শিল্পীর তুলিতে আঁকা আল-বুফেরা

  রাসেল আহম্মেদ ১১ এপ্রিল ২০১৮, ২১:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

শিল্পীর তুলিতে আঁকা আল-বুফেরা
শিল্পীর তুলিতে আঁকা আল-বুফেরা

আমি সাধারণত একজন কাজপাগল ও ভ্রমণপিয়াসী মানুষ। জীবনে এই দুটি জিনিসকে কখনো কোনো অজুহাত দেখাইনি। সব সময় কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে ভালোবাসি আর ফাঁক পেলে ঘুরে বেড়াতে ভালো লাগে। আমি সব সময় ব্যাকুল হয়ে থাকি কখন সুযোগ পাব ঘুরে বেড়ানোর।

আমার কাজ ও বসবাস পর্তুগালের রাজধানীর শহরতলীতে। লিসবনের বাঙালি-অধ্যুষিত এলাকায় থাকার ফলে দেশের কথা তেমন একটা মনে পড়ে না। কারণ সব সময় মনে হয় দেশের মাঝেই আছি যেদিকে তাকাই সব আপন লোকজন দেখতে পাই।

অফিসের কাজে হঠাৎ প্রয়োজন পড়ল আল-বুফেরায় যাওয়ার। কোনো বিলম্ব না করে যাওয়ার আয়োজন শুরু করলাম। আল-বুফেরা সম্পর্কে আমি আগে থেকেই জেনেছি। পর্তুগালের সর্ব দক্ষিণের একটি পর্যটন শহর হলো আল-বুফেরা যা আলগ্রাভ অঞ্চলের অধিভুক্ত এবং লিসবন থেকে প্রায় ২৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

একসময়ের মৎস্যপ্রধান গ্রাম এখন বিশ্বের অন্যতম পর্যটক আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এই সমুদ্রতীরবর্তী শহরটি বিশ্বের সেরা ১০টি পর্যটন শহরের একটি। তাহলে বুঝতেই তো পারছেন কেমন উৎফুল্ল বোধ করছি যাওয়া ও দেখার জন্য।

যেহেতু অফিসের কাজে যেতে হচ্ছে তাই একটু তাড়াতাড়ি রওনা দিলাম যদিও দুদিনের সফর তবুও প্রথম দিন কাজ শেষ করে ঘুড়ে বেড়ানোর সুযোগ হাতছাড়া করব কেন!

লিসবন থেকে কাছের এক ছোট ভাই কাম বন্ধুকে সঙ্গে নিলাম এবং যেহেতু আমার ঘাড়ি আছে ছোট ভাইয়ের পরামর্শে ব্লা ব্লা কার অ্যাপের মাধ্যমে আরো দুইজন যাত্রী নিলাম। এখানে বলে রাখি ইউরোপে মানুষ ব্যক্তিগত গাড়িতে এক শহর থেকে অন্য শহর এমনকি এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়ার সময় তারা রাইড শেয়ার করে তাতে উভয়ের লাভবান হয়।

এখানে সবাই নিজের গাড়ি নিজে ড্রাইভ করে এবং অনেকে তাদের রাইড শেয়ার করতে পছন্দ করে। কারো মধ্যে কোনো অহংকার অথবা ভাব কাজ করে না। Bla Bla Car অ্যাপের মাধ্যমে সহজে এমনটি করা যায় এবং যা অত্যন্ত জনপ্রিয়।

সকাল ৭টায় রওনা হয়ে তিন ঘণ্টায় মাঝখানে কফি পানের বিরতিসহ আমরা পৌঁছে গেলাম ২৬০ কিলোমিটার দূরের শহর আল-বুফেরায়। লিসবন থেকে বাস ও ট্রেন উভয় বাহন আছে আল-বুফেরার যাওয়ার।

আঁকাবাঁকা হাইওয়ে বড় বড় পাহাড়ের কোলঘেঁষে বয়ে গেছে। চারদিকে পাহাড় সবুজ প্রান্তর ও গাছগাছালিতে মনোরম এক সুন্দর পরিবেশ এবং তা যে কোনো ভ্রমণপিয়াসী মানুষের মনকে ছুঁয়ে যাবে।

এত মনোমুগ্ধকর রাস্তা ছিল যে ২৬০ কিমি তিন ঘণ্টায় পাড়ি দিয়েও শরীরে কোনো ক্লান্তি আসেনি! বরং শহরে প্রবেশের পরে মন আরও ভরে উঠল কেননা লিসবনে থেকে যেমনটা কল্পনা করেছি তার থেকে সম্পন্ন আলাদা এক শহর।

আবহাওয়া ছিল খুবই চমৎকার যেন চারদিকে সূর্যমামা খেলা করছে। মনে হচ্ছে কোনো শিল্পীর তুলিতে যত্ন করে আঁকা কোনো ছবি।

অনেকে বলতে শুনেছি ছবির মতো সুন্দর কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে তার চেয়ে বেশি কিছু এই শহর। আধুনিকতা ও প্রাকৃতিক পরিবেশের মেলবন্ধনে একটি পরিপূর্ণ নগরী। পাহাড়ের কোলঘেঁষে রাস্তা ও বাড়িঘরগুলো নিমিষে যে কারো মন ভালো করে দেবে।

একটি স্মার্ট শহর বলতে যা বুঝি তার চেয়ে বেশি মনে হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত হাজার হাজার পর্যটকে মুখরিত এক শহর। নানান রঙের পর্যটকবাহী sight seeing বাসগুলোর অবিরাম ছুটে চলা বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষক স্থানে।

আমিও আর দেরি না করে অফিসের কাজ সেরে নিতে লাগলাম যেন একটু তাড়াতাড়ি ঘুরতে পারি। আগে থেকে হোটেল বুকিং দেয়া ছিল তাই চেক ইন সেরে মালামাল রেখে বেরিয়ে পড়লাম ও দুপুরের খাবারের আগে অফিসিয়াল কাজ শেষ করে নিলাম।

শহরটি প্রধানত দুটি অঞ্চলে পরিচিত ওল্ড টাউন ও নিউ টাউন। ওল্ড টাউনে শতাধিকের বেশি ঐতিহ্যবাহী পর্তুগিজ খাবারের হোটেল রয়েছে এবং আমরা ওদের একটিতে রাতের খাবার শেষ করলাম।

নিউ টাউনে রয়েছে অসংখ্য চোখ ধাঁধানো স্টিপবার যেখানে ২৪ ঘণ্টা বিভিন্ন ধরনের পানীয় ব্যবস্থা ও পার্টি করার সুযোগ। রাস্তায় নিয়ন লাইটের আলোয় এই এক অন্য জগৎ মনে হয়েছিল।

বাচ্চাদের জন্য রয়েছে থিম পার্ক ও ওয়াটার পার্ক এবং অন্যান্য বিনোদনের ব্যবস্থা। অসংখ্য ৩,৪ ও ৫ তারকা হোটেলসহ রয়েছে আধুনিক পর্যটনের সব সুযোগ-সুবিধা যা নিমিষে যে কোনো ভ্রমণপিয়াসী মানুষের মন কেড়ে নেবে।

এখানকার ঘরবাড়িগুলো ছিল দর্শনীয় ঠিক যেন প্রকৃতি মায়ের কোলে বসবাস করছে মানুষজন কিন্তু প্রকৃতির কোনো ক্ষতি না করে। আটলান্টিকের পাড়ের সমুদ্রসৈকত যে এত সুন্দর হতে পারে না দেখলে কখনো বিশ্বাস হতো না।

হাজার হাজার পর্যটকে মুখরিত ছিল সৈকত এবং আমরা সমুদ্রে গোসল করে কুলে এসে আবার মিষ্টি পানিতে শরীর ভেজালাম।

সমুদ্রতীরবর্তী রাস্তার দুপাশে অসংখ্য ছোট-বড় পর্তুগিজ সুভিনিয়রের দোকান যার বেশির ভাগই বাংলাদেশিদের দখলে। আমরা ঘুরেফিরে সামান্য কেনাকাটা ও সেরে নিলাম।

[প্রিয় পাঠক, আপনিও দৈনিক যুগান্তর অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন[email protected]এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

[প্রিয় পাঠক, আপনিও দৈনিক যুগান্তর অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন-[email protected]-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.