বই পড়ায় সেরা ১০ অভ্যাস
jugantor
বই পড়ায় সেরা ১০ অভ্যাস

  রিয়াজ রিপন  

১৮ মার্চ ২০২১, ২০:২৬:২৯  |  অনলাইন সংস্করণ

ফেব্রুয়ারি শেষ। তাই বইমেলার কথা ভুলে যাওয়া কিংবা বই পড়ার প্রতি উদাসীনতার ভাব দেখানো অনেকেরই প্রতীয়মান হয়ে উঠতে পারে। তবে যদি বই পড়ার অভ্যাস ধরে রাখা যায় তাহলে ব্যক্তি উন্নয়ন তথা জাতীয় উন্নয়ন সন্নিকটে। বই পড়ায় অগণিত অভ্যাস থাকলেও সেরা দশ অভ্যাস মেনে চললে আত্মার উন্নতি সাধন অবধারিত। চলুন জেনে নিই কিছু অভ্যাস, দেখবেন এতেই বই পড়ার প্রথা চলমান রাখতে পারবেন।

সময়কে ছকে বেঁধে রাখুন
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যস্ততার কোনো কমতি নেই। তাই বলে কিছু সময় বের করা যাবে না এমনটাও নয়। সময়মতো জরুরি কাজ করে নিলে কিছুটা সময় পাওয়া যাবে বই পড়ার জন্যে। তাই আর না ভেবে কিছু সময় বের করে নিন। সময়কে একটা ছকের মাঝে বেঁধে নিন। এভাবে প্রতিনিয়ত বই পড়ার অভ্যাস করলে অনেকাংশে জ্ঞানের চর্চা করা যাবে।

হাতে বই রাখার অভ্যাস করুন
হাতে বই থাকলে অনেকেই ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করে থাকেন। একজন ব্যক্তি যখন বই নাড়াচাড়া করেন, হাতে নিয়ে চলাচল করেন, অনেক সময়ই বইয়ের পাতা খোলার পরিপ্রেক্ষিতে বইয়ের প্রতি মায়া জন্মে। এভাবেও বই পড়ার অভ্যাসে আসা যায়।

বইয়ের রুচিশীল তালিকা তৈরি করুন
বাসায় যেসব বই অগোছালোভাবে পড়ে থাকে সেগুলো গুছিয়ে বইয়ের তাকে উঠিয়ে রেখে দিলে এবং একটি তালিকা তৈরি করলে বই পড়তে বা পড়ার মানসিকতা তৈরি করা সহজ হয়ে যায়। যাদের নিজস্ব ব্লগ রয়েছে তারা চাইলে সেখানে বই সম্পর্কে বিস্তারিত মন্তব্য কিংবা পড়ার তালিকা সংগ্রহ করে রাখতে পারেন। যারা অবশ্য ইন্টারনেট তেমন চালান না তারা ডায়রিতে লিপিবদ্ধ করতে পারেন।

নীরব জায়গা খুঁজুন
বই পড়ার জন্য নির্জন স্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যদিও এমন স্থান খুঁজে পাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য। শহরে বা এর আশপাশে অনেক স্থানেই এখন বই পড়ার জন্য ক্যাফে দেখা যায়; যা পাঠক সমাজকে বেশ আনন্দ দেয়। শহরের বাইরে প্রয়োজনে খোলা মাঠের পাশে বা বাড়ির উঠানের পাশে বাগিচায় বসেও বই পড়ার অভ্যাস করতে পারেন। মোট কথা, আপনার সুন্দর একটি স্থান হলেই শান্ত পরিবেশে পাঠের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।

প্রযুক্তির অতি ব্যবহার থেকে দূরে থাকুন
আজকাল আমরা এতই প্রযুক্তিনির্ভর হচ্ছি যে বই পড়া তো দূরের কথা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজও সময়মতো করার সময় পাই না। ফলে জ্ঞান অর্জন থেকে পিছিয়ে পড়ছি। প্রযুক্তির ব্যবহারে পাঠাভ্যাস গড়া অসুস্থ মানসিকতার লক্ষণ, অনেক জ্ঞানীরা মনে করে থাকেন। কথাটা অবশ্য একেবারে ফেলনা নয়। সেদিক ভেবে প্রযুক্তির ব্যবহার কমিয়ে কাগজের বই পড়ার অভ্যাস করা আমাদের সবার প্রয়োজন।

বই বাজারে ঘোরার অভ্যাস করুন
সাপ্তাহিক ছুটির দিন বন্ধুমহল নিয়ে কিংবা স্বজনদের নিয়ে বাৎসরিক বইমেলা অথবা স্থায়ী বই বাজার ঘোরার অভ্যাস গড়ুন। এতে নিয়মিত নতুন নতুন বই প্রকাশনা ও লেখক সম্পর্কে জানা যাবে। কোন বই অচিরেই প্রকাশ পাবে, এমনকি বইয়ের যাচাই-বাছাই বই বিপণিতে গেলেই অনেকটা ধারণা জন্মে।

পাঠাগারে যাওয়া-আসা করুন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষাকেন্দ্রিক পাঠাগার বা জাতীয় পাঠাগারে নিয়মিত যাতায়াতের অভ্যাস করলে জ্ঞানচর্চার অর্ধেক হয়ে যায়। নিয়মিত লাইব্রেরিতে চলাচল করুন। বই পড়ার উত্তম স্থান লাইব্রেরি। নানান বইয়ের সংগ্রহ থেকে পছন্দের সেরা বইটি পড়ে পেতে পারেন এক আকাশ আনন্দ এবং পাশাপাশি জ্ঞান, যা আপনার মানসিক বিকাশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

দিনে অন্তত কিছু সময় বই পড়ুন
প্রতিদিনকার রুটিন থেকে অল্প কিছু সময় বের করুন, বই পড়ুন এবং নীরব সংকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যান। মনের দ্বিধা-দ্বন্দ্বকে সরিয়ে অন্ততপক্ষে কিছু সময়ের জন্য হলেও বই পড়ুন। দেখবেন আপনার দিনকাল ভালো কাটবে, মনের কোণে জমা বীভৎস চিন্তা দূর হবে।

বছরে নির্দিষ্ট সংখ্যক বই পড়ার লক্ষ্যে পৌঁছান
আপনি হয়তো অনেক বই পড়েছেন। কত পড়েছেন তা হয়তো মনেও থাকে না। এগুলোর তালিকা করার পাশাপাশি নতুন বছরের নতুন দৃঢ়সংকল্প তৈরি করুন। আগের বছর অপেক্ষা বেশি বই পড়ার অভ্যাস করুন। দেখবেন আপনার পড়ার অভ্যাস বেড়ে চলছে। জেনে রাখুন, বই পড়লে কেউ অমানুষ হয় না।

পড়ার মাঝে আনন্দ খুঁজুন
যাই পড়ুন, তাতে আনন্দ খুঁজে বের করুন। যে কাজে আনন্দ নেই সে কাজ নিষ্প্রাণ। তাই আপনার পছন্দগুলো গুছিয়ে নিন। সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান, দর্শন, কিংবা যেকোনো বিষয়কে নির্বাচিত করে আনন্দে আনন্দে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলুন। আশা করছি, আপনার মানবিক গুণাবলী উন্নয়নের সাথে সাথে আপনার লক্ষ্য অনেকটাই সহজলভ্য হয়ে উঠবে।

[প্রিয় পাঠক, আপনিও দৈনিক যুগান্তর অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন-jugantorlifestyle@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

বই পড়ায় সেরা ১০ অভ্যাস

 রিয়াজ রিপন 
১৮ মার্চ ২০২১, ০৮:২৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ফেব্রুয়ারি শেষ। তাই বইমেলার কথা ভুলে যাওয়া কিংবা বই পড়ার প্রতি উদাসীনতার ভাব দেখানো অনেকেরই প্রতীয়মান হয়ে উঠতে পারে। তবে যদি বই পড়ার অভ্যাস ধরে রাখা যায় তাহলে ব্যক্তি উন্নয়ন তথা জাতীয় উন্নয়ন সন্নিকটে। বই পড়ায় অগণিত অভ্যাস থাকলেও সেরা দশ অভ্যাস মেনে চললে আত্মার উন্নতি সাধন অবধারিত। চলুন জেনে নিই কিছু অভ্যাস, দেখবেন এতেই বই পড়ার প্রথা চলমান রাখতে পারবেন।

সময়কে ছকে বেঁধে রাখুন
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যস্ততার কোনো কমতি নেই। তাই বলে কিছু সময় বের করা যাবে না এমনটাও নয়। সময়মতো জরুরি কাজ করে নিলে কিছুটা সময় পাওয়া যাবে বই পড়ার জন্যে। তাই আর না ভেবে কিছু সময় বের করে নিন। সময়কে একটা ছকের মাঝে বেঁধে নিন। এভাবে প্রতিনিয়ত বই পড়ার অভ্যাস করলে অনেকাংশে জ্ঞানের চর্চা করা যাবে।

হাতে বই রাখার অভ্যাস করুন
হাতে বই থাকলে অনেকেই ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করে থাকেন। একজন ব্যক্তি যখন বই নাড়াচাড়া করেন, হাতে নিয়ে চলাচল করেন, অনেক সময়ই বইয়ের পাতা খোলার পরিপ্রেক্ষিতে বইয়ের প্রতি মায়া জন্মে। এভাবেও বই পড়ার অভ্যাসে আসা যায়।

বইয়ের রুচিশীল তালিকা তৈরি করুন
বাসায় যেসব বই অগোছালোভাবে পড়ে থাকে সেগুলো গুছিয়ে বইয়ের তাকে উঠিয়ে রেখে দিলে এবং একটি তালিকা তৈরি করলে বই পড়তে বা পড়ার মানসিকতা তৈরি করা সহজ হয়ে যায়। যাদের নিজস্ব ব্লগ রয়েছে তারা চাইলে সেখানে বই সম্পর্কে বিস্তারিত মন্তব্য কিংবা পড়ার তালিকা সংগ্রহ করে রাখতে পারেন। যারা অবশ্য ইন্টারনেট তেমন চালান না তারা ডায়রিতে লিপিবদ্ধ করতে পারেন।

নীরব জায়গা খুঁজুন
বই পড়ার জন্য নির্জন স্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যদিও এমন স্থান খুঁজে পাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য। শহরে বা এর আশপাশে অনেক স্থানেই এখন বই পড়ার জন্য ক্যাফে দেখা যায়; যা পাঠক সমাজকে বেশ আনন্দ দেয়। শহরের বাইরে প্রয়োজনে খোলা মাঠের পাশে বা বাড়ির উঠানের পাশে বাগিচায় বসেও বই পড়ার অভ্যাস করতে পারেন। মোট কথা, আপনার সুন্দর একটি স্থান হলেই শান্ত পরিবেশে পাঠের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। 

প্রযুক্তির অতি ব্যবহার থেকে দূরে থাকুন
আজকাল আমরা এতই প্রযুক্তিনির্ভর হচ্ছি যে বই পড়া তো দূরের কথা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজও সময়মতো করার সময় পাই না। ফলে জ্ঞান অর্জন থেকে পিছিয়ে পড়ছি। প্রযুক্তির ব্যবহারে পাঠাভ্যাস গড়া অসুস্থ মানসিকতার লক্ষণ, অনেক জ্ঞানীরা মনে করে থাকেন। কথাটা অবশ্য একেবারে ফেলনা নয়। সেদিক ভেবে প্রযুক্তির ব্যবহার কমিয়ে কাগজের বই পড়ার অভ্যাস করা আমাদের সবার প্রয়োজন।

বই বাজারে ঘোরার অভ্যাস করুন
সাপ্তাহিক ছুটির দিন বন্ধুমহল নিয়ে কিংবা স্বজনদের নিয়ে বাৎসরিক বইমেলা অথবা স্থায়ী বই বাজার ঘোরার অভ্যাস গড়ুন। এতে নিয়মিত নতুন নতুন বই প্রকাশনা ও লেখক সম্পর্কে জানা যাবে। কোন বই অচিরেই প্রকাশ পাবে, এমনকি বইয়ের যাচাই-বাছাই বই বিপণিতে গেলেই অনেকটা ধারণা জন্মে।

পাঠাগারে যাওয়া-আসা করুন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষাকেন্দ্রিক পাঠাগার বা জাতীয় পাঠাগারে নিয়মিত যাতায়াতের অভ্যাস করলে জ্ঞানচর্চার অর্ধেক হয়ে যায়। নিয়মিত লাইব্রেরিতে চলাচল করুন। বই পড়ার উত্তম স্থান লাইব্রেরি। নানান বইয়ের সংগ্রহ থেকে পছন্দের সেরা বইটি পড়ে পেতে পারেন এক আকাশ আনন্দ এবং পাশাপাশি জ্ঞান, যা আপনার মানসিক বিকাশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

দিনে অন্তত কিছু সময় বই পড়ুন
প্রতিদিনকার রুটিন থেকে অল্প কিছু সময় বের করুন, বই পড়ুন এবং নীরব সংকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যান। মনের দ্বিধা-দ্বন্দ্বকে সরিয়ে অন্ততপক্ষে কিছু সময়ের জন্য হলেও বই পড়ুন। দেখবেন আপনার দিনকাল ভালো কাটবে, মনের কোণে জমা বীভৎস চিন্তা দূর হবে।

বছরে নির্দিষ্ট সংখ্যক বই পড়ার লক্ষ্যে পৌঁছান
আপনি হয়তো অনেক বই পড়েছেন। কত পড়েছেন তা হয়তো মনেও থাকে না। এগুলোর তালিকা করার পাশাপাশি নতুন বছরের নতুন দৃঢ়সংকল্প তৈরি করুন। আগের বছর অপেক্ষা বেশি বই পড়ার অভ্যাস করুন। দেখবেন আপনার পড়ার অভ্যাস বেড়ে চলছে। জেনে রাখুন, বই পড়লে কেউ অমানুষ হয় না।

পড়ার মাঝে আনন্দ খুঁজুন
যাই পড়ুন, তাতে আনন্দ খুঁজে বের করুন। যে কাজে আনন্দ নেই সে কাজ নিষ্প্রাণ। তাই আপনার পছন্দগুলো গুছিয়ে নিন। সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান, দর্শন, কিংবা যেকোনো বিষয়কে নির্বাচিত করে আনন্দে আনন্দে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলুন। আশা করছি, আপনার মানবিক গুণাবলী উন্নয়নের সাথে সাথে আপনার লক্ষ্য অনেকটাই সহজলভ্য হয়ে উঠবে।
 

[প্রিয় পাঠক, আপনিও দৈনিক যুগান্তর অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন-jugantorlifestyle@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন