আলমগীর হোসেন    |    
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
চেয়ারম্যান ছাড়া দুই মাস বন্ধ বিচারিক কার্যক্রম
ঝুলে আছে ৩৩টি মামলা * শিগগির নিয়োগ দেয়া হবে : আইনমন্ত্রী * আসামি-সাক্ষী অপেক্ষায় দিন পার করছে : তুরিন আফরোজ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের পদ দুই মাস ধরে শূন্য। ফলে ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বিচারাধীন ৩৩টি মামলার ভবিষ্যৎ। অপেক্ষমাণ একটি মামলার রায় ঘোষণা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। তবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, শিগগির ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হবে। এ ব্যাপারে কাজ চলছে। ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলায় গতি ফিরিয়ে আনতে দ্রুত চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন।
ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হক মারা যান এ বছরের ১৩ জুলাই। বুধবার দুই মাস পূর্ণ হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হয়নি। এর আগে তিনি অসুস্থ থাকায় দীর্ঘদিন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম প্রায় বন্ধই ছিল। তিনি হাসপাতালে থাকা অবস্থায় ট্রাইব্যুনালের দুই বিচারপতি শুধু বিভিন্ন মামলায় নতুন তারিখ দিয়ে যাচ্ছিলেন। পরে মৃত্যুতে ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চটি ভেঙে যায়।
১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে বলা আছে- ট্রাইব্যুনাল গঠন হবে তিন সদস্য নিয়ে। এর মধ্যে একজন চেয়ারম্যান থাকবেন। আর দু’জন সদস্য থাকবেন। চেয়ারম্যান যদি সাময়িক অনুপস্থিত থাকেন তা হলে দু’জন সদস্য ট্রাইব্যুনালের কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। তবে তিনি কোনো মামলার রায় বা কোনো মামলার অভিযোগ আমলে নিতে পারবেন না।
প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বুধবার যুগান্তরকে বলেন, ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান মারা যাওয়ায় তিন সদস্যের বেঞ্চটি ভেঙে গেছে। এখন পুনর্গঠন করতে হবে। ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম না থাকায় ঢাকায় আসা অনেক সাক্ষী অপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত বাড়ি চলে গেছেন। ৩৩টি মামলার আসামি ও সাক্ষীরা এখন অপেক্ষায় দিন পার করছেন। ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের ৩৩টি মামলায় প্রায় ১০২ জনের বিরুদ্ধে বিচার চলমান রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কক্সবাজারের ১৯ জন, ময়মনসিংহের ২৪, নেত্রকোনার ১৬, নোয়াখালীর ৪, মৌলভীবাজারের ১২, গাইবান্ধার ৫, বাগেরহাটের ১৩, পটুয়াখালীর ২, নেত্রকোনার আটপাড়ার ৫, রাজশাহীর ১, নওগাঁর ৩ ও খুলনার ৮ জন। এর মধ্যে ৫২ আসামি কারাগারে আটক রয়েছেন। ৩৩ মামলার মধ্যে ৭টি সাক্ষ্য পর্যায়ে, ১০টি মামলার অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে এবং ১৬টি মামলা শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া একটি মামলা রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ট্রাইব্যুনালের ডেপুটি রেজিস্ট্রার কেশব রায় চৌধুরী বুধবার যুগান্তরকে বলেন, চেয়ারম্যান মারা যাওয়ার দুই মাস পেরিয়ে গেছে। ফলে বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া চেয়ারম্যান না থাকায় ট্রাইব্যুনালের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের নিয়ম অনুযায়ী কোনো রায় বা মামলার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হলে তিনজন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত হতে হয়। চেয়ারম্যানের পদটি শূন্য থাকায় বিচারাধীন ৩৩টি মামলার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। কোরাম সংকটের কারণে রায়ের অপেক্ষায় থাকা একটি মামলার রায় ঘোষণা নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক সানাউল হক সম্প্রতি রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের পদ শূন্য থাকায় বিচার কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া মামলার আসামি ও সাক্ষীদের অনেক বয়স হয়েছে। দীর্ঘদিন বিচার না হওয়ায় বিচারপ্রার্থীদের মনে ক্ষোভ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হতাশা ব্যক্ত করছে।
২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বিচারপতি আনোয়ারুল হককে চেয়ারম্যান, বিচারপতি মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম ও হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীকে সদস্য করে ট্রাইব্যুনাল-১ পুনর্গঠন করা হয়। প্রায় দু’বছর চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকাবস্থায় গত ১৩ জুলাইয়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বিচারপতি আনোয়ারুল হক মারা যান। সেই থেকেই পদটি শূন্য রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার ৪ বছরে এ পর্যন্ত ২৮ মামলায় ৫২ জন যুদ্ধাপরাধীর সাজা হয়েছে। এর মধ্যে ৩১ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ২০ জনকে আমৃত্যু ও ১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৩১ জনের মধ্যে ১৩ জন ও আমৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২০ জনের মধ্যে ১১ জন এখনও পলাতক রয়েছেন। আপিল বিভাগে চূড়ান্ত শুনানি শেষে এ পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। এরা হলেন : জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামান, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলী। আপিল শুনানির অপেক্ষায় থাকাবস্থায় মারা গেছেন দু’জন। আর আমৃত্যু কারাদণ্ড নিয়ে কারাগারে আছেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে চূড়ান্ত শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে জামায়াত নেতা আবদুস সোবহান ও এটিএম আজহারসহ আরও অন্তত ১৯টি আপিল।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by