৩০-এর আগেই চুলে পাক, অকালপক্বতা রুখতে ব্যবহার করুন তেলের এই মিশ্রণ
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:০২ পিএম
ফাইল ছবি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
একটা নির্দিষ্ট সময় বয়সে চুলে পাক ধরা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু বয়স ৩০-এর আগেই চুলে পাক ধরা। বয়সের আগেই অকালপক্বতা—এটি অস্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু আজকাল জিনগত কারণে হোক কিংবা অতিরিক্ত মানসিক চাপে, দূষণ, ধূমপান ও পুষ্টির অভাবে হোক— তুলনামূলক কম বয়সেই অনেকের চুল পেকে সাদা হয়ে যাওয়া কোনো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নয়।
যদিও বিজ্ঞান বলছে— শুধু তেল মেখে পেকে যাওয়া চুলের প্রাকৃতিক রঙ পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা অসম্ভব। তবে আয়ুর্বেদে বলা হয়েছে— বিশেষ কয়েকটি তেল ও ভেষজ উপাদানের মিশ্রণ মাথার ত্বকে পুষ্টি জোগায়, যা অকালপক্বতা রোধ করতে, নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক অকালপক্বতা রুখতে যা করা উচিত—
১. আমলকী ও নারিকেল তেল
আমলকী চুলের জন্য মহৌষধ। এটি ভিটামিন 'সি', পলিফেনল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর, যা চুলের ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস’ বা ক্ষয়রোধ করে। এর সঙ্গে খাঁটি নারিকেল তেল মিশিয়ে চুলে লাগালে তা চুলের গোড়া শক্ত করে এবং মেলানিন কিংবা রঞ্জক পদার্থকে দীর্ঘস্থায়ী করে।
এ বিষয়ে ‘ডার্মাটোলজিক থেরাপি’ জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অকালপক্বতা রোধে ভেষজ উপাদানের কার্যকারিতা বৈজ্ঞানিকভাবে সীমিত হলেও তা অত্যন্ত কার্যকরী।
২. কারিপাতা ও তিলের তেল
কারিপাতায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যামিনো অ্যাসিড, বিটা-ক্যারোটিন এবং খনিজপদার্থ, যা চুলে মেলানিন তৈরিতে সাহায্য করে থাকে। অন্যদিকে আয়ুর্বেদে তিল তেলকে বলা হয় ‘তেলের রাজা’। এটি মাথার ত্বকের গভীরে গিয়ে পরিবেশগত দূষণ থেকে চুলকে রক্ষা করে। এ দুটি উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে ফুটিয়ে নিলে একটি শক্তিশালী মিশ্রণ তৈরি হয়, যা চুলের ফলিকল ভালো রাখে এবং শুষ্কতা কমিয়ে দেয়।
৩. কেশুত ও নারিকেল তেল
চুলের যত্নে কেশুত ‘ভেষজের রাজা’ বলা হয়ে থাকে। এটি স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে তোলে এবং চুলের শিকড়কে ভেতর থেকে শক্ত করে। এ পাতায় রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা চুলের ফলিকলকে সুস্থ রাখে। নারিকেল তেলের সঙ্গে কেশুতের রস বা গুঁড়ো মিশিয়ে সপ্তাহে অন্তত একবার ম্যাসাজ করলে অকালে চুল পাকার সমস্যা অনেকটাই কমে যায়।
৪. জবা ফুল ও কাঠবাদাম তেল
জবা ফুলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফ্ল্যাভোনয়েড ও প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা চুলকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করে থাকে। আর কাঠবাদাম বা সুইট অ্যালমন্ড অয়েল চুলকে জোগায় প্রচুর ভিটামিন 'ই' এবং অ্যাসেনশিয়াল ফ্যাটি অ্যাসিড। এ দুইয়ের মিশ্রণ রুক্ষ, শুষ্ক চুলকে নরম ও চকচকে করে তোলে।
৫. কালো তিল ও ক্যাস্টর তেল
আয়ুর্বেদে কালো তিলকে যৌবন ও দীর্ঘায়ুর প্রতীক মনে করা হয়। এতে কপার, আয়রন, ক্যালশিয়াম, জিংক ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। এর সঙ্গে ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে লাগালে মাথার ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং চুলপড়া কমে যায়। এটি সাদা চুল কালো না করলেও চুলের ঘনত্ব ও উজ্জ্বলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
