যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০ | অাপডেট: ১২ অক্টোবর, ২০১৭ ০৫:৫৭:৩৯ প্রিন্ট
নোয়াখালীতে বিএনপির মিছিলে গুলি : আহত ২০
বিভিন্ন স্থানে পুলিশের লাঠিচার্জ * বিএনপির তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ
নোয়াখালীর মাইজদিতে বুধবার পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষের সময় পুলিশের অ্যাকশন -যুগান্তর

রাজধানীসহ সারা দেশে বুধবার বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি। অনেক স্থানে মিছিলে হামলা চালায় পুলিশ। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন থানায় বিক্ষোভ মিছিল করে। কয়েক স্থানে পুলিশ মিছিলে লাঠিচার্জ করে। কলাবাগানে বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে থানা বিএনপির নেতা ইকবাল হোসেন টিটুসহ ৫-৭ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। নোয়াখালীতে পুলিশ ও মিছিলকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ শতাধিক রাউন্ড গুলি করে। এ সময় পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়। এ ছাড়া টাঙ্গাইল, বরিশাল, রাঙ্গামাটি, রাজশাহী, গাইবান্ধা ও মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলসহ আরও কয়েকটি স্থানে মিছিলে বাধা ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

মিছিলে হামলা ও নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি। বিকালে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এ প্রতিবাদ জানান।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির পক্ষ থেকে পূর্বাচল এলাকায় একটি মিছিল বের করা হয়। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে তা শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণ করেন উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান, সিনিয়র সহসভাপতি বজলুল বাছিত আঞ্জু, যুগ্ম-মহাসচিব আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ারসহ বিভিন্ন থানার নেতারা। উত্তরা পশ্চিমে হাজী দুলালের নেতৃত্বে সকালে একটি মিছিল বের করা হয়।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিভিন্ন থানায় মিছিল বের করে। দক্ষিণের যুগ্ম-সম্পাদক এমএ হান্নানের নেতৃত্বে শাহবাগ এলাকায় মিছিল বের করা হয়। এতে শাহবাগ থানার যুগ্ম-আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, জাহিদ হোসেন নয়নসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বংশালে পৃথক তিনটি মিছিল বের করা হয়। সাবেক কমিশনার মোহানের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের করা হয়। স্থানীয় নেতা মামুন ও লতিফুল্লাহ জাফরের নেতৃত্বে আরও দুটি মিছিল করা হয়। চকবাজারে আবু মোতালেবের নেতৃত্বে একটি মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মনির চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে কামরাঙ্গীরচর, নিউমার্কেটে জাহাঙ্গীর হোসেন পাটোয়ারির নেতৃত্বে মিছিল বের করা হয়। মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক আ ন ম সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে শ্যামপুর, রতন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ডেমরাতে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় মিছিলের হামলার চিত্র তুলে ধরে রিজভী বলেন, নোয়াখালীতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানের মিছিলে পুলিশ গুলি চালিয়েছে। ২০ জনের বেশি নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা আবুল খায়ের ভুইয়া, এমএ মালেক, আবদুল আউয়াল খান, মুনীর হোসেন প্রমুখ।

যুগান্তর ব্যুরো, স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

নোয়াখালী : নোয়াখালীর মাইজদীতে বিএনপির সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে সদর থানার অফিসার ইনচার্জসহ আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ প্রায় শতাধিক রাউন্ড গুলি চালায়। অপরদিকে বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি জসিম ও জেলা যুবদলের সভাপতি মাহবুব আলমগীর আলোসহ গ্রেফতার হয়েছেন ১০ জন। আহতরা হচ্ছেন- চরজব্বর ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক সাফিয়া সুলতানা, বিএনপি কর্মী ইরফাতসহ ২০ জন। বাকিদের নাম জানা যায়নি।

সকালে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী জেলা বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানের রশিদ কলোনির বাড়ি থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে খণ্ড খণ্ড মিছিল এসে মো. শাহজাহানের বাড়িতে এসে জড়ো হতে থাকে। এ সময় মিছিলটি প্রধান সড়কের দিকে আসতে চাইলে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। এতে উত্তেজিত নেতাকর্মীরা অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেনকে প্রথমে লাঞ্ছিত করেন ও কিলঘুষি মারেন। এতে পুলিশ গুলি চালালে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। ঘটনার পরপরই মাইজদী-সোনাপুর সড়কের দু’দিকে শত শত গাড়ি আটকা পড়ে। ঘটনা চলাকালে বিএনপির উত্তেজিত কর্মীরা গাড়ি ভাংচুর করেন। এ সময় দু’দিক থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।

এ সময় পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে ছাত্রলীগ যুবলীগের নেতাকর্মীরা মো. শাহজাহানের বাড়ির দিকে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়।

বরিশাল : বরিশালে দুপুরে নগরীর সদর রোডে বিএনপি দলীয় কার্যালয় চত্বর থেকে মিছিল বের করে মহানগর বিএনপি। মিছিলটি বিএনপি কার্যালয় চত্বর থেকে মূল সড়কে উঠার সময় বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি ও মহিলা দলের নেতাকর্মীদের ধাক্কাধাক্কি চলে দীর্ঘক্ষণ। মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিকদার বলেন, পুলিশের হামলায় আমাদের ৭ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

রাঙ্গামাটি : রাঙ্গামাটিতে লাঠিচার্জ চালিয়ে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। এতে ৮-১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন দলীয় নেতারা। পরে পুলিশি বাধার মুখে শহরের কাঁঠালতলীর দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করা হয়। দুপুরে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে জেলা বিএনপি। পুলিশ ধাওয়া করে মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

গাইবান্ধা : সকালে গাইবান্ধা জেলা বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করার সময় পুলিশ বাধা দেয়। এতে বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি এবং পরে লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় মিছিল থেকে সাদুল্যাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শামছুল হাসান শামছুলকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় গাইবান্ধার ফটো সাংবাদিক ফোকাস বাংলার প্রতিনিধি কুদ্দুস আলম পুলিশের হাতে লাঞ্ছিত হন। পরে সদর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে অফিসার ইনচার্জ খান মো. শাহরিয়ার, অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আরশেদুল হক বিষয়টিকে অনাকাক্সিক্ষত আখ্যায়িত করে দুঃখ প্রকাশ করেন। পুলিশের লাঠিচার্জে বিএনপির ১৫ জন আহত হন।

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) : শ্রীমঙ্গল উপজেলা, পৌর ও কলেজ ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে। উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি নিয়ামূল হক তরফদারের নেতৃত্বে শতাধিক কর্মী শহরের স্টেশন রোডের অস্থায়ী কার্যালয়ে জড়ো হলে মিছিল পূর্বপ্রস্তুতির সময় শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভ মিছিল পণ্ড করে দেয়।

নারায়ণগঞ্জ : বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি। বুধবার বিকালে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব চত্বরে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। তবে সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

ধামরাই (ঢাকা) : ঢাকার ধামরাইয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে ঢাকা জেলা ও ধামরাই উপজেরা বিএনপি। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পুলিশ বেপরোয়া লাঠিচার্জ করলে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় পালাতে গিয়ে বিএনপির সাংগাঠনিক সম্পাদকসহ ৯ নেতাকর্মী পুলিশের হাতে আটক হয়েছে।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত