উবায়দুল্লাহ বাদল    |    
প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
জাতীয় কৃষি দিবস আজ
জমি বেশি থাকলে উৎপাদনে রেকর্ড গড়ত বাংলাদেশ
মতিয়া চৌধুরী

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের কৃষকরা অদম্য। তারা অত্যন্ত পরিশ্রমী। কোনো দুর্যোগ তাদের দমাতে পারে না। কৃষি জমি আরও বেশি থাকলে ধান, পাট, সবজিসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদনে আমাদের কৃষকরা বিশ্বে রেকর্ড গড়তে পারতেন।

জাতীয় কৃষি দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার সচিবালয়ের নিজ দফতরে যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এ মন্তব্য করেন। আজ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হবে।

মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ আয়তনে ছোট হলেও সবজি উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয় এবং ধান উৎপাদনে চতুর্থ। এত অল্প কৃষি জমি নিয়ে বিশ্বে আমাদের এ অবস্থানের মূলে রয়েছে কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঠিক দিকনির্দেশনা। দিন দিন আবাদি জমি কমছে, কৃষি থেকে মানুষ শিল্পায়নের দিকে ঝুঁকছে। কৃষি জমি কমার ফলে দেশের ফসল উৎপাদন কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু দিন দিন উৎপাদন বাড়ছে। অর্থাৎ জমি কমছে, মানুষ বাড়ছে- তারপরও খাদ্য সংকট নেই। এর কারণ আমাদের দেশের কৃষকরা অদম্য। তারা কোনো কিছুতে দমে যায় না। বন্যা, খরা, সাইক্লোন ও ঘূর্ণিঝড়সহ সব ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করেও তারা ফসলের উৎপাদন করে যাচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘চলতি আউশ মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ লাখ টন ধান বেশি হয়েছে। যেখানে আমাদের টার্গেট ছিল ২১ লাখ টন, সেখানে উৎপাদন হয়েছে ২৬ লাখ টন ধান। ১৯৯৮ সালের বন্যার পর বিবিসির সংবাদে বলা হয়েছিল, ২ লাখ লোক না খেয়ে মারা যাবে। কিন্তু একজনও মারা যাননি। বরং ২০০০ সালে এফএও বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এমনকি শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশ ৫০ হাজার টন চাল রফতানিও করেছে। আলুসহ নানা জাতের সবজি রফতানি করা হয়েছে।’

হাওর এলাকায় আগাম বন্যা ও সারা দেশে ব্লাস্টরোগের কারণে বোরোর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন ও চাল রফতানিকারক দেশ। কিন্তু চলতি বছর দু’দফায় বন্যা, হাওর অঞ্চলের আগাম বন্যা ও ব্লাস্টরোগের কারণে বোরো ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ লাখ টন চাল কম উৎপাদন হয়েছে। এ কারণে আমাদের চাল আমদানি করতে হয়েছে। বাজারে কিন্তু দেশি চাল পর্যাপ্ত রয়েছে। শিগগিরই আমন ধান কাটা শুরু হবে। আমরা আশা করছি, এবারের টার্গেটের চেয়ে বেশি ফলন হবে। এবার সারা দেশের ৫৪ লাখ ১২ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক কোটি ৪০ লাখ টন।’ মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘২০১৭-১৮ বোরো ও রবি মৌসুমে ৭ লাখ ৭৬ হাজার ২০২ জন কৃষকের পুনর্বাসনের জন্য সরকার ১৩৬ কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৫৫১ টাকার সার ও বীজ দিয়েছে। এছাড়া সারা দেশের প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের প্রণোদনা বাবদ ৫৮ কোটি ৭৭ লাখ ১৯ হাজার ৩১৫ টাকা দেয়া হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কৃষিঋণ আদায় বন্ধ ও সুদ মওকুফ করা হয়েছে।’


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত