পুরুষদের প্রতি বছর ‘পিএসএ’ টেস্টের পরামর্শ অক্ষয় কুমারের
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম
পুরুষদের প্রতি বছর ‘পিএসএ’ টেস্টের পরামর্শ অক্ষয় কুমারের। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বলিউডের খিলাড়িখ্যাত অভিনেতা অক্ষয় কুমারের বাবা মাত্র ৬৭ বছর বয়সে মারা গেছেন। তার বাবা প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত এ সম্পর্কে তার কোনো বিশেষ ধারণা ছিল না। তিনি জানতেন না, ৫০-৫৫ বছর বয়সের পর পুরুষকে প্রতি বছর পিএসএ পরীক্ষা করা আবশ্যক।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রোস্টেট ক্যানসার নিয়ে আলোচনা করার সময়ে নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন অক্ষয় কুমার।
অভিনেতা বলেন, আমরা এই বিষয়ে একেবারেই অবগত ছিলাম না। আপনি নিজে যদি সচেতন থাকেন, তবেই গোটা পরিবারকে রক্ষা করতে পারেন।
তিনি বলেন, আমি আমার জীবনের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ, আমার বাবাকে হারিয়েছি। মাত্র ৬৭ বছর বয়সে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আর তার প্রধান কারণ ছিল আমাদের অসচেতনতা।
প্রোস্টেট ক্যানসার শনাক্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোস্টেট স্পেসিফিক অ্যান্টিজেন (পিএসএ) টেস্ট নিয়ে দেশবাসীকে সচেতন হওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
পিএসএ হলো—প্রোস্টেট গ্রন্থির কোষ থেকে তৈরি হওয়া এক ধরনের প্রোটিন। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরের মাত্রা পরিমাপ করা যায়, যা প্রোস্টেট ক্যানসারের প্রাথমিক উপসর্গ শনাক্ত করতে চিকিৎসকদের সাহায্য করে। পিএসএ টেস্ট হলো— এই রোগ শনাক্তকরণের প্রধান উপায়। ৫০ বছর বয়স থেকে প্রতি ২-৪ বছর অন্তর এই পরীক্ষা করা উচিত। যাদের পরিবারে এই রোগের ইতিহাস আছে বা যারা কৃষ্ণকায়, তাদের ক্ষেত্রে ৪০-৪৫ বছর বয়স থেকেই স্ক্রিনিং শুরু করা জরুরি।
অভিনেতা বলেন, বাবা প্রোস্টেট ক্যানসার সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা ছিল না। পরে আমি যেটা জেনেছি, তা হলো— প্রোস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব। প্রথমত খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে। ফলমূল, শাকসবজি ও অলিভ অয়েলের মতো স্বাস্থ্যকর ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার প্রোস্টেটের জন্য উপকারী।
আর টমেটোয় রয়েছে লাইকোপেন নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা প্রোস্টেট ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি রুখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
এ ছাড়া সবজির মধ্যে ব্রকলি, ফুলকপি কিংবা কালে-র মতো সবজিতে থাকা গ্লুকোসিনোলেটস ডিএনএর ক্ষতি হওয়া থেকে কোষকে রক্ষা করে।
ওমেগা-৩: ইলিশের মতো তৈলাক্ত মাছ এবং তিসির তেল প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। খাসির মাংস এবং দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।
আর অতিরিক্ত মেদ শরীরে প্রদাহ বাড়িয়ে তোলে এবং হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, যা ক্যানসারের অন্যতম কারণ। সপ্তাহে ১৫০-৩০০ মিনিট মাঝারি ব্যায়াম বা ৭৫-১৫০ মিনিট কঠোর পরিশ্রম প্রোস্টেটজনিত সমস্যা দূরে রাখতে সাহায্য করে। আর নিয়মিত ব্যায়াম ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়িয়ে তোলে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে।
এ ছাড়া ভিটামিন-ডি বা ‘সানশাইন ভিটামিন’ কোষ বিভাজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। অন্যদিকে অনিদ্রার ফলে শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের অভাব ঘটে, যা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম এবং ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি। প্রোস্টেট ক্যানসারের ক্ষেত্রে ধূমপান মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।
এ ছাড়া গবেষণায় আরও দেখা গেছে, নিয়মিত বীর্যপাত প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ২০ শতাংশ কমিয়ে দেয়। এর ফলে গ্রন্থি থেকে ক্ষতিকারক টক্সিন বেরিয়ে যায় বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের।

