কক্সবাজার প্রতিনিধি    |    
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
বিএনপির ত্রাণ আটকে দিল পুলিশ
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য নিয়ে যাওয়া বিএনপির ত্রাণভর্তি ২২টি ট্রাক আটকে দিয়েছে পুলিশ। ত্রাণ দলের নেতা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে হোটেলে যেতেও বাধা দেয়া হয়। জেলা প্রশাসন ও পুলিশের বাধার মুখে ত্রাণবহর নিয়ে শরণার্থীদের ক্যাম্পে যেতে না পেরে বিএনপির প্রতিনিধি দলটি বিকালে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ত্রাণ দলের প্রধান হিসেবে মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপি এখানে রাজনীতি করতে আসেনি, ত্রাণ দিতে এসেছিল। সেই ত্রাণ বিতরণে বাধা দিয়ে সরকার অপরাধ করেছে। ত্রাণ বিতরণে বাধা দিয়ে ‘জঘন্য উদাহরণ সৃষ্টি করল’ দাবি করে তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে জীবন নিয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পগুলোতে মানবিক বিপর্যয় চলছে। সেখানে যারা আছেন তাদের গোসল নেই, পানি নেই, খাদ্য নেই। ক্যাম্পে গেলে আমরা সবকিছু জেনে যাব, দেশবাসী জেনে যাবে সে কারণে আমাদের সেখানে যেতে দেয়া হয়নি। মির্জা আব্বাস জেলা প্রশাসন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিএনপির ত্রাণগুলো সরকারের কাছে (জেলা প্রশাসন) জমা দিতে বলছে। তারাই সেটা বিতরণ করবে! কিন্তু আমরা আমাদের ত্রাণ কখনই সরকারের কাছে জমা দেব না। বিএনপি তো ডিসি ও আওয়ামী লীগের কথামতো চলবে না। আমাদের ত্রাণ আমরাই দেব। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার ইচ্ছা করলে আমাদের ত্রাণ সিজ করতে পারে!
তিনি পুলিশি বাধার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ত্রাণ দিতে যাওয়ার সময় দেখলাম, ট্রাক আর চলে না! পুলিশ চালকের কাছ থেকে গাড়ির চাবি কেড়ে নিয়ে চালকদের সরিয়ে দেয়। পরে চালকদের খুঁজে আনলে চাবি ফিরিয়ে দেয়া হলেও গাড়িবহরের সামনে পুলিশের একটি পিকআপ দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়।
মির্জা আব্বাস আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, চিকিৎসার জন্য লন্ডনে থাকা আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া ২৮ আগস্ট নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের সীমান্ত খুলে দেয়ার আহ্বান জানান। অথচ সরকার তখন সীমান্তে বর্ডার গার্ড মোতায়েন করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ডুকতে বাধা দিয়েছে।
তার মতে, ‘বিএনপি রোহিঙ্গাদের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার পর সরকারপ্রধান রোহিঙ্গাদের কাছে আসতে বাধ্য হয়েছেন।’ বিএনপির ত্রাণ দলটি ৯ হাজার রোহিঙ্গা পরিবারের জন্য ত্রাণসামগ্রী নিয়ে কক্সবাজার এসেছিল। এগুলোর মধ্যে ৯ হাজার পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী ও সাড়ে ৩ হাজার পরিবারকে প্লাস্টিক সিট দেয়ার উদ্যোগ ছিল। এই তথ্য জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপির আগে ত্রাণের এত বড় বহর নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দল রোহিঙ্গাদের কাছে আসেনি। বিএনপির আগে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ায়নি, রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিয়ে কথা বলেনি। তিনি মনে করেন, সরকার রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখতে পারবে কিন্তু যথাযথভাবে মোকাবেলা করতে পারবে না।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী (খালেদা জিয়া) বলেছেন, মানবিক কারণে আমরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেব, তাদের আবার নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি দাবি করেন, আজও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রাণ বিতরণ হয়েছে। জাতীয় পার্টি বিতরণ করতে পারলে বিএনপি কেন পারবে না। এক দেশে দুই আইন চলতে পারে না। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুুদু, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবীবিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির খান জুয়েল।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত