সেন্টমার্টিনের সেই পর্যটক ঢাকায় ফিরে যা বললেন

  সালেহ রেজা আরিফ ০৪ জুন ২০২০, ১৭:১২:১২ | অনলাইন সংস্করণ

সেন্টমার্টিনে টানা ৮০ দিন অবস্থান করা তিন পর্যটক ঢাকায় ফিরে আসার সময় ওঠা ছবি। লেখক বামে দাঁড়িয়ে।

করোনার কারণে টানা ৮০ দিন সেন্টমার্টিনে (কক্সবাজার) আটকে ছিলেন তিন পর্যটক। রোজা, ঈদ সব শেষে যেদিন গণপরিবহন চলতে শুরু করল তখন তারা ঢাকায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। তাদের নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশের পর অনেকেই তাদের ব্যাপারে জানতে আগ্রহ দেখাচ্ছিলেন। ঢাকায় ফিরে এসেই যুগান্তরের কাছে লিখিত অনুভুতি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সালেহ রেজা আরিফ

গত ১৫ মার্চ ২০২০ থেকে সেন্টমার্টিন থাকার পর মঙ্গলবার সকালে সেন্টমার্টিন থেকে ট্রলারে টেকনাফে পৌঁছাই। বিকেলে সরাসরি ঢাকার একটা বাসে রওনা দিয়ে সুস্থভাবে বুধবার ভোরে ঢাকায় নামি। আমরা সবাই সুস্থ আছি এবং ঠিকভাবে ঢাকায় পৌঁছেছি।

সেন্টমার্টিন থেকে ফিরে আসাটা আসলেই খুব কষ্টের ছিল। অনেক অনুভূতি হয়ত ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না, তাই ‘কষ্ট’ শব্দটাই ব্যবহার করে প্রকাশ করার বৃথা চেষ্টা করলাম আরকি।

সেন্টমার্টিন অনেকবার যাওয়া হয়েছিল এবং কোনবারই ৪/৫ দিনের বেশি থাকা হয়নি। বেশি দিন থাকা হয়নি বিধায় লোকালদের সঙ্গে খুব বেশি মেশার সুযোগ হয়নি।

এবার দ্বীপের লোকদের রোযা, ঈদ কাটানোর ফলে তাদের ব্যাপারে আরও বেশি জানার সুযোগ পেলাম। তাদের আন্তরিকতা আসলেই অন্যরকম। বেশিরভাগ সময় তারা অনেকে এসে আমাদের খোঁজ-খবর নিয়ে যেতেন।

আবার কখনো সৈকতে হাটার সময় অপরিচিত কারো থেকে আমাদের খোঁজ-খবর নেওয়ার ব্যাপারটা অন্যরকম ভাল লাগার জায়গা তৈরি করেছিল। ঈদের দিন থেকে প্রায় দিনই তাদের আপ্যায়ন পেয়েছি। তিনজন অপরিচিত মানুষকে তারা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যেভাবে আপন করে নিয়েছিলেন এতে আমরা আসলেই মুগ্ধ।

বেশিদিন থাকার ফলে দ্বীপের প্রতি আলাদা একটা মায়া আর সখ্যতা গড়ে উঠেছিল, যেটা কাটিয়ে আসাটা ছিল সত্যিই কঠিন। ট্রলারে যতই দ্বীপটাকে পিছে ফেলে টেকনাফের দিকে আগাচ্ছিলাম ততই এই মায়া ছেড়ে আসার কষ্টের পরিমাণ হৃদয়ে প্রতিফলিত হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, দ্বীপটা বারবার বলছিল আরও কিছুদিন থেকে যাওয়ার জন্য। কিন্তু মনে মনে কথা দিয়ে আসলাম আবার ফিরে যাব নারিকেল জিঞ্জিরায়।

এরকম খোলামেলা পরিবেশ থেকে এসে চার দেয়ালের মধ্যে ঢুকে যাওয়াটা আসলেই কষ্টের। ফিরে আসার একদিনেই উপলব্ধি করতে শুরু করেছি সবাই কেমন কষ্টের মধ্যে বাসায় কাটাচ্ছিলেন! আমরা নিজেরাও এখন পরিবার এবং সবার কথা চিন্তা করে কোয়ারেন্টাইনে আছি এবং দূরত্ব বজায় রাখছি।

সবাইকে ধন্যবাদ দিতে চাই, যারা সব সময় আমাদের খোঁজ-খবর নিয়ে আমাদের পাশে ছিলেন। আশা করি পৃথিবী খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবে আর আমরাও মুক্ত পাখির ন্যায় আগের মত চলাফেরা করতে পারবো।

আরও পড়ুন-
পর্যটকবিহীন সেন্টমার্টিনে দুই মাস, কেমন আছি আমরা?

[প্রিয় পাঠক, আপনিও দৈনিক যুগান্তর অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন-jugantorlifestyle@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: jugantor.mail@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত