আজ বিশ্ব নারী উদ্যোক্তা দিবস

সংসার সামলে মানুষের জন্য রক্ত সংগ্রহ করি: মারজান আহমেদ

  এম. রেজাউল করিম ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ১১:২০ | অনলাইন সংস্করণ

স্বামী আব্দুল কাইউম এবং ছেলে আইমানকে নিয়ে সুখেই আছেন নারী উদ্যোক্তা মারজান আহমেদ।
স্বামী আব্দুল কাইউম এবং ছেলে আইমানকে নিয়ে সুখেই আছেন নারী উদ্যোক্তা মারজান আহমেদ।

মারজান আহমেদ। হার না মানা সৈনিকদের দলে এক উজ্জীবিত নাম। নিজেকে সফল করতে ক্যারিয়ারে এবং দক্ষতা অর্জন ও উন্নয়নে পিছপা না হওয়া এই নারী কাজ করছেন সামাজিক উন্নয়নের পেছনেও। পেশায় ফ্রিল্যান্সার মারজান আহমেদ নিজেকে ঘরের চৌকাঠে সীমাবদ্ধ না রেখে উড়ে বেড়াচ্ছেন গগণজুড়ে।

কারণ ইতিমধ্যেই তিনি ট্রেইনি পাইলট হিসেবে বিচরণ করছেন গগণে। এরই পাশাপাশি মানবতার ডাকে সাড়া দিয়ে ‘জীবনের জন্য রক্ত’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপের কো-ফাউন্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজেও রক্তদান করেন নিয়মিত।

এছাড়াও ইতিমধ্যেই মডেল হিসেবে কাজ করেও বেশ সুনাম অর্জন করেছেন মারজান। আজ বিশ্ব নারী উদ্যোক্তা দিবস উপলক্ষে মারজানের সঙ্গে সাক্ষাত হয় যুগান্তরের। সাক্ষাৎকারের আলোচ্য অংশগুলো পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হচ্ছে।

যুগান্তর: কেমন লাগে মানুষকে রক্ত দিয়ে সাহায্য করতে?

মারজান: একটা মানুষের জীবন বাচাতে অবশ্যই সবার ভালো লাগে। আমার মনে হয় আমাদের দেশের সবাই সাহায্য করতে চায়, কিন্তু কোথায়, কাকে কীভাবে সাহায্য করবে সেই সুযোগটা পায় না। তবে আমি এমন ভালো কাজের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছি এটা আসলেই সুখের একটি বিষয়। তাই আমি মনে করি, মানুষকে সাহায্য করাও একটা ভাগ্যের ব্যাপার।

যুগান্তর: বিপদগ্রস্ত মানুষগুলো যখন রক্ত আপনার মাধ্যমে পায়। তারপর আপনাকে যখন মন থেকে কৃতজ্ঞতা জানায়; তখন আপনার অনুভূতি কেমন হয়?

মারজান: এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না, এতো দোয়া, এতো সম্মান, এতো ভালোবাসা। যদিও আমি কিন্তু শুধুমাত্র মানুষের রিকোয়েস্টগুলো আমার টাইমলাইনে এবং আমাদের প্যানেলে বা গ্রুপেই শেয়ার করি। আর সেখান থেকেই রক্ত ম্যানেজ হয়ে যায়। আমার ফেসবুক টাইমলাইনে বা ইন্সটাগ্রামের পোস্টগুলো দেখলেই বুঝতে পারবেন মানুষ কত পরিমাণ ভালোবাসে আর দোয়া করে।

যুগান্তর: সামাজিক কাজের সঙ্গে ব্যস্ত থেকেও পরিবারকে কীভাবে সময় দেন?

মারজান: আমার একটা বাচ্চা, সে ক্লাস ফোরে পড়ে। তাই সারাদিন স্কুল, পড়াশোনা এগুলো নিয়েই সে ব্যস্ত। আর স্বামী সকাল থেকে রাত অব্দি অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকে। তাই বাসায় আমার তেমন কাজ থাকে না বললেই চলে। তাই আমি সামাজিক কাজটাকেই অনেক বেশি প্রায়োরিটি দেই বলা যায়। আর এটা শুরু হয়েছে আমি যখন মেট্রিক পাশ করি তখন থেকে। আমি দেখতাম আমার বাবার কাছে কেউ সাহায্য চাইলে বাবা কখনই কাউকে না করতেন না। নিজের সাধ্যমত সাহায্য করার চেষ্টা করেছেন। আমি সেখান থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা পেয়েছিলাম। এরপর যখন আমার বিয়ে হয়ে গেলো, তখনও আমি ইন্টার পরীক্ষা দেইনি। তো আমার স্বামী যখন অফিসে যেত, তখন মানুষ আমার কাছে সাহায্য চাইতে আসতো। আমি তখন ফিল করতাম, আমি তো ছোট মানুষ এভাবে এত টাকা কই পাবো। স্বামীর কাছ থেকে নিয়ে নিয়ে অনেক দিয়েছি। এরপর ভাবলাম নিজেকেই আয় করতে হবে। আর সেখান থেকেই নিজে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করি।

যুগান্তর: একজন সফল নারী হিসাবে আপনি নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

মারজান: আমি সফল হিসেবে অন্যান্য মেয়েদের পাশে নিজেকে দেখতে চাই। যারা পেশা হিসেবে নিজেদেরকে গৃহিনী নয় বরং নিজের একজন পেশাজীবী হিসেবে পরিচয় দিবেন। এমন একটা রেভ্যুলেশন করতে চাই।

যুগান্তর: সফল হতে হলে নারীদেরকে তিনটি পরামর্শ দিতে বললে কী কী পরামর্শ দেবেন?

মারজান: প্রথমত আমি বলবো সেলফ রেসপেক্ট। নিজের আত্মসম্মানের সঙ্গে কোন ধরণের সেক্রিফাইজ করা যাবে না। দ্বিতীয়ত অনেস্টি, যাই করেন না কেন সততা বজায় রাখতে হবে আর শেষ কথা হচ্ছে দেশকে ভালবাসতে হবে।

যুগান্তর: আপনি একজন ট্রেনিং পাইলট এটা কি শখ হিসাবে নিবেন না পেশা হিসাবে?

মারজান: আমি কখনোই চাকরি করতে চাইনি। তাই বলা চলে পেশাদার পাইলট নয়। তবে এভিয়েশন বিজনেস করার ইচ্ছে আছে আমার।

যুগান্তর: এখন কি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন?

মারজান: এখন আমি ফ্রিল্যান্সিং করার পাশাপাশি ‘রকস্টার ফ্রিল্যান্সার’ নামে একটা অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং ট্রেইনিং প্ল্যাটফর্ম ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করছি। যেখানে দেশের সেরা থেকে সেরা ফ্রিল্যান্সাররা নারীদের প্রশিক্ষণ দিবেন। আমার জীবনে কাজ করতে গিয়ে পাওয়া এমন ট্রিকস এন্ড ট্রিকস থাকবে। এছাড়াও আরও এমন অনেক কিছু থাকবে যা কেউ করেনি এখনও।

যুগান্তর: যদি বলা হয় ফ্রিল্যান্সিং,পাইলট না রক্ত দিয়ে সমাজসেবা? কোনটাকে বেশি গুরুত্ব দিবেন?

মারজান: সবকিছুই করবো আমি। তবে মানুষকে সাহায্য করাটাকে আমি বেশি প্রায়োরিটি দিবো। এটাই এখন আমার কাছ অনেক বড় কিছু। ধরেন, আমার ১০০ ডলারের একটা কাজের অর্ডার আসছে। ঠিক একই সময়ে আমার একটা রক্তের জন্য অনুরোধ আসলো। আমি কিন্তু ওই রক্তের অনুরোধটাকেই প্রায়োরিটি দেই। কারণ, মানুষের জন্য কাজ করলে মন যেমন শান্তি পায় একই সঙ্গে মানুষের কাছ থেকে অনেক দোয়া ও ভালোবাসাও পাওয়া যায়।

[প্রিয় পাঠক, আপনিও দৈনিক যুগান্তর অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন-[email protected]-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×