নূর ইসলাম রকি, খুলনা ব্যুরো    |    
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০ | অাপডেট: ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ১০:৫০:০২ প্রিন্ট
মনোনয়ন দ্বন্দ্ব তীব্র আ’লীগে সুযোগের অপেক্ষায় বিএনপি
জাতীয় পার্টির প্রার্থী হচ্ছেন মোক্তার হোসেন

খুলনার দিঘলিয়া, তেরখাদা ও রূপসা উপজেলা নিয়ে খুলনা-৪ আসন। এটি আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে শাসক দলের মধ্যে কয়েকটি বলয় গড়ে উঠেছে। বর্তমান এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা রশিদী সুজার অসুস্থতার সুযোগে দলের ভেতরে কয়েকটি শক্তি নানা কায়দায় তাদের অবস্থান জানান দেয়ার চেষ্টা করছে। এ অবস্থা যদি শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে তাহলে আসনটি দখলে রাখাই আওয়ামী লীগের জন্য কঠিন হয়ে পড়তে পারে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদের সঙ্গে সুজার বিরোধ এখন প্রকাশ্য। ৩ বারের এমপি সুজা একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী হলেও এ আসনে নির্বাচন করতে চান প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানও। এছাড়া সাবেক এমপি মোল্লা জালাল উদ্দিন ও জেলা আ’লীগের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুজিত এমপি মনোনয়ন চাচ্ছেন। এছাড়া বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও ব্যবসায়ী নেতা সালাম মুর্শিদী, বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যালায়েন্সের (বিএনএ) মহাসচিব মেজর ডা. শেখ হাবিবুর রহমানও নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে আগ্রহী।

এদিক থেকে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। ২০০৮ সালে বিএনপি থেকে নির্বাচন করেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শাহ কামাল তাজ। আগামী নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হতে চাচ্ছেন। তিনি এখন মাঠে সক্রিয়। এছাড়া কেন্দ্রীয়

কমিটির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রদল নেতা আজিজুল বারী হেলালও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা বলছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে এ আসনে তাদের বিজয় নিশ্চিত। জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য মোক্তার হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমেদ প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় রয়েছে।

সূত্র বলছে, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদ এবং সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা রশিদী সুজার মধ্যে দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশের চিত্র এলাকা ঘুরলেই চোখে পড়ে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রয়েছেন। চিকিৎসার জন্য তিনি এখনও বিদেশে অবস্থান করছেন। এই সুযোগে শেখ হারুনুর রশীদের অনুসারী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জামাল মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তবে অনেক বিতর্কিত ব্যক্তিকে নির্বাচনী কাজে জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। জানতে চাইলে কামরুজ্জামান জামাল যুগান্তরকে বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য অনেক আগেই মাঠে নেমেছি। প্রচার কতটুকু চালাতে পারছি তা নেতাকর্মীরা ভালো বলতে পারবেন।

প্যানা-পোস্টারে ছেয়ে গেছে আ’লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী ড. মসিউর রহমানেরও। দিঘলিয়া উপজেলার একটি কলেজ সরকারিকরণ নিয়ে ড. মসিউর রহমান এবং মোস্তফা রশিদী সুজার গ্রুপিংয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তা নিয়ে এখনও সামাজিক গণমাধ্যমে কাদা ছোড়াছুড়ি চলছে। অর্থনৈতিক উপদেষ্টার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এমএ রিয়াজ কচি এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, খুলনাসহ আশপাশের এলাকার উন্নয়নে তিনি ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। আপা (প্রধানমন্ত্রী) চাইলে তিনি আগামীতে নির্বাচন করবেন।

কথা হয় ড. মসিউর রহমানের সঙ্গে। যুগান্তরকে তিনি বলেন, ‘আমার বাড়ি এ আসনে। আগামী নির্বাচনে আমি মনোনয়ন চাইব। এমপি হতে পারলে শুধু আমার এলাকা নয়, খুলনাসহ আশপাশের এলাকারও উন্নয়ন করব। মংলা পোর্ট, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ভৈরব সেতুসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আমি খুলনাবাসীর জন্য কাজ করেছি। আগামীতে এমপি নির্বাচিত হতে পারলে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কাজ করার সুযোগ পাব।’

’৯০-এর পর ৫টি জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে তিনটিতেই বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের মোস্তফা রশিদী। ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০১৪ সালে সুজা এমপি হলেও ২০০৮ সালে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের মোল্লা জালাল উদ্দিন। সুজা বিদেশে অবস্থান করায় তার সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি অনেক দিন অসুস্থ ছিলেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা ভালো। তিনি আগামী নির্বাচনে এ আসন থেকে ভোটে লড়বেন। তার পক্ষে প্রচার চলছে এলাকায়।

বিএনপির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও দ্বন্দ্ব নেই। তবে সম্প্রতি জেলা বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের কমিটি গঠন নিয়ে বিএনপির দুই মনোনয়ন প্রার্থী শাহ কামাল ও আজিজুল বারীর মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভও রয়েছে। আসনটিতে ২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নুরুল ইসলাম দাদু ভাই নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে একাদশ সংসদ নির্বাচনে শাহ কামাল তাজ ও আজিজুল বারী হেলালের মধ্যে কোনো একজন প্রার্থী হলে ভোটে জেতা সহজ হবে বলে বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন।

নির্বাচনী ভাবনা নিয়ে কথা হয় বিএনপি নেতা আজিজুল বারী হেলালের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘২০০৬ সালে খুলনা-৪ থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলাম। কিন্তু নির্বাচন না হওয়ায় অংশ নিতে পারিনি। পরবর্তী সময়ে ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) নির্দেশে ঢাকা-১৮ আসন থেকে নির্বাচন করেছি।’ তিনি বলেন, ‘যদি নির্বাচন সহায়ক সরকারের অধীনে হয় এবং ম্যাডামের রূপরেখা অনুযায়ী নির্বাচন হয় তবে অবশ্যই অনির্বাচিত সরকারের হাত থেকে রক্ষা পেতে খুলনা-৪ থেকে মনোনয়ন চাইব।’

শাহ কামাল তাজ বর্তমানে লন্ডনে। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে খুলনায় অবস্থিত তার প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলামের মাধ্যমে তিনি যুগান্তরকে জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। দূরে থাকলেও তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রাখছেন। বিগত দিনে তিনি নির্যাতনের শিকার মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। তিনি দাবি করেন, বিগত দিনের কর্মকাণ্ড বিবেচনা করে আগামী নির্বাচনেও তাকে পুনরায় এ আসন থেকে মনোনয়ন দেয়া হবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমদও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জাতীয় পার্টির জেলা সভাপতি শফিকুল ইসলাম মধু যুগান্তরকে বলেন, এ আসন থেকে মোক্তার হোসেন এমপি হয়েছিলেন। আগামী নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হবেন। এছাড়া জাতীয় পার্টির নেতা এম হাদিউজ্জামানও এ আসন থেকে নির্বাচন করতে আগ্রহী বলে জানা গেছে।

১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মোস্তফা রশিদী সুজা জয়লাভ করেন। ২০০১ সালে বিএনপির এম নুরুল ইসলাম ১ লাখ ২ হাজার ৯৬৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ৮০ হাজার ৩০০ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের মোস্তফা রশিদী সুজা। ২০১৪ সালে সুজা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মোল্লা জালাল উদ্দিন ১ লাখ ৯ হাজার ২১৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শরীফ শাহ কামাল তাজ পেয়েছিলেন ৯৭ হাজার ৫৪৭ ভোট।

সাবেক সংসদ সদস্য মোল্লা জালাল যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি গতবার মনোনয়ন চেয়েছিলাম, কিন্তু আমাকে না দিয়ে সুজাকে দেয়া হয়েছিল। আগামীতে আমি পুনরায় মনোনয়ন চাইব।’


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত