সড়কপথে সুন্দরবন ভ্রমণ
jugantor
সড়কপথে সুন্দরবন ভ্রমণ

  আরএস মাহমুদ হাসান  

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২০:০৩:৫৪  |  অনলাইন সংস্করণ

বড় ভাই আযহার মাহমুদ ঢাকাতে একদিন বলেছিল, ‘তোমাদের সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জে বাস থেকে নামলেই সুন্দরবন খুব কাছে থেকে দেখা যায়। বাগেরহাটের মোংলা হয়ে সুন্দরবন তো সবাই যায়।’ সত্যিই এর আগে আমি নিজেও দু’বার মোংলা দিয়েই সুন্দরবন গিয়েছি। সাতক্ষীরা দিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণ নিঃসন্দেহে নতুন এক মাত্রা যোগ করবে। সাতক্ষীরা দিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণের সিদ্ধান্ত হলো। সবাই মুন্সিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে এসে একত্রিত হব।

শ্যামনগরের নওয়াবেকিতে আছেন আমার পরিচিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবু নাইম ভাই। আযহার মাহমুদ ভাই রাতেই ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছেন, নাইম ভাইয়ের বাসায় রেস্ট নিয়ে দুপুরে মুন্সিগঞ্জ যাবেন। আমি সাতক্ষীরা শহর থেকে সকাল ১০টায় রওনা দিলাম। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছোট ভাই আজাহার ইসলামও শ্যামনগরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।

দুপুরের পরেই আযহার ভাই, নাইম ভাই ও আমি মুন্সিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে একত্রিত হলাম। আমরা একেবারে সুন্দরবনের ভিতরে বরসা রিসোর্টে থাকার সিদ্ধান্ত নিলাম। রুমে ব্যাগ রেখে ফ্রেস হয়ে আশপাশে কি আছে তার সৌন্দর্য উপভোগ করতে বেরিয়ে গেলাম। পাশেই দেখা মিলল আকাশনীলা ইকো ট্যুরিজম সেন্টারের, টিকিট নিয়ে কাঠের রাস্তা দিয়ে এগিয়ে চললে যতদূর চোখ যায়, শুধুই সবুজের সীমানা। শরীরে এসে ছুঁয়ে যায় বঙ্গোপসাগর থেকে ছুটে আসা জলভেজা শীতল হাওয়া। এখানেই পরিচয় হল ফটোগ্রাফার মামুনের সঙ্গে। সে তার ইউটিউব চ্যানেলের জন্য ব্লগ বানাতে এসেছে। ওর সঙ্গে কথা হলো কাল ও আমাদের সফরসঙ্গী হবে। নৌকাতে করে সুন্দরবনে বেড়ানো অন্যরকম এক আনন্দের, কাল আমরা নতুন এক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে যাচ্ছি।

রাত ৮টার দিকে আজাহার ইসলাম মুন্সিগঞ্জ এসে পৌঁছাল। রাতে খাওয়া-দাওয়া করে যে যার মতো ঘুমাতে চলে গেলাম। পরদিন সকালে মুস্তাফিজুর রহমান ও মামুন বরসা রিসোর্টে চলে এলো। আমরা ৬ জনের একটি দল তৈরি সুন্দরবনে বেড়ানোর জন্য।

সকাল ১০টায় বরসা রিসোর্টের পাশে চুনা নদীর কোলঘেঁষা কলবাড়ি মোড়ে নাশতা সেরে নিলাম। বলে রাখা ভালো, এই কলবাড়ি চুনা নদীর পাড়েই ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি বিকালে দুটি বাঘকে ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয় টাইগার টিমের সদস্যরা ও বন বিভাগ যৌথভাবে সন্ধ্যায় মাইকিং করে স্থানীয়দের সতর্ক করেছিল। তারপরও পরদিন তিন জেলে কাঁকড়া ধরতে সুন্দরবনে প্রবেশ করলে বাঘের কবলে পড়ে ২ জন নিহত ১ জন আহত হন।

কিছু শুকনা খাবার নিয়ে আমরা ভ্যানগাড়িতে চড়ে বুড়িগোয়ালিনির নীলডুমুর খেয়াঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। যেতে যেতে রাস্তার দু’ধারে চোখে পড়ল অসংখ্য চিংড়ি আর কাঁকড়া ঘের। ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের কাঁকড়া ঘেরটি নীলডুমুর যেতে রাস্তার বামপাশেই পড়বে। স্থানীয় ওসির মাধ্যমে মুন্সিগঞ্জ বন বিভাগের কাছ থেকে অনুমতি (পাস) নিয়ে ২ জন গার্ড সঙ্গে করে চলে গেলাম ইঞ্জিনচালিত নৌকার ঘাটে। খোলপেটুয়া নদীতে নোঙর করা আমাদের জন্য নির্ধারিত নৌকাতেই উঠলাম। খোলপেটুয়া নদীর বুক চিরে এগিয়ে যেতে থাকল আমাদের নৌকা।