জহুরুল ইসলাম ঠাণ্ডু, সরিষাবাড়ী থেকে    |    
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০ | অাপডেট: ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ১০:৫৮:৪৪ প্রিন্ট
সরিষাবাড়ীর মেয়রের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ

জামালপুরের সরিষাবাড়ীর পৌর মেয়র রুকুনুজ্জামান রুকনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্য বিনা টেন্ডারে লাখ লাখ টাকার কাজ করানোর অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও শোরগোল চলছে। মেয়রের এই আচরণে ক্ষুব্ধ কাউন্সিলররা। সম্প্রতি মেয়রের সংবর্ধনা সভায় যোগদান থেকেও বিরত থাকেন কয়েকজন কাউন্সিলর। এ নিয়েও কানাঘুষা চলছে।

পৌর এলাকা সড়ক ও জনপথের বাউসি পপুলার মোড়ে সেতুর দু’পাশে অনুমতি ছাড়াই ‘মেয়র পার্ক’ তৈরির কাজ নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়েছে। অননুমোদিত এই পার্ক নির্মাণে কোনো টেন্ডারও আহ্বান করা হয়নি। মেয়রের পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সাহা ব্রাদার্স’কে দিয়ে কোটেশনের মাধ্যমে কাজটি করা হচ্ছে। অনুমোদন না নেয়ায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ পার্কের কাজ বন্ধের চিঠিও দিয়েছে মেয়রকে। তাতেও কোনো কাজ হয়নি। বরং পার্কের কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই তড়িঘড়ি করে বরাদ্দের বেশির ভাগ টাকা তুলে নেয়ার অভিযোগ রয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মেয়র রুকুনুজামান রুকন প্রতিবেদককে বলেন, বাউসি পপুলার মোড়ে সেতুর দু’পাশে নির্মাণাধীন ‘মেয়র পার্ক’টি বিশাল অংকের কাজ। তবে প্রাথমিকভাবে বরাদ্দ করা ৩৭ লাখ টাকার কাজ কোটেশনের মাধ্যমে ‘সাহা ব্রাদার্স’ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কার্যসহকারী শাহজাহানকে নিয়ে করা হচ্ছে। তবে টেন্ডার ছাড়া কাজ দেয়া এবং কত টাকা পর্যন্ত কাজ টেণ্ডার ছাড়া ও কোটেশনের মাধ্যমে করা যায়- এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি মেয়র।

জানতে চাইলে কাউন্সিলর ও প্যানেল-১ মেয়র মোহাম্মদ আলী বলেন, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আট মাসের বেতন বকেয়া, ঠিকাদারির বিল ও বিদ্যুৎ বিল এক কোটি টাকার অধিক বকেয়া পরিশোধ না করে তথ্য গোপন করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে পাঁচ ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছে মেয়র রুকন। তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে এডিবির এক কোটি টাকার প্রকল্পের কোনো কাজই করা হয়নি। কিন্তু এই টাকার কোনো হদিস নাই। মেয়র কোনো ব্যাখ্যাও দিচ্ছেন না।

কথা হয় কাউন্সিলর সোহেল রানার সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, পৌর এলাকায় বন্যার্তদের মাঝে তিন লাখ টাকার নগদ অর্থসহ ত্রাণ বিতরণ করেছেন মেয়র। ত্রাণ বিতরণের নামে ছয় লাখ টাকার বেশি বিল ভাউচার দেখিয়ে চেকের মাধ্যমে টাকা তুলে নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ফকির, গরিব-দুঃখী ও তার পছন্দের লোকদের যত টাকা দান করা হয়েছে তার সবই পৌরসভার অর্থ। অর্থ তছরুপের প্রমাণ পাওয়া যাবে চেক রেজিস্টারেই।

তিনি বলেন, কাউকে আয় ব্যয়ের হিসাব দেখানো প্রয়োজন মনের করেন না মেয়র। পৌর এলাকা ১২টি স্থানে রাস্তার মোড়ে মোড়ে মানুষের বসার জন্য গোলঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এ সব গোলঘর প্রতিটি ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মাধ্যমে করা হয়। গোলঘর নির্মাণে প্রতি কাউন্সিলরকে এক থেকে দেড় লাখ টাকা দিয়েছেন মেয়র। অথচ বিল ভাউচারের মাধ্যমে দুই লাখ ৮০ হাজার করে টাকা তুলে নিয়েছেন মেয়র রুকন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ ছাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ফয়জুল কবীর তালুকদার শাহীন ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন তহবিলের ১৭টি প্যাকেজের এলটিএম পদ্ধতিতে এক কোটি ১৬ লাখ টাকার কাজ করেন। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর রুকুনুজ্জামান রুকন মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর পূর্বের কাজের ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ না করে পিপিআর ২০০৬ ও ২০০৮ সংশোধিত নীতিমালা উপেক্ষা করে কোটেশনের মাধ্যমে এডিপির বরাদ্দের কাজ দেখিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ মেয়র রুকনের বিরুদ্ধে। মেসার্স এএম এন্টারপ্রাইজ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের আকতারুজ্জামান বলেন, আগের মেয়রের সময় ১৭টি প্যাকেজের কাজের মধ্যে তার সাত লাখ ৩৫ হাজার টাকার বিল রয়েছে। এ বিল পরিশোধ না করে বর্তমান মেয়র কালক্ষেপণ করছেন। পরে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ফের ১৯টি প্যাকেজে এক কোটি ২৪ লাখ টাকার টেন্ডার আহ্বান করেন মেয়র রুকন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপর এক ঠিকাদার বলেন, এ ১৯টি প্যাকেজের কাজ পছন্দের ‘সাহা ব্রাদার্স’কে দিয়েছেন মেয়র রুকন। পৌরসভার বেশির ভাগ কাজই করছে সাহা ব্রাদ্রার্স। এছাড়া গত ১১ মার্চ কৃত্রিম জনবল সংকট দেখিয়ে নীতিমালা উপেক্ষা করে মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণ না করে পাঁচটি স্থায়ী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এরা হলো সহকারী কর আদায়কারী জামাল উদ্দিন, সহকারী এসেসর ইসরাত জাহান, হিসাব সহকারী উম্মে ছায়েদাতুন নেছা, সহকারী কর আদায়কারী নাহিদা আক্তার নিপা ও নি¤œমান সহকারী আনোয়ার পারভেজ। এ ছাড়া ৩০ জনকে মাস্টাররোলে চাকরি দিয়েছেন তিনি।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত