যেসব অভ্যাস রপ্ত করলে ফুরফুরে থাকবে মনমেজাজ
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রতিদিন কিছু ভুলভ্রান্তি কিংবা অভ্যাস যেমন কর্টিসলের ক্ষরণ বাড়িয়ে দিতে পারে, ঠিক তেমনি জীবনযাপনে রাশ টানলেও হরমোনের মাত্রা ঠিক রাখা সম্ভব। আর সকালে ঘুম থেকে উঠেই মন খারাপ। মনমেজাজ খারাপ হচ্ছে দিনের যে কোনো সময়। কিছুই ভালো লাগছে না! নেপথ্যে কারণ কী— জানা নেই।
থাকতে পারে ‘মন খারাপ করা’ হরমোনের প্রভাবও। মানসিক চাপ বাড়লেই বেড়ে যায় কর্টিসলের ক্ষরণ। আর কর্টিসল হরমোনের বেড়ে যাওয়ার নেপথ্যে থাকে মানসিক চাপ। আর সেটি কমাতে সাহায্য করে প্রিয় মানুষের সংস্পর্শ।
সকালে উঠে সন্তানকে জড়িয়ে ধরতে পারেন, আপনার মন ভালো হবে। আবার প্রিয় মানুষটির হাতে হাত রাখতে পারেন, প্রাণ জুড়িয়ে যাবে। সেই সঙ্গে বাবা-মা কিংবা বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষের পাশে কিছুক্ষণের জন্য শান্ত হয়ে বসতে পারেন। এতেও দারুণ টনিকের মতো কাজ হবে।
এমনিতেই এ হরমোন মোটেই ফেলনা নয়। এর অনেক কাজ— রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা, বিপাকীয় কাজ সামলানো এবং প্রদাহ কমানো। কিন্তু এ হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলেই বিপদ। শুরু হয় মন খারাপ। তাই একে নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, যেভাবে মন খারাপের সমস্যা সমাধান করবেন—
যদি আপনার মন খারাপ হয়, তবে শুরুতেই মনের কথা লিখে রাখুন। অনেক সময়ে অনেক অপ্রকাশিত অনুভূতি মন ভার করে তোলে। তাই সেই মানসিক চাপ সামলাতে না পারলে মন খারাপ করা হরমোনকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। হয় মনের কথা বিশ্বস্ত কাউকে খুলে বলুন, আর না হয় সেসব কথা লিখে রাখুন নিজস্ব খাতার পাতায়। এতে আপনার মনের ভার হালকা হবে। ফুরফুরে থাকবে মেজাজ।
আর প্রতিদিনের কাজের চাপে ব্যক্তিগত শখ ও ভালো লাগাগুলো অনেক সময়েই হারিয়ে যায়। ভালোলাগার কাজও মন ভালো করে দেয়। মানসিক চাপ মুক্ত রাখতে, আর মেজাজ ফুরফুরে করতে সাহায্য করে রান্না, বাগানের পরিচর্যা, ছবি আঁকা, গান ও নাচ, যা ভালো লাগে, সেগুলো নিয়ম করে প্রতিদিন জীবনে জুড়ে দিন।
ঘরে বসে ব্যায়াম অনেক সময়ে বিরক্তির কারণ হয়ে ওঠে। তার চেয়ে বরং সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন রাস্তায় কিংবা পার্কে। ভোরবেলা হাঁটতে বেরিয়ে যেতে পারেন দূরে। ঘুম কাটিয়ে খোলা হাওয়ায় বেরিয়ে পড়তে পারলেই ধীরে ধীরে মন ভালো হয়। এ বিষয়ে চিকিৎসকরা বলেন, শিশির ভেজা ঘাসে যদি পা ফেলা যায়, শরীর ও মনে প্রশান্তি অনুভূত হতে পারে নিমেষেই। মানসিক শান্তি ও কর্টিসলের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে।
মন ভালো রাখতে লুচি ও কচুরি খাচ্ছেন? তাতে আপনার শরীর ভালো থাকবে না। সকালে উঠে চা-কফিতে চুমুক দেওয়ার অভ্যাসও মন খারাপ করা হরমোনের ক্ষরণ বৃদ্ধি করতে পারে। খালি পেটে বরং ভেষজ চা পান করা যেতে পারে। তালিকায় রাখতে পারেন ম্যাগনেশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার। যেমন— কাঠবাদাম, কলা, টাটকা সালাদ। ট্রিপটোফ্যান রয়েছে এমন খাবার— ডিম, কুমড়ার বীজ ও মাছ খেলে সেরোটোনিন কিংবা মন ভালো করা হরমোনের ক্ষরণ বাড়বে।

