Logo
Logo
×
   

লাইফ স্টাইল

আপনার মস্তিষ্ক যেভাবে অজান্তেই আপনাকে বিভ্রান্ত করে, জানুন ৬টি মনস্তাত্ত্বিক কৌশল

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৯ এএম

আপনার মস্তিষ্ক যেভাবে অজান্তেই আপনাকে বিভ্রান্ত করে, জানুন ৬টি মনস্তাত্ত্বিক কৌশল

ফাইল ছবি

মানুষের মস্তিষ্ক অত্যন্ত শক্তিশালী হলেও সব সময় নিরপেক্ষভাবে কাজ করে না। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া ও তথ্য বিশ্লেষণের সুবিধার্থে মস্তিষ্ক নানা ধরনের মানসিক শর্টকাট বা ‘কগনিটিভ বায়াস’ ব্যবহার করে। এগুলো অনেক ক্ষেত্রে সময় বাঁচালেও বাস্তবতা উপলব্ধি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অন্যদের মূল্যায়নে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে। ফলে অনেক সময় কোনো বিষয়কে সত্য বলে মনে হলেও তা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মিল নাও থাকতে পারে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এসব মানসিক পক্ষপাত সম্পর্কে সচেতন থাকলে ভুল সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলা সহজ হয়। নিচে এমন ছয়টি সাধারণ মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতা তুলে ধরা হলো।

১. কনফার্মেশন বায়াস 

মানুষ সাধারণত নিজের বিশ্বাসকে সমর্থন করে এমন তথ্যই বেশি গুরুত্ব দেয়। বিপরীত মতের প্রমাণ সামনে থাকলেও অনেক সময় তা উপেক্ষা করা হয়। ফলে সত্য অনুসন্ধানের বদলে নিজের ধারণাকেই সঠিক প্রমাণ করার প্রবণতা তৈরি হয়। বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করলে এই পক্ষপাত কমানো সম্ভব।

২. হালো ইফেক্ট 

কারও একটি ভালো গুণ দেখেই তাকে সব দিক থেকে ভালো মানুষ মনে করার প্রবণতাকে হালো ইফেক্ট বলা হয়। যেমন, কেউ আত্মবিশ্বাসী বা পরিপাটি পোশাক পরেছেন দেখে তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সৎ বা দক্ষ মনে হতে পারে। অথচ বাস্তবে এ ধারণার পক্ষে কোনো প্রমাণ নাও থাকতে পারে।

৩. ইমোশনাল রিজনিং 

অনুভূতি অনেক সময় বাস্তবতা সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করে। উদ্বিগ্ন লাগলে পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক মনে হতে পারে, আবার নিজেকে ব্যর্থ মনে হলে সত্যিই নিজেকে ব্যর্থ ভাবা শুরু হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অনুভূতি ও বাস্তব তথ্যকে আলাদা করে দেখা জরুরি।

৪. সাঙ্ক কস্ট ফ্যালাসি

অনেকেই শুধু অতীতে অনেক সময়, শ্রম বা অর্থ বিনিয়োগ করেছেন বলে কোনো চাকরি, সম্পর্ক বা প্রকল্পে থেকে যান। মনোবিজ্ঞানে এটিকে ‘সাঙ্ক কস্ট ফ্যালাসি’ বা ‘অফেরতযোগ্য বিনিয়োগজনিত ভ্রান্তি’ বলা হয়। এ প্রবণতায় মানুষ অতীতের বিনিয়োগকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য লাভের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলে। অথচ ইতোমধ্যে ব্যয় করা সময় বা শ্রম আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় অতীতের ক্ষতির কথা নয়, বরং ভবিষ্যতে কোন পথটি আপনার জন্য সবচেয়ে উপকারী হবে, সেটিকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

৫. নেগেটিভিটি বায়াস

একটি নেতিবাচক মন্তব্য অনেক দিন মনে থাকে, কিন্তু একাধিক প্রশংসা দ্রুত ভুলে যাওয়া হয়। কারণ মানুষের মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবেই নেতিবাচক অভিজ্ঞতার প্রতি বেশি মনোযোগ দেয়। ইতিবাচক ঘটনাগুলোকেও সচেতনভাবে গুরুত্ব দিলে এই প্রবণতার প্রভাব কমানো সম্ভব।

৬. স্পটলাইট ইফেক্ট 

অনেকেই মনে করেন, অন্যরা সব সময় তাদের ভুল, চেহারা বা বিব্রতকর মুহূর্তগুলো লক্ষ্য করছে। বাস্তবে অধিকাংশ মানুষই নিজের জীবন ও সমস্যা নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকে। এই ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে পারলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং অপ্রয়োজনীয় দুশ্চিন্তা কমে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতা মানুষের স্বাভাবিক মানসিক প্রক্রিয়ার অংশ। তবে এগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকলে ব্যক্তি আরও যুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং দৈনন্দিন জীবনে বাস্তবতাকে আরও ভারসাম্যপূর্ণভাবে মূল্যায়ন করতে সক্ষম হন।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .