উবায়দুল্লাহ বাদল    |    
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
কমিশন ও বরাদ্দ বাড়ছে ওএমএস ডিলারদের
চাল খোলাবাজারে বিক্রি (ওএমএস) আরও জনবান্ধব করতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। ডিলারদের চালের কমিশন সমন্বয় করে প্রতি কেজিতে ২ টাকা করা হতে পারে। পাশাপাশি আটার বরাদ্দ দুই টন করাসহ ওএসএস কর্মসূচির মেয়াদ ১৫ অক্টোবর থেকে বাড়িয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তাই শিগগিরই চালু হচ্ছে না খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি (১০ টাকা কেজি দরের চাল বিক্রি)। তবে এ কর্মসূচি চালু হলে তখন ওএমএসের মেয়াদ কমবেশি হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।
খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. কামরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার নিজ দফতরে যুগান্তরকে বলেন, ওএমএস কর্মসূচির ডিলারদের কমিশন বাড়ানো হচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে সিদ্ধান্তটি চলতি মাসেই কার্যকর হবে। এতে ওএমএস কর্মসূচি আরও জনবান্ধব হবে বলে মন্তব্য করেন খাদ্যমন্ত্রী।
জানা গেছে, অস্থির চালের বাজার স্থিতিশীল ও সহনীয় পর্যায়ে কমিয়ে আনতে ১৭ সেপ্টেম্বর দেশের প্রতিটি বিভাগীয় ও জেলা শহরে ওএমএস কার্যক্রম চালু করে সরকার। ২০ সেপ্টেম্বর তা সারা দেশের উপজেলা পর্যায়ে ২ হাজার ১০৫ পয়েন্টে চালু করা হয়। ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত এ কর্মসূচির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রতি কেজি আতপ চাল ৩০ টাকায় এবং আটা ১৭ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে আতপ চালে ক্রেতাদের আগ্রহ নেই। ডিলারদের মধ্যেও দেখা দেয় অনীহা। সরকারের পক্ষ থেকে ওএমএস কর্মসূচির মোট বরাদ্দের ৯০ শতাংশ বিক্রি হচ্ছে দাবি করা হলেও ডিলাররা বলেছেন, আতপ চালে আগ্রহ নেই ক্রেতাদের। এ কারণে তাদের লোকসান দিতে হচ্ছে। বর্তমানে চালে কেজিপ্রতি দেড় টাকা ও আটায় এক টাকা করে কমিশন দেয়া হচ্ছে। ডিলাররা কমিশন বাড়ানোর দাবি জানায় সরকারের কাছে। বিষয়টি নিয়ে গত শনিবার খাদ্যমন্ত্রী কামরুল
ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ওএমএস ডিলাররা। তারা টিসিবির (ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ) মতো চাল ও আটা উভয় পণ্যে কমিশন দাবি করেন কেজিপ্রতি সাড়ে চার টাকা। তবে চালে কমিশন দেড় টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই টাকা ও আটায় এক টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই টাকা করার সুপারিশ করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি এ সুপারিশ অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে ডিলাররা এতে সন্তুষ্ট হতে পারেনি।
ঢাকা মহানগর ওএমএস ট্রাক সেল সমিতির সভাপতি আলমগীর সৈকত বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, কমিশন বাড়ানোর যে প্রস্তাব করা হয়েছে তাতেও ডিলারদের তেমন কোনো লাভ হবে না। কারণ এক টন চাল ও এক টন আটা মিলে একটি ডিওতে (আধা সরকারি পত্র) আমরা মোট আড়াই হাজার টাকা কমিশন পাই। এর মধ্যে চালে দেড় হাজার ও আটায় এক হাজার টাকা। অথচ প্রতিদিনের ট্রাক ভাড়াই রয়েছে তিন হাজার টাকা। এর সঙ্গে দু’জন কর্মচারীর এক হাজার টাকা বেতন যোগ করলে লোকসানের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। তিনি বলেন, যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে ডিলারশিপ চালিয়ে যাচ্ছি। তাই লোকসান দিয়ে হলেও ব্যবসা ধরে রাখছি।
ডিলারদের এ অভিযোগ মানতে নারাজ খাদ্য অধিদফতরের কর্তাব্যক্তিরা। খাদ্য অধিদফতরের পরিচালক (সরবরাহ, বণ্টন ও বিপণন) কাজী নূরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, চাল-আটা দুটোই কেজিপ্রতি দুই টাকা করা হবে। পাশাপাশি আটার বরাদ্দ আরও এক টন বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে। এতে তারা প্রতিদিন ৬ হাজার টাকা আয় করবেন। সুতরাং লোকসান দেয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। প্রতিদিন দেড় দুই হাজার টাকা লাভ থাকবে।
ওএমএস কর্মসূচির মেয়াদ ১৫ অক্টোবর থেকে বাড়িয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হবে বলেও জানান কাজী নূরুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন, শিগগিরই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালুর সম্ভাবনা নেই। তবে এ কর্মসূচি চালু হলে সে ক্ষেত্রে চাহিদা অনুযায়ী ওএমএস কর্মসূচির মেয়াদ কমবেশি হতে পারে।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত