|
ফলো করুন |
|
|---|---|
লিফটের আয়না শুধু আপনার মুখই দেখায় না, আপনার অজান্তেই মনের অনেক না বলা কথা মনে করিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে আপনার মনকেও শান্ত রাখে। আপনি লিফটে পা রাখতেই আপনার অজান্তেই চোখ পড়ে আয়নায়। একবার তাকান, চুল ঠিক করেন, পোশাক ঝেড়ে নেন, আবার কখনো নিজের মুখটাই একটু বারবার দেখে নেন। মজার বিষয় হচ্ছে— আপনি একা নন; প্রায় সবাই এমনটিই করে থাকেন।
অনেকেই লিফটের মতো ছোট ও বদ্ধ জায়গায় অস্বস্তি অনুভব করে থাকেন। আবার কারও কারও ক্লস্ট্রোফোবিয়াও থাকে। আয়না সেই বদ্ধ জায়গাকে চোখের সামনে অনেকটা বড় ও খোলামেলা দেখায়। ফলে মানসিক চাপ কিছুটা কমে এবং যাত্রা আরামদায়ক মনে হয়।
লিফটে অপরিচিত কারও সঙ্গে থাকলে অনেকেই অস্বস্তি বোধ করে থাকেন। কিন্তু আয়নার সাহায্যে সরাসরি ঘুরে না তাকিয়েও পেছনে কী হচ্ছে, তা নজরে রাখা যায়। এতে সন্দেহজনক আচরণ সহজে বোঝা সম্ভব হয় এবং নিরাপত্তাবোধও বাড়ে।
এ ছাড়া হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের লিফট থেকে বের হওয়ার সময় পেছনের দিক দেখা কঠিন হতে পারে। কিন্তু আয়নার কারণে তা সহজেই নিজের অবস্থান বুঝতে পারেন। ফলে ওঠানামা আরও নিরাপদ ও সহজ হয়।
পরেরবার লিফটে উঠে যদি আবার আয়নার সামনে নিজেকে একবার দেখে নেন, তাহলে জানবেন— এটা শুধু আপনার অভ্যাস নয়, বরং লিফটের ডিজাইনই এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে আপনি কম বিরক্ত হন, বেশি স্বস্তি পান এবং আরও নিরাপদ অনুভব করেন।
কিন্তু আপনি জানেন কি, লিফটে আয়না বসানোর মূল কারণ আপনার সাজগোজ দেখানো নয়, আর আপনার মনের কথা বলার জন্য নয়; বরং আপনাকে ব্যস্ত রাখা, স্বস্তি দেওয়া এবং মানসিকভাবে নিরাপদ রাখার একটি কৌশল। এমন তথ্য দিয়েছে রেডিটের এক প্রতিবেদন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লিফটের ভেতরের আয়না শুধু সৌন্দর্য বাড়ানোর উপকরণ নয়। এর পেছনে রয়েছে মনস্তত্ত্ব, নিরাপত্তা এবং ব্যবহারকারীর সুবিধা— এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
একসময় বহুতল ভবনের লিফট ছিল অনেকটা ধীরগতির। কয়েক তলা উঠতেই যাত্রীদের মনে হতো, সময় যেন থমকে গেছে। লিফটের গতি বাড়ানো ছিল ব্যয়বহুল। তাই প্রকৌশলীরা খুঁজতে থাকেন নতুন কোনো সমাধান।
মনস্তত্ত্ববিদদের মতে বলা হয়েছে, লিফটে বড় আয়না বসানো হয়েছে। ফল মিলল অবাক করার মতো। যাত্রীরা নিজের চেহারা, পোশাক কিংবা চারপাশের প্রতিফলন দেখতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। অপেক্ষার সময়ও আর তেমন দীর্ঘ মনে হলো না। অর্থাৎ, লিফট আপনাকে ফাঁকি দেয় না— আপনার মনই সময়ের হিসাব ভুলে যায়।

-6a74554fce08d.jpg)