যেসব কারণে মানুষ আত্মহননের পথ বেছে নেয়

  যুগান্তর রিপোর্ট ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:১৪ | অনলাইন সংস্করণ

আত্মহত্যা।
আত্মহত্যা।

চট্টগ্রামের ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশের আত্মহত্যার ঘটনা বিস্মিত সারা দেশ। কারণ একজন চিকিৎসক শুধু দেশের সম্পদই নয়। তিনি মানুষের সেবা দিয়ে যেতেন। তাই তার এভাবে চলে যাওয়া বন্ধুবান্ধব থেকে শুরু করে আত্মীয়স্বজন কেউ মেনে নিতে পারেননি।

স্ত্রী মিতুর আমেরিকার কৃষ্টি-কালচারে আসক্ত ছিল। বিয়ের পর মিতুর অবাধ মেলামেশা আকাশকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল।প্রচণ্ড মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।তবে শুধু ডাক্তার আকাশই নয়, আমাদের সমাজের বিভিন্ন ঘটনার দিকে আলোকপাত করলে আমরা দেখতে পাই পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, বেকারত্ব, দারিদ্র্যতাসহ বিভিন্ন কারণে মানুষ আত্মহত্যা করছে।

এখন কথা হচ্ছে কীভাবে এই আত্মহত্যার নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কারণ একজন মানুষ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কেবল আত্মহত্যা করে। তাই একজন মানুষকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে এবং আত্মহত্যার মতো আত্মঘাতী ব্যাপাটিকে এড়িয়ে চলতে কিছু করণীয় রয়েছে।

আসুন জেনে নেই মানুষ কেন আত্মহত্যা করে আর আত্মহত্যা ঠেকাতে কী করা যেতে পারে। আত্মহত্যার বিষয়ে যুগান্তরের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় জানিয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের সহকারী অধ্যাপক তৌহিদুল হক।

তিনি বলেন, একজন মানুষ নিজের ওপরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে তখনই আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। তাই একটা সময় ছিল যখন জাপানে আত্মহত্যার ঘটনা প্রকট আকার ধারণ করেছিল।

তবে তারা তাদের পাঠ্যক্রমে বিষয়টি সংযুক্ত করে ও সামাজিক ও পারিবারিভাবে বিষয়টি মোকাবেলা করে। তাই আমি বলতে চাই বাংলাদেশে সামাজবিজ্ঞান বিভাগের পাঠক্রমে দাম্পত্য কলহের বিষয়ে তুলে ধরা ও এর সমাধানে কী করা যেতে পারে তা অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, যে কোনো ব্যক্তি যদি কোনো ধরনের মানসিক সমস্যায় পড়েন তবে অবশ্যই তাকে তার কাছের কারো সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে। নিজের মধ্যে কোনো বিষয়কে চাপিয়ে রাখা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, নিজের মধ্যে কোনো বিষয় চেপে রাখলে মানুষ নিজেকে অসহায় মনে করে। আমরা আলোচনা করলে তা খোলাসা হয় সমাধানের পথ বেরিয়ে আসে। তাই খোলামেলা আলোচনা করে সমাধানের পথ বের করুন। মনে রাখবেন আত্মহত্যা সমাধান নয়।

যেসব কারণে মানুষ আত্মহত্যা করে

বিষণ্ণতা, একা থাকা। সারাক্ষণ মনমরা হয়ে থাকা, উৎসাহ-উদ্যম হারিয়ে ফেলা, ঘুম কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া, রুচি কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া, ওজন কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া, কাজকর্মে শক্তি না পাওয়া, মনোযোগ হারিয়ে ফেলা, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, নিজেকে নিঃস্ব অপাঙক্তেয় মনে করা, অযাচিত অপরাধবোধ ও আত্মহত্যার কথা বলা, ভাবা। এই লক্ষণগুলো টানা দুই সপ্তাহের বেশি থাকলে আমরা তাকে মেজর ডিপ্রেশনের রোগী বলি, এবং তিনি আত্মহত্যার ঝুঁকিতে আছেন বলা যায়।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ জানান, যে কোনো সমস্যায় আত্মহত্যা নিয়ন্ত্রণের উপায় হলো কাছের কাউকে তার সমস্যার কথা খুলে বলা। খোলোমেলা আলোচনা করা। কখনোই কোনো সমস্যা নিজের মধ্যে পুষে না রাখা। সমস্যা পুষে রাখলে বিষণ্ণতায় পরিণত হবে। এক সময় আপনি আত্মহননের দিকে এগিয়ে যাবেন।

[প্রিয় পাঠক, আপনিও দৈনিক যুগান্তর অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন-[email protected]-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×