যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
একনেক বৈঠক
শেখ হাসিনা সেনানিবাসসহ ১০ প্রকল্প অনুমোদন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে দেশের ৩১তম সেনানিবাস স্থাপনসহ ১০ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৩ হাজার ৩৩৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৩ হাজার ৩১৮ কোটি ৩৯ লাখ এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে ১৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ সময় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, পরিকল্পনা সচিব জিয়াউল ইসলাম, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কেএম মোজাম্মেল হক এবং আইএমইডি সচিব মো. মফিজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, এখন থেকে শুধু গ্যাসভিত্তিক কোনো বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন না করে ডুয়েল ফুয়েল বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কেননা যদি কোনো সময় গ্যাস পাওয়া না যায়, তাহলে কয়লা অথবা অন্য কোনো জ্বালানি দিয়ে যাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোরও নির্দেশ দিয়েছেন। এজন্য দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষায় যা যা করা দরকার তা করতে বলেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বরিশালে সেনানিবাস স্থাপন করতে হবে- এ চিন্তা কারও মাথায় ছিল না। এমনকি সেনাবাহিনীর মাথায়ও ছিল না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর মাথায় এ চিন্তা আসে। তিনিই একটি নতুন সেনানিবাস স্থাপনের পরামর্শ দেন। তাই তার নামেই এ সেনানিবাসের নামকরণ করা হয়েছে।
একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে- মোংলাবন্দর চ্যানেলের আউটার বারে ড্রেজিং- ব্যয় হবে ৭১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এছাড়া শালিখা (মাগুরা)-আড়পাড়া-কালিগঞ্জ (ঝিনাইদহ) জেলা মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণ- ব্যয় হবে ১০৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা। বরিশাল-লক্ষ্মীপাশা-দুমকী জেলা মহাসড়কের ১৪তম কিলোমিটারে রাঙ্গামাটি নদীর ওপর গোমা সেতু নির্মাণ- ব্যয় হবে ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা। বৃহত্তর খুলনা ও যশোর জেলা ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন- ব্যয় হবে ১২৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। বৃহত্তর বগুড়া ও দিনাজপুর জেলা ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন- ব্যয় হবে ৮৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। ভেড়ামারা (বাংলাদেশ) বহরমপুর (ভারত) দ্বিতীয় ৪০০ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন নির্মাণ- ব্যয় হবে ১৮৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা। জাতীয় চিত্রশালা এবং জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্রের সম্প্রসারণ ও অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তকরণ- ব্যয় হবে ১৩৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। ঝিনাইদহ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন- ব্যয় হবে ১১৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা এবং ইন্সটিটিউট অব বায়োইকুভ্যালেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল সাইন্সেস প্রতিষ্ঠাকরণ প্রকল্প- এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৯০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।
শেখ হাসিনা সেনানিবাস স্থাপন প্রকল্প সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘শেখ হাসিনা সেনানিবাস বরিশাল স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা। চলতি বছর থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের কাজ শেষ করবে সেনাসদর, কিউএমজির শাখা, এমএন্ডকিউ পরিদফতর, সেনাসদর ইঞ্জিনিয়ারিং ইন চিফ শাখা পূর্ত পরিদফতর, ঢাকা সেনানিবাস। ১৯৭১ সালে সংঘটিত মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। এই মহান স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে গড়ে ওঠে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। মুক্তিযুদ্ধে নিয়মিত অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে সেনাবাহিনীর ৩টি ব্রিগেড গঠন করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯টি ডিভিশনের আওতায় ৩০টি সেনানিবাস রয়েছে। তবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বৃহৎ উপকূলীয় এলাকা বরিশাল ও পটুয়াখালীতে কোনো সেনানিবাস নেই। ফলে জাতীয় নিরাপত্তা ও যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত যশোর সেনানিবাসের সহায়তা নিতে হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকেই যশোর সেনানিবাসে অবস্থিত ৫৫ পদাতিক ডিভিশন এ অঞ্চলের ২১টি জেলার প্রতিরক্ষা এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তার দায়িত্ব পালন করছে। কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে এ ডিভিশন থেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলাসহ ওই এলাকার নিরাপত্তা দেয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ফোর্সেস গোল ২০৩০-এর আওতায় বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলার মধ্যবর্তী স্থানে লেবুখালীতে একটি পদাতিক ডিভিশন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেনানিবাসটি মোট ১ হাজার ৫৩২ একর জমিতে স্থাপন করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, ৯৬৫ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা। এছাড়া ৫০ লাখ ৩১ হাজার ৫৯৮ ঘনমিটার ভূমি উন্নয়ন, ৫১ হাজার ২৬৪ বর্গমিটারের ৮টি সর্বোচ্চ চার তলা পর্যন্ত অফিস ভবন নির্মাণ, ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৯৯ বর্গমিটারের ১২টি সের্বোচ্চ ১৪ তলা পর্যন্ত আবাসিক ভবন, ৯টি অন্যান্য ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ, ৬২ হাজার ৮৯৯ বর্গমিটার আরসিসি বা বিটুমিনাস রোড তৈরি এবং ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৪০ বর্গমিটার সারফেস ড্রেন বা ডিসপোজাল ড্রেন তৈরিসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম করা হবে।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত