উবায়দুল্লাহ বাদল    |    
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ | অাপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০১:১৭:৫২ প্রিন্ট
চাল নিয়ে অস্বস্তি!
তিন লাখ টন চাল আমদানির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে আসছে মিয়ানমার প্রতিনিধি দল * ভারত চাল রফতানি করবে না, এমন গুজবে চালের দাম বৃদ্ধি * চলতি মাসেই চালু হচ্ছে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি

চাল নিয়ে বেশ অস্বস্তিতে আছেন সরকারের সংশ্লিষ্টরা। দামের ঊর্ধ্বগতি থামাতে নানা উদ্যোগ নিয়েও আসছে না তেমন কোনো কার্যকর ফল। আমদানি শুল্ক ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা, বিদেশ থেকে জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে আমদানি করার পরও নিয়ন্ত্রণে আসছে না চালের বাজার। এমনকি বেসরকারি পর্যায়ে আমদানির জন্য বাকিতে ঋণপত্র খোলার সুযোগ দিয়েও কোনো সুফল মিলছে না। বরং টাকা দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না কাক্সিক্ষতমানের চাল। যার কারণে শর্ত লঙ্ঘন করে আমদানিকৃত নিন্মমানের ৩২ হাজার টন চাল ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে খাদ্য অধিদফতর।

শুধু তাই নয়, রোহিঙ্গা সংকটের মধ্যে মিয়ানমার থেকে ৩ লাখ টন চাল আনার বিষয়টি চূড়ান্ত করায় নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। জিটুজি পদ্ধতিতে চালের দরদাম ঠিক করতে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর মিয়ানমার থেকে ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসছে। তারা পরদিন খাদ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করবে। এ ছাড়া নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও পাটের বদলে প্লাস্টিকের বস্তায় চাল আমদানির অনুমতি দিয়েও নানা সমালোচনার মুখে পড়েছে সরকার। যদিও বিদ্যমান সংকট বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে রফতানি না করা সংক্রান্ত ভারতের মিনিস্ট্রি অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের স্বাক্ষর বিহীন একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে চালের দাম কেজিতে ২-৩ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও চলতি মাসের ২০ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে হতদরিদ্রদের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি (১০ টাকা কেজি দরের চাল)।

খাদ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলাপ করে পাওয়া গেছে উল্লিখিত সব তথ্য।

জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. কামরুল ইসলাম নিজ দফতরে যুগান্তরকে বলেন, ‘আগামী ২০ সেপ্টেম্বর সারা দেশে হতদরিদ্রদের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু হচ্ছে। ঈদের ছুটি, বর্ষণজনিত কারণে রাস্তায় যানজট ও সব জেলায় খাদ্য পৌঁছানোসহ নানা কারণে সেপ্টেম্বরের শুরুতে কর্মসূচি চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে আগামী ২০ তারিখে অবশ্যই সারা দেশে এ কর্মসূচি চালু হচ্ছে।’ ভারতের চাল রফতানির বিষয়টি উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সত্য হলে তা আমাদের জন্য ‘এলার্মিং’।

জানা গেছে, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মঙ্গলবারের তথ্য অনুযায়ী সরকারি গুদামে মজুদের পরিমাণ ৪ লাখ ৬০ হাজার ৭৭৭ টন। এর মধ্যে চাল ৩ লাখ ৩৭ হাজার ১৩৪ টন, গম ১ লাখ ২১ হাজার ৮৭৮ টন এবং ধান রয়েছে দুই হাজার ৭১৬ টন। গত বছরের এই দিনে মজুদ ছিল ১০ লাখ ৭৮ হাজার ৬০২ টন। এর মধ্যে চালই ছিল ৭ লাখ ২১ হাজার ৭০৯ টন। হাওরাঞ্চলে অকাল বন্যা, ব্লাস্টরোগের কারণে সারা দেশে বোরোর ফলন কম হওয়া এবং ১০ টাকা কেজি দরের সাড়ে ৭ লাখ টন চাল বিতরণের ফলে এবার চালের মজুদ তলানিতে ঠেকে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চালের মজুদ দেড় লাখ টনে নেমে আসে। আর এর সুযোগ নেয় অসাধু ব্যবসায়ীরা। তাদের কারসাজিতে মোটা চালের দাম প্রতি কেজি ৫০ টাকায় ওঠে। দাম বেশি হওয়ায় বোরো সংগ্রহ কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছেনি। ৮ লাখ টন কেনার টার্গেট থাকলেও মিলারদের সঙ্গে সরকারের চুক্তি হয়েছে প্রায় ৩ লাখ টনের।

চালের এই ঘাটতি পূরণ ও দাম সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর অংশ হিসেবে চলতি অর্থবছর ১৫ লাখ টন চাল আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এ জন্য প্রথমেই বেছে নেয়া হয় ভিয়েতনামকে। জিটুজি পদ্ধতিতে সেখান থেকে আড়াই লাখ টন চাল আমদানি করা হচ্ছে। পাশাপাশি কম্বোডিয়া থেকে আনা হচ্ছে আড়াই লাখ টন চাল। মিয়ানমার থেকে ৩ লাখ টন চাল আনার উদ্যোগ রয়েছে। এ ছাড়া ৮টি আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে চার লাখ টন চালের মধ্যে আড়াই লাখ টন আনার চুক্তি হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েক দফায় চাল এসেছে। এর মধ্যে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে নিন্মমানের চাল আনায় ৩২ হাজার টন চাল গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে খাদ্য অধিদফতর। দরপত্রের মাধ্যমে কাজ পাওয়া আন্তর্জাতিক চাল ব্যবসায়ী ওরাম ইন্টারন্যাশনাল এসব চাল বাংলাদেশে নিয়ে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, আন্তর্জাতিক দরপত্রে বিভিন্ন শর্ত থাকে। দরপত্রে ৩ শতাংশ মরা, বিনষ্ট ও বিবর্ণ চাল নেয়া হবে বলা হয়েছিল। কিন্তু দরদাতা প্রতিষ্ঠান ১০ শতাংশ মরা, বিনষ্ট ও বিবর্ণ চাল নিয়ে এসেছে।

জানতে চাইলে খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বদরুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, বির্নির্দেশ (শর্ত)-বহির্ভূত কোনো চালই গ্রহণ করা হবে না। সে যত বড় প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানই হোক।

মিয়ানমার প্রতিনিধি দল : রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশ উত্তপ্ত। মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে দেশ সোচ্চার হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে আগামী শনিবার মিয়ানমার থেকে ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে আসছে। প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশের খাদ্য সচিব মো. কায়কোবাদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবে। সেখানে মিয়ানমার থেকে তিন লাখ টন চাল আনার বিষয়ে আলোচনা ও দরদাম ঠিক হবে। এর আগে গত সপ্তাহে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মিয়ানমার সফর করে। রোহিঙ্গা সংকটের মধ্যে খাদ্যমন্ত্রীর মিয়ানমার সফর নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা করা হয়। এমনকি জাতীয় সংসদে তোপের মুখে পড়েন খাদ্যমন্ত্রী। গত রোববার জাতীয় সংসদে নাজমুল হক প্রধানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়ে, তার অনুমতি নিয়েই আমি মিয়ানমার গিয়েছি। একদিকে বাণিজ্য চলবে। অন্যদিকে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গা সমস্যারও সমাধান হবে- আমরা এ নীতিতে বিশ্বাসী।’ তারপরও কমেনি সমালোচনার ঝড়। এ অবস্থায় আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। একদিকে মজুদ বাড়ানো অন্যদিকে রোহিঙ্গা সংকট সব মিলিয়ে অনেকটাই অস্বস্তিতে রয়েছে সরকার।

পলিব্যাগে চাল আমদানি : চাল আমদানি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে চালে পাটের ব্যাগ ব্যবহারের শর্ত শিথিল করেছে সরকার। ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চালের জন্য পলি বা প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে চালসহ ১৩টি পণ্যে পাটের বস্তা ব্যবহার করার বিষয়ে বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ কারণে চাল আমদানি দেরি হতে পারে উল্লেখ করে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ওই শর্ত সাময়িকভাবে শিথিল করে বুধবার এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করে পাট মন্ত্রণালয়।

চালু হচ্ছে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি : আগামী বুধবার ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে সরকার। খাদ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, মজুদ সন্তোষজনক না হওয়ায় গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু করা সম্ভব হয়নি। মজুদ বাড়ার পর ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে এ কর্মসূচি চালু করার কথা ছিল। বর্তমানে সরকারের গুদামে ৩ লাখ ৩৮ হাজার টন চাল থাকলেও তা দেশের সব এলাকায় নেই। এসব চালের বেশিরভাগই চট্টগ্রাম ও খুলনাকেন্দ্রিক খাদ্যগুদামগুলোতে রয়েছে। কারণ ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশ থেকে চাল আমদানি করে তা চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে খালাস করা হয়েছে। সেসব চাল বর্তমানে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরকেন্দ্রিক গুদামগুলোতে রয়েছে। সেসব চাল দ্রুত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠিয়ে আগামী বুধবার থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি শুরু করা হবে। প্রসঙ্গত, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর দেশের ৫০ লাখ পরিবারকে ১০ টাকা কেজিতে চাল বিতরণ করবে সরকার। মার্চ, এপ্রিল এবং সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর- এই পাঁচ মাস ১০ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি করে চাল কিনতে পারবেন। নারী, বিধবা ও প্রতিবন্ধী নারীপ্রধান পরিবারকেই প্রাধান্য দেয়ার কথা বলা হয়েছে কর্মসূচির নীতিমালায়।

ভারত চাল রফতানি করবে না, খবরে চালের দাম বৃদ্ধি : বেনাপোল প্রতিনিধি জানান, ভারতের মিনিস্ট্রি অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের স্বাক্ষর বিহীন একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে চালের দাম কেজিপ্রতি ২ড়-৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১০ সেপ্টেম্বরের ওই চিঠিতে বলা হয়, ১৫ সেপ্টেম্বরের পর ভারত কোনো দেশে চাল রফতানি করবে না। তবে চিঠির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের একান্ত সচিব মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের কাছে চিঠিটি ‘ভুয়া’ বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের কর্মাশিয়াল কাউন্সিলর শিশির কোটারী। বুধবার চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে হেলাল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘শিশির কোটারী নিশ্চিত করেছেন চিঠির সংবাদটি সঠিক নয়।’

বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার শওকাত হোসেন যুগান্তর প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, ১৫ সেপ্টেম্বরের পর বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে কোনো চাল আমদানি হবে না, এটা এক ধরনের অপপ্রচার। তাছাড়া মোবাইল ফোনে ধারণ করা যে চিঠি বন্দর এলাকায় প্রচার করা হচ্ছে সে চিঠিতে কোনো স্বাক্ষর নেই। বাজারে চালের মূল্য অস্থিতিশীল করতে একটি মহল বন্দর এলাকায় অপপ্রচার চালাচ্ছে।

জানা গেছে, মোবাইল ফোনে ছবি ধারণ করা চিঠিটি ‘শেয়ার ইট’ অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে ব্যবসায়ীদের মাঝে। চিঠির সূত্র ধরে অসাধু চাল ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো গত ৩ দিনে চালের মূল্য কেজিপ্রতি ২-৩ টাকা করে বাড়িয়ে দিয়েছে। চিঠির গুজবে বাজারে চালের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে ওই চিঠির বিষয়টি বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার হওয়ায় বাজারে চালের দাম আরও একধাপ বেড়েছে।

অনেক আমদানিকারক বন্দর থেকে চাল খালাসের পর তা তাদের নিজস্ব গুদামে স্টক করতে শুরু করেছে। বেনাপোল এলাকার এক ব্যবসায়ী আ. সামাদ জানান, গত ১১ সেপ্টেম্বর স্বর্ণা চাল ৪২ টাকা ও মিনিকেট চাল ৪৯ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর স্বর্ণা চাল ৪৩ টাকা ও মিনিকেট চাল ৫১ টাকা দরে বিক্রি হয় এবং ১৩ সেপ্টেম্বর স্বর্ণা চাল ৪৪.৫০ টাকা ও মিনিকেট চাল ৫২.৫০ টাকা মূল্যে বিক্রি হয়।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by