যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
আগামীকাল নির্বাচন হলেও অংশ নেবে বিএনপি : ফখরুল
সরকারের দমন-পীড়ন স্বৈরাচারকে হার মানিয়েছে * বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টকে স্বাগত জানাই
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা নির্বাচন চাই। তবে সেই নির্বাচনটা হতে হবে আওয়ামী লীগ সরকারের বাইরে। সেই সরকারে আওয়ামী লীগ থাকবে না। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী পদে থাকবেন না। একটা নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। সেটা যদি কালকে হয়, কালকেই চাই।
বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। এ সময় তিনি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠনকে স্বাগত জানান। পাশাপাশি বর্তমান সরকারকে হটাতে ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’ গড়ে তোলার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
ফখরুল বলেন, ‘গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য একটা বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য অত্যন্ত জরুরি। গ্রেটার ন্যাশনাল ইউনিটিই একমাত্র পথ, যার মধ্য দিয়ে আমরা এ ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শক্তিকে পরাজিত করতে পারি। আশা করছি, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনতে নতুন এ জোট কাজ করবে।’
নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় পার্টির সঙ্গে বিএনপির যোগাযোগের চেষ্টা হচ্ছে- গণমাধ্যমের এমন খবরের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ চিন্তাশক্তির জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। এটা ফুল এসপেকুলেটেড (অনুমাননির্ভর)। হবে কি হবে না তা ভবিষৎ বলবে।’ তাহলে সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনোটাই উড়িয়ে দেই না। পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসিতে কোনো সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না। আওয়ামী লীগ যদি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আন্দোলন করতে পারে এবং আসন বণ্টন করতে পারে তাহলে নাথিং ইমপসিবল ফর পার্লামেন্ট ডেমোক্রেসি।’ আপনাদের সঙ্গে কী যোগাযোগ হচ্ছে? উত্তরে তিনি বলেন, ‘এগুলো তো আপনি এখন জানতে পারবেন না। কারণ...!’
উত্তর সিটি কর্পোরেশনে বিএনপি এখনও মেয়র প্রার্থী ঠিক করেনি জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ নির্বাচনে অংশ নেয়া না নেয়ার ব্যাপারে এখনও আমরা দলগতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। আমরা সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করছি। এটা দেখার জন্য এবং দেখানোর জন্য যে এ সরকারের অধীনে কখনও কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না। এটা ইতিমধ্যে আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি।’ এ সময় প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।
এদিকে এ দিন বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয় মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, ‘বর্তমান সরকারের দমন নীতি স্বৈরাচার আমলকেও হার মানিয়েছে।’ সদ্য ‘গুম’ হওয়া সাবেক রাষ্ট্রদূত এম মারুফ জামানের প্রসঙ্গ টেনে ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘৬-৭ বছর ধরে এমন গায়েব শুরু করেছেন। একে একে সংসদ সদস্য, কমিশনার, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, ছাত্রনেতা-যুব নেতাদের গায়েব করছেন। এ দেশে এখন আর কেউ নিরাপদ নন। এ দেশের ইতিহাসকে আপনারা বিকৃত করছেন। ইতিহাসকে গায়েব করে দিয়েছেন। এখন বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে গায়েব করছেন।’ ‘৯০-এর ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যে’র উদ্যোগে ৬ ডিসেম্বর স্বৈরশাসকের পতন দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। দিবসটিকে বিএনপি ‘স্বৈরাচারের পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’ হিসেবে পালন করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের তৎকালীন ভিপি আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও সাবেক ছাত্র নেতা নাজিমউদ্দিন আলমের পরিচালনায় সভায় সাবেক ছাত্রনেতা শামসুজ্জামান দুদু, হাবিবুর রহমান হাবিব, খায়রুল কবির খোকন, কামরুজ্জামান রতন, রফিক শিকদার, খোন্দকার লুৎফর রহমান, আসাদুর রহমান আসাদ, সাইফুদ্দিন মনি প্রমুখ বক্তব্য দেন।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’র সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, কাকে ভয় দেখাচ্ছেন? খালেদা জিয়াকে? যিনি ৯ বছর কোনো আপস করেননি। ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিনের সঙ্গেও আপষ করেননি। আপস করলে তিনি আজ প্রধানমন্ত্রী থাকতেন। আপনাদের দীর্ঘ ৮ বছর হয়ে গেছে। নীতির প্রশ্নে, গণতন্ত্রের প্রশ্নে ও মানুষের অধিকারের প্রশ্নে আপনাদের সঙ্গেও কোনো আপস করেননি। যতই অত্যাচার করবেন, নির্যাতন করবেন ততই স্বাধীনতাকামী মানুষ আরও শক্তিশালী হবে।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত