয়ায় জাতীয় পার্টির জনসমর্থন রয়েছে। জোটগত নির্বাচন হলেও এ আসনটি দাবি করবে জাতীয় পার্টি। জেলা ছাত্র সমাজের সভাপতি এনএম জসিম উদ্দিনও মনোনয়ন চাইছেন।

নির্বাচনী ভাবনা নিয়ে কথা হয় সামশুল হকের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘গত ৯ বছরে পটিয়ায় হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছি। ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়াও প্রায় ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প চলছে। পটিয়া কালার পোল সেতু, কৈগ্রাম সেতু ও রাজঘাটা সেতুর কাজ সরকারের চলতি মেয়াদেই শেষ হবে। এছাড়া সাড়ে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ পটিয়া বাইপাস সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ হলে শহরে যানজট কমবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপজেলার হাইদগাঁওয়ে ৫০ একর জায়গার ওপর ১০০ কোটি টাকায় নির্মিত হচ্ছে হর্টিকালচার। পাশেই হচ্ছে শেখ রাসেল স্টেডিয়াম।

মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর থেকে পটিয়া আসনটি হাতছাড়া হয়ে যায়। ’৯১ সাল থেকে তিন মেয়াদে এ আসনটি ছিল বিএনপির। অতীতের সব সরকার মিলে যে কাজ করেছে পটিয়ায়, গত ৯ বছরে তার চেয়ে শতগুণ বেশি কাজ হয়েছে। দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিইনি। দল অবশ্যই ভোটার ও জনপ্রিয়তা যাচাই করেই আগামীতে প্রার্থী বাছাই করবে। জাতির পিতার কন্যা ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে ২০০৮ সালে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। আমিই প্রথম আসনটি ছিনিয়ে আনি। যেখানে যাই, সেখানেই মানুষের ঢল নামে।’

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাছির যুগান্তরকে বলেন, ‘পটিয়ায় উন্নয়ন হচ্ছে সত্য, তবে দলের নেতাকর্মীরা নিপীড়িত-নির্যাতিত, তাদের মূল্যায়ন হচ্ছে না। তৃণমূলে যারা দলকে টিকিয়ে রাখছেন তাদের মূল্যায়ন না হওয়াটা কষ্টের। তাছাড়া পরিবর্তনের একটি ধারা তৈরি হয়েছে। এ আসন থেকে আমি আওয়ামী লীগের একজন প্রার্থী। মনোনয়ন পেলে অবশ্যই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে পারব।’

এ আসনে দুইবার সংসদ সদস্য হন বিএনপির গাজী শাহজাহান। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী প্রার্থী প্রয়াত এসএম ইউসুফকে হারিয়ে এ সংসদ সদস্য হন বিএনপির শাহনেওয়াজ চৌধুরী মন্টু। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের মোছলেম উদ্দিন আহমেদকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গাজী শাহজাহান। দ্বিতীয় মেয়াদে নানা কারণে তার জনপ্রিয়তায় ধস নামে। ২০০৮ সালে তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন আওয়ামী লীগের সামশুল হক চৌধুরীর কাছে। আগামী নির্বাচনেও তিনি মনোনয়ন চাইবেন। জানতে চাইলে গাজী শাহজাহান জুয়েল যুগান্তরকে বলেন, ‘পটিয়ায় উন্নয়ন যা হয়েছে বিএনপির আমলেই। বড় সড়কের মধ্যে পটিয়া-বৈলতলি-আনোয়ারা সড়ক, পটিয়া-কেলিশহর-রতনপুর সড়ক, পটিয়া-বোয়ালখালী সড়ক, পাঁচুরিয়া-ধলঘাট সড়ক, মোজাফফরবাদ সড়ক নির্মাণ হয়েছে আমার আমলেই। পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও আমার আমলেই। আমার উন্নয়নের কথা পটিয়ার মানুষ ভুলবে না। আগামীতে ইনশাআল্লাহ দল আমাকে আবারও মনোনয়ন দেবে। পটিয়ার জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে- এমন বিশ্বাস আমার আছে।’

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহসভাপতি এনামুল হক এনামও একাদশ সংসদ নির্বাচনে শাহজাহান জুয়েলের প্রতিদ্বন্দ্বী। ২০০৮ সালে মনোনয়ন না চাইলেও দলে সক্রিয় ছিলেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর শাহজাহান জুয়েল নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। এ সুযোগ কাজে লাগান এনাম। জানতে চাইলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘দলের দুর্দিনে মাঠে থেকে সংগঠনকে চাঙ্গা রেখেছি। প্রহসনের নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের গুলি খেয়েছি। জেল-জুলুম, অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করার বিষয়টি দলের শীর্ষনেতারা জানেন। ম্যাডামেরও আস্থাভাজন হয়েছি। পটিয়ার সাধারণ মানুষ আমার সঙ্গে আছে। হারানো আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চাই। মনোনয়ন পেলে দলের লক্ষ্য পূরণ হবে বলে আশা করছি।’

মনোনয়ন প্রত্যাশী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শামসুল আলম মাস্টার যুগান্তরকে বলেন, ‘১৯৯৬ সালে নির্বাচন করে ৪৫ হাজার ভোট পেয়েছিলাম। এবারও মনোনয়ন চাইব। পার্টি চেয়ারম্যানের কাছে দুইজনের নাম পাঠানো হয়েছে। একজন সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আরেকজন আমি।’ নুরচ্ছপা সরকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমপি নির্বাচন করার মতো যোগ্যতা তার নেই। তবে মনোয়ন সবাই চাইতে পারেন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জাতীয় পর্টির সাধারণ সম্পাদক নুরচ্ছপা সরকার যুগান্তরকে বলেন, মনোনয়ন দেয়ার ক্ষমতা পার্টি চেয়ারম্যানের। স্যারের কাছে মনোনয়ন চাইব। অতীতে কারা কী করেছেন, তা দেখে-শুনেই মনোনয়ন দেয়া হবে। আমি এর আগে নির্বাচন করিনি। জন্মলগ্ন থেকে দলে আছি। মনোনয়ন দিলে অবশ্যই ভোটে নির্বাচিত হব। ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ১৭ ইউনিয়নে কাজ করছি। মনোনয়নের ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘জেলার সভাপতি সামশুল আলম মাস্টার দুইবার নির্বাচন করেছেন। একবার জেপি (মঞ্জু) থেকে। একবারও জয় পাননি। সিরাজুল ইসলাম ১৯৮৮ সালে সংসদ সদস্য হন। কিন্তু ২০১৪ সালে পার্টি চেয়ারম্যানের নির্দেশ থাকার পরও মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে এ আসনে জাতীয় পার্টি আমাকেই মনোনয়ন দেবে।’


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত