মিজান চৌধুরী    |    
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
গ্রামীণ ব্যাংক
সংশোধন হচ্ছে পরিচালক নির্বাচন বিধিমালা
প্রধান নির্বাচন কমিশনার হবেন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ডিএমডি * ক্ষমতা খর্ব হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের

গ্রামীণ ব্যাংকের ৯ পরিচালকের শূন্যপদ পূরণে ব্যাংকটির নির্বাচন বিধিমালায় সংশোধন আনা হচ্ছে। নানা জটিলতায় দীর্ঘদিন এ বিষয়টি আটকে ছিল। তবে সংশোধিত বিধিমালায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতা কিছুটা খর্ব করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্র থেকেই বাদ দেয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্তৃত্বকে।

সংশোধিত বিধিতে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার’ থাকবেন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের একজন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি)। বিদ্যমান আইনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন একজন অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ। পাশাপাশি দু’জন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেয়া হবে। এজন্য মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি কর্তৃক মনোনীত একজন পরিচালক এবং ব্যাংকের চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত একজন মহাব্যবস্থাপককে (জিএম) রাখার সুপারিশ করা হয়। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

পাশাপাশি ব্যাংকগুলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

প্রচলিত বিধিমালায় দু’জন নির্বাচন কমিশনারের একজন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ডিএমডি, অপরজন পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনে কর্মরত একজন ডিএমডি। সম্প্রতি তিন সদস্যের এ নির্বাচন কমিশন গঠনসহ ‘গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক নির্বাচন’ নীতিমালার কয়েকটি বিধিতে সংশোধনের সুপারিশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। সুপারিশ অনুযায়ী সংশোধিত বিধিমালা অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

জানতে চাইলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. ইউনুসুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের নীতিমালা পরিবর্তন করা হবে। এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির মতামত নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি মতবিনিময় হচ্ছে। নীতিমালা চূড়ান্ত করেই পরিচালক নির্বাচন করা হবে।

জানা গেছে, প্রায় এক কোটি গ্রাহক রয়েছেন গ্রামীণ ব্যাংকের। আইন অনুযায়ী ব্যাংকটি পরিচালনায় ঋণগ্রহীতা শেয়ারহোল্ডার থেকে ৯ জনকে পরিচালক নির্বাচন করা হয়। এদের মেয়াদ থাকে তিন বছর। ২০১২ সালেই সর্বশেষ নির্বাচনের মাধ্যমে পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়। তৎকালীন নির্বাচিত পরিচালকদের মেয়াদ ২০১৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়। এরপর পরিচালক পদ শূন্য হয়ে পড়লে সরকারের নিজস্ব পরিচালক দিয়ে ব্যাংকের বোর্ড সভা পরিচালনার জন্য একটি চিঠি ইস্যু করেছিল অর্থ মন্ত্রণালয়। কিন্তু এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক একজন পরিচালক বেগম তাহসিনা খাতুন উচ্চ আদালতে মামলা করেন। এরপর থেকে পরিচালক নির্বাচন প্রক্রিয়া আটকে থাকে। বর্তমানে ব্যাংকটি পরিচালক ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে।

সূত্রমতে, সম্প্রতি বিদ্যমান নীতিমালা সংশোধন করে গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি পরিচালক নিয়োগের বিরুদ্ধে মামলাও দ্রুত নিষ্পত্তি করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। সম্প্রতি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বিদ্যমান নীতিমালায় সংশোধনসহ বেশ কিছু পরিবর্তনের সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে। তবে এসব সুপারিশ করার আগে গ্রামীণ ব্যাংকের নিজস্ব একটি প্রস্তাবও সংগ্রহ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি বিদ্যমান নীতিমালা সামনে রেখে পর্যালোচনার মাধ্যমে একটি সংশোধনের সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়েছে।

রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ : বিদ্যমান আইনে গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তাকে রাখার বিধান আছে। সংশোধিত বিধিমালায় বাংলাদেশ ব্যাংককে বাদ দিয়ে সব ব্যাংককে রাখা রয়েছে। সুপারিশে বলা হয়, এ নির্বাচন পরিচালনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এ ছাড়া এ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নির্বাচনী জনবল হিসেবে নিয়োগ দেয়া সমীচীন নয়।

সহকারী রিটার্নিং অফিসার : সংশোধিত সুপারিশে বলা হয়, নির্বাচনী কাজে সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের সুপারিশের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে প্রয়োজনীয়সংখ্যক সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করবেন। এর ব্যাখ্যা হিসেবে বলা হয়, গ্রামীণ ব্যাংকের ৯টি নির্বাচনীয় এলাকা থেকে একজন করে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করতে হয়। ফলে একটি নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন স্তরে একাধিক সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতা খর্ব : বিধিমালার ৩০ ধারার বিধান কার্যকর করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা সমস্যা সৃষ্টি হলে ব্যাংক সরকারকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। কিন্তু এর আগে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার এখতিয়ার বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর ছিল।

আইনি পদক্ষেপ : বর্তমান বিধিমালার ৩১ ধারায় সরল বিশ্বাসে কোনো কাজের ফলে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা ক্ষতির সম্ভাবনা থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংক বা তফসিল ব্যাংক বা সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোনো দেওয়ানি, ফৌজদারি বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ নেই। সংশোধিত বিধিমালায় বাংলাদেশ ব্যাংক বাতিল করে সেখানে শুধু ব্যাংক অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত