বিয়ের আগে দ্রুত ওজন কমাতে ইনজেকশন ব্যবহার, স্বাস্থ্যঝুঁকি কতটুকু?
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৪ পিএম
দ্রুত ওজন কমাতে ইনজেকশন ব্যবহার বাড়ছে।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিয়ের মৌসুম ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ওজন কমাতে ইনজেকশন ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। অনেক কনে-বর স্বল্প সময়ে আকর্ষণীয় দেখাতে এই পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছেন। তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, এসব ওষুধ কেবল সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা মোটেও নিরাপদ নয়।
সাম্প্রতিক চিকিৎসা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিয়ের আগে ওজন কমাতে আগ্রহীদের মধ্যে এসব ইনজেকশন নিয়ে আগ্রহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষ করে, ওজন নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত চিকিৎসার প্রায় ২০ শতাংশ অনুসন্ধানই আসছে বিয়ে করতে যাওয়া নারীদের কাছ থেকে—যা বিশেষজ্ঞদের উদ্বিগ্ন করছে।
কী এই ওজন কমানোর ইনজেকশন?
বর্তমানে সেমাগ্লুটাইড এবং টিরজেপাটাইড নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে।
এই ওষুধগুলো বাজারে পাওয়া যায় বিভিন্ন নামে যেমন—
- ওজেম্পিক ও ওয়েগোভি
- মাউনজারো ও জেপবাউন্ড
মূলত টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও স্থূলতার চিকিৎসার জন্য এসব ওষুধ ব্যবহৃত হয়, স্বল্পমেয়াদি সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ইনজেকশন শরীরে জি-এল-পি-ওয়ান হরমোন-এর মতো কাজ করে। এটি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, ক্ষুধা কমানো এবং হজম প্রক্রিয়া ধীর করতে সাহায্য করে। ফলে ধীরে ধীরে ওজন কমে।
চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা
চিকিৎসকরা জোর দিয়ে বলছেন, এসব ওষুধ শুধুমাত্র নির্দিষ্ট চিকিৎসাগত প্রয়োজনেই ব্যবহার করা উচিত। শুধুমাত্র বিয়ের মতো বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য দ্রুত ওজন কমাতে এগুলো ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ এবং অনুচিত।
স্বল্পমেয়াদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- বমি বমি ভাব
- বমি
- ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য
- ক্লান্তি
- তীব্র ক্ষুধামন্দা
- বাহ্যিক পরিবর্তন
চিকিৎসকদের মতে, এসব ওষুধ ব্যবহারে কিছু দৃশ্যমান পরিবর্তনও দেখা যায়।
- মুখের ত্বক ঝুলে যাওয়া
- সাময়িক চুল পড়া
- গুরুতর ঝুঁকি
কিছু ক্ষেত্রে মারাত্মক জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
- অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ
- পিত্তথলিতে পাথর
- গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, এই ওষুধ বন্ধ করার পর আবার দ্রুত ওজন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে এটি সাময়িক সমাধান হিসেবে কার্যকর নয়। এছাড়া দ্রুত ওজন কমার কারণে পেশিশক্তি ও হাড়ের স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
গবেষকরা এখনো এসব ওষুধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছাড়া এসব ইনজেকশন ব্যবহার না করাই নিরাপদ।

