কাজান: পুরো শহরটাই যেন ল্যান্ডস্কেপে আঁকা

  সাব্বির রহমান তানিম ৩১ আগস্ট ২০১৯, ১৭:০১ | অনলাইন সংস্করণ

কাজান: পুরো শহরটাই যেন ল্যান্ডস্কেপে আঁকা, সাব্বির রহমান তানিম, কাজান, রাশিয়া থেকে

৬ মাস আগেও এ শহর সম্পর্কে আমার কোনো ধারনা ছিল না। এ শহরে ৬ দিন থেকে মনে হলো এমন অদ্ভুত সুন্দর যে শহর তার সম্পর্কে আগে কেন বেশি জানি নাই! এ শহরে প্লেন থেকে নামার মূহুর্তে যে মুগ্ধতা ছড়িয়ে দিয়েছিলো তার বহুগুণ বেশি মুগ্ধতা নিয়ে এ শহর ছেড়ে যাচ্ছি।

পৃথিবীর কম শহর তো দেখলাম না কিন্তু পারিবারিক ভ্রমণের জন্য আমার দেখা অন্যতম সেরা শহর এটা। highly recommended for all my f & f. Here I tried to sort out the reasons.

১. পুরো শহরটা ছবির মতো সাজানো। পুরো শহরটাই যেন ল্যান্ডস্কেপ করে কোনো শিল্পীর হাতে আঁকা। পৃথিবীর সব বিখ্যাত শহরগুলোর কিছু উজ্জ্বল দিক থাকে আবার ডাউন টাউনগুলো কেমন যেন অগোছালো। এ শহরের প্রতিটি কোনা গোছানো, প্রতিটি প্রান্তের বাগান, অট্টালিকা কিংবা প্রমোদ স্থানগুলো একটার চেয়ে আরেকটা সুন্দর। আবাসিক এলাকা/অফিস পাড়া/শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেন একেকটা বিশাল বাগান।

২. ১০০০ বছরের পুরনো শহর। ইউরোপের যেকোন দেশের মতই ঐতিহ্যবাহী এবং লন্ডনের মতো শহরের প্রতিটি প্রান্তে ঐতিহ্যগুলো ধরে রেখেছে। সেই সঙ্গে আবার আধুনিক সব নাগরিক সুবিধা বিদ্যমান। একই সঙ্গে শহরটা অনেক রঙিন। সুযোগ পেলেই যেন রঙ লেপে দিয়েছে আবার বেশ রুচি সম্মতভাবে; আমাদের প্রতিবেশী মমতা দিদির মতো নয়।

৩. মেট্রোরেল, পাতাল রেল, আধুনিক বাস, জল পথ, পর্যাপ্ত ট্যাক্সি সবই আছে তারপরও শহরের মাঝের বিশাল বিশাল রাস্তাগুলোতে কোনো যানজট নাই। সারা পৃথিবী থেকে প্রায় ২০ হাজার মানুষের আগমন হয়েছে এই শহরে ওয়ার্ল্ড স্কিলস উপলক্ষে। এদেরকে আনা নেয়া করার জন্য প্রায় ১০০০ ডেডিকেটেড বাস যুক্ত হয়েছে তারপরও কোথাও কোনো যানজট নাই!

৪. অসম্ভব নিরাপদ শহর। রাত-বিরাতে নির্বিঘ্নে ছেলে-মেয়ে, বুড়ো-বাচ্চা পথে প্রান্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সবার মধ্যে একটা ধীর-স্থির শান্তি শান্তি ভাব। বিকেল ৪টার সময় যেমন পার্কে বাচ্চারা খেলছে রাত ২টার সময়ও যুবক-যুবতী বসে প্রেমালাপ করছে কিংবা কাজ শেষে মেয়েটা বাড়ি ফিরছে। পুরো শহরেই একটা প্রাণ আছে, প্রেমময়! বেশিরভাগ রেস্তোরা ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে প্রচুর পরিমাণে ২৪ ঘণ্টা খোলা দোকান, রেস্তোরা আছে।

৫. ঢাকার তুলনায় অসম্ভব সস্তা শহর। সব কিছু। জামা-কাপড় থেকে শুরু করে বাজার-সদাই, খাওয়া দাওয়া। নিত্যপণ্য জিনিসগুলো প্রতিটি প্রান্তে যথেষ্ট এবং মানসম্মত। ১০০০ টাকা খরচ করে এখানে যা পাওয়া যায় ঢাকায় তা পেতে ৩/৪ হাজার টাকা খরচ করতে হবে। ১৫/১৬ জন মিলে ভালো রেস্তোরায় জম্পেশ খেয়ে (এলকোহল ছাড়া) ১০/১২ হাজার টাকা বিল তোলা কঠিন হয়ে যায়। ৩/৪ জন মিলে ৫০০/৬০০ টাকায় মাঝারী মানের রেস্তোরায় দুপুরের বেশ ভালো পেটপুজো হয়ে যায়। বাংলাদেশি টাকায় ২০০ টাকার ওপরে কোনো কেএফসি বা বার্গার কিং মিল নাই!

৬. শহরের মানুষগুলো বেশ বন্ধু বৎসল এবং আন্তরিক। পৃথিবীর বড় দেশের নাগরিকদের মতো নাক উঁচু না। ভাষা একটা বিশাল সমস্যা। এরা বেশিরভাগই ইংলিশ একদমই জানে না, কিন্তু হাসিমুখে সর্বোচ্চ দেয় যেকোন সাহায্য চেলে।

৭. মুসলিম প্রধান শহর কিন্তু অসম্ভব ব্যালেন্সড। হালাল রেস্তোরার যেমন অভাব নাই তেমনি পার্টি করার জায়গা গুনে শেষ করা যাবে না। কিন্তু কোথাও কোনো নোংরামি নাই। সব কিছুতেই একটা ডিসেন্ট ভাব আছে। এই শহরেই যেমন অন্যতম বড় গির্জা আছে তেমনি আছে ইউরোপ-রাশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড় মসজিদ। তেমনি আছে সকল ধর্মের জন্য এক উপাসনালয়!

৮. পুরো শহরটাই যেন উৎসবের স্টেজ! শহর জুড়ে আছে বেশ কিছু খোলা মঞ্চ। সেখানে বিকেল থেকে মাঝরাত পর্যন্ত চলে গান বাজনা। স্টেজের সামনে সারাক্ষণই কেউ না কেউ দল বেধে নাচে। থিয়েটারের বড় বড় হলের পার্কিংগুলো সন্ধ্যা হলেই ভরে যায়। সিনেমা হল কিংবা কনসার্ট হলগুলো থেকে মাঝরাতে হাসি মুখে বের হয়ে আসতে দেখলাম মানুষদের প্রায় প্রতিদিনই।

৯. ৬ দিনে শহরে আমি শুধু একবার গাড়ীর হর্ন শুনেছি। ইয়ানডেক্স অ্যাপে ট্যাক্সি ডেকে কোনোদিন ৫ মিনিটের বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। কোথাও কোনো ট্রাফিক পুলিশ নাই কিন্তু কোথাও কোনো অস্থিরতা নাই। সব চলছে নিয়ম মতো। ৫/৬ লেনের রাস্তাগুলোতে গাড়িগুলো ট্র্যাফিক সিগন্যাল মেনে চলছে, পথচারী জেব্রা ক্রসিং দিয়ে পার হচ্ছে। পুরো শহরে একটাও কুৎসিত দর্শন ফুটওভার ব্রিজ নাই!

১০. শহরজুড়ে মুসা জলিলসহ বিভিন্ন বিখ্যাত কবি-সাহিত্যিকদের বিশাল বিশাল স্ট্যাচু এবং তাদের কীর্তি কথা। লেনিনও এখানে কিছুদিন পড়াশুনো করেছিল। কাজান রাশিয়ার স্পোর্টস ক্যাপিটাল, তাই খেলাধুলার জন্য অনেক সুযোগ-সুবিধা পুরো শহর জুড়েই। এ থেকেই ধারনা পাওয়া যায় শহরটা কত ব্যালেন্সড।

১১. আবহাওয়া যেকোনো শীতপ্রধান দেশের মতোই। অক্টোবর থেকে এপ্রিল শীতকাল টেম্পারেচার -১৫ থেকে ৭ এর মধ্যে আপ-ডাউন করে। তুষারপাত হয়। মে থেকে সেপ্টেম্বর এখানে মোটামুটি সামার। টেম্পারেচার ৮ থেকে ২৫ এর মধ্যে থাকে। বেশ আরামদায়ক। সারা বছরই বৃষ্টি হয়। তাই বাতাসটা বেশ ফ্রেশ। বুক ভরে শ্বাস নেয়া যায়।

সাব্বির রহমান তানিম, কাজান, রাশিয়া থেকে

[প্রিয় পাঠক, আপনিও দৈনিক যুগান্তর অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন-[email protected]-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×