টিনএজ প্রেম
jugantor
টিনএজ প্রেম

  রবিউল কমল  

০৩ আগস্ট ২০২১, ০৩:৫২:৪৩  |  অনলাইন সংস্করণ

একবার একটু নিজের পেছনের দিনগুলোতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করুন তো। আচ্ছা আপনার অথবা আপনার বন্ধু-বান্ধবদের সেই প্রথম ভালোবাসা, ভালোলাগার কথা মনে পড়ে কি? প্রতিদিন পাশের বাড়ির যে ছেলেটির সাথে অনেক মজা করা,আড্ডা দেয়া হঠাৎ করে কোনো একদিন থেকে তাকে অন্যভাবে ভালো লাগতে শুরু করা। কিংবা বন্ধুর ভাইয়ের কাছে প্রতিদিন পড়তে যাওয়া, কিন্তু যেদিন বাড়ি ফিরে দেখলেন অঙ্ক বইয়ের ভিতর ছোট একটি চিরকুট, আর তাতে ছেলেটির মনের কথা লেখা। সেদিন নিশ্চয়ই নিজেকে অন্যরকম লেগেছিল?

বয়ঃসন্ধির শুরুতেই তো জীবনের প্রথম ভালোলাগা, ভালোবাসা উঁকি দেয়। ভয় ভয় মনে সবার আড়ালে একটু দেখা করা, বন্ধুদের হাত দিয়ে চিঠি দেওয়া-নেওয়া, এ সবই তো জড়িয়ে আছে বয়ঃসন্ধির প্রেমের সঙ্গে। তখন মনের মধ্যে সবসময় একটা চাপা উত্তেজনা কাজ করত।

কিন্তু দিন বদলের সাথে বদলে গেছে টিনএজারদের চরিত্রেও। এখন লোকজন কী বলবে তা নিয়ে খুব বেশি ভাবে না তারা। প্রায় সবার হাতে আছে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেটে অবাধ প্রবেশ। এসবের হাত ধরে পাল্টেছে টিনেজ প্রেম। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে প্রতিদিন চ্যাট হচ্ছে নতুন নতুন মানুষের সাথে। এখনকার টিনএজারদের মধ্যে সবসময় একটি অন্যরকম অনুভূতি কাজ করে; যা অনেক সময় মা-বাবার জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। খুব সাবধানে বাবা-মাদের এসব বিষয় মোকাবেলা করতে হবে।

কী করবেন?

# আপনার ছেলে বা মেয়ে কোনো সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে জানতে পারলে প্রথমেই রেগে যাবেন না। নিজের টিনএজের কথা ভাবুন,আপনার জীবনেও নিশ্চয়ই এমন ঘটনা ঘটেছিল। বয়ঃসন্ধির সময় শরীর ও মনের নানা পরিবর্তন আসে, আর সেজন্য বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ বোধ করা খুবই স্বাভাবিক। এত বিস্মিত হওয়া বা হতাশ হওয়ার কিছু নেই। ছেলে বা মেয়ের কাছে গল্পচ্ছলে তার বন্ধু-বান্ধবদের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করুন। তবে অতিরিক্ত উৎসাহ দেখানো বা একবারে চুপ থাকা উচিত হবে না। যতটা সম্ভব স্বাভাবিকভভাবে জেনে নিন তার কারো প্রতি বিশেষ টান কা আগ্রহ আছে কিনা, সে এটি নিয়ে কতদূর এগিয়েছে, তার বন্ধুটি কোন ধরনের মানুষ, তাদের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না তা জেনে নিন।

আপনার কথাবার্তায় যেন সে বুঝতে না পারে আপনি তাকে চাপ দিচ্ছেন বা সে অন্যায় কিছু করছে। আরো ভালো হয় যদি আপনি সময় করে আপনার ছেলে বা মেয়ের সেই বন্ধুটি সহ অন্য বন্ধু-বান্ধবদের আপনার বাসায় নিমন্ত্রণ করেন। সবার সাথে অবশ্যই স্বাভাবিক এবং স্নেহপ্রবণ ব্যবহার করবেন। তবে ছেলে বা মেয়েটির সাথে আলাদাভাবে কথা বলুন। জেনে নেন তার পড়াশোনা, পরিবার, ধ্যানধারণা সম্পর্কে। তাহলে আপনি খুব সহজেই বুঝতে পারবেন সে আসলে মানুষ হিসেবে কেমন।

# আপনার সন্তান ও তার বিশেষ বন্ধু কিন্তু অপ্রাপ্ত বয়স্ক। তাই এখনি তাদের কাছ থেকে ভবিষ্যৎ জীবনের কোনো কমিটমেন্ট আশা করবেন না। তাদের বন্ধুর মতোই থাকতে দিন। বড় হওয়ার পরেও যদি এ সম্পর্ক থেকে যায়, তার থেকে ভালো কিছুই আর হতে পারে না। তাই এখন থেকেই ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাদের স্বাভাবিক বিকাশে কোনোভাবেই বাধা হয়ে দাঁড়াবেন না।

# ছেলেমেয়ের কোনো বন্ধু বা তার পরিবার সম্পর্কে অশোভন মন্তব্য করবেন না। এতে আপনি আপনার সন্তানের কাছে ছোট হয়ে যাবেন। তবে হ্যাঁ, সন্তানের বন্ধুর ব্যাপারে উদার হলেও বাড়ির বেসিক ডিসিপ্লিনের ব্যাপারে কোনো আপস করবেন না। নির্দিষ্ট সময়ে বাড়ি ফেরা, দেরি হলে ফোন করে জানিয়ে দেওয়া, না জানিয়ে কোথাও চলে যাওয়া, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে কথা বলা বা কম্পিউটারে চ্যাট করা- এসব পরোক্ষভাবে আপনার সন্তানের ক্ষতি করতে পারে। তাই চেষ্টা করুন নিজের হাতে এসব কন্ট্রোল করার।

# বয়ঃসন্ধির সময় একটা বেপরোয়া, বেহিসাবি ভাব অনেক ছেলেমেয়ের আচার আচরণেই দেখা দিতে শুরু করে। অভিভাবকদের তদারকি তাদের কাছে ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ বলে মনে হয়। যদি দেখেন আপনার ছেলে বা মেয়ে তার সম্পর্কটা ঠিক মতো হ্যান্ডেল করতে পারেছে না বা ওর ব্যক্তিগত জীবন এতে প্রভাবিত হচ্ছে, পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে, তাহলে প্রথমেই তাকে বকাঝকা করবেন না। ওকে বন্ধুর মতো করে বোঝানোর চেষ্টা করুন।

# আপনার সন্তানকে সময় দিন। নিজের যতোই ব্যস্ততা থাকুক না কেন, নিয়মিত ওর স্কুল, টিউশন- সবকিছু সম্পর্কে খোঁজখবর রাখুন। চেষ্টা করুন ওর বন্ধু হয়ে ভরসার মানুষ হয়ে ওঠার, যাতে ও আপনার থেকে কোনো কিছু লুকিয়ে না রাখে। একসাথে শপিং করুন, সিনেমা দেখুন, তাহলে আপনাদের বন্ধন আরও শক্ত হবে।

[প্রিয় পাঠক, আপনিও দৈনিক যুগান্তর অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন-jugantorlifestyle@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

টিনএজ প্রেম

 রবিউল কমল 
০৩ আগস্ট ২০২১, ০৩:৫২ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

একবার একটু নিজের পেছনের দিনগুলোতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করুন তো। আচ্ছা আপনার অথবা আপনার বন্ধু-বান্ধবদের সেই প্রথম ভালোবাসা, ভালোলাগার কথা মনে পড়ে কি? প্রতিদিন পাশের বাড়ির যে ছেলেটির সাথে অনেক মজা করা,আড্ডা দেয়া হঠাৎ করে কোনো একদিন থেকে তাকে অন্যভাবে ভালো লাগতে শুরু করা। কিংবা বন্ধুর ভাইয়ের কাছে প্রতিদিন পড়তে যাওয়া, কিন্তু যেদিন বাড়ি ফিরে দেখলেন অঙ্ক বইয়ের ভিতর ছোট একটি চিরকুট, আর তাতে ছেলেটির মনের কথা লেখা। সেদিন নিশ্চয়ই নিজেকে অন্যরকম লেগেছিল? 

বয়ঃসন্ধির শুরুতেই তো জীবনের প্রথম ভালোলাগা, ভালোবাসা উঁকি দেয়। ভয় ভয় মনে সবার আড়ালে একটু দেখা করা, বন্ধুদের হাত দিয়ে চিঠি দেওয়া-নেওয়া, এ সবই তো জড়িয়ে আছে বয়ঃসন্ধির প্রেমের সঙ্গে। তখন মনের মধ্যে সবসময় একটা চাপা উত্তেজনা কাজ করত।

কিন্তু দিন বদলের সাথে বদলে গেছে টিনএজারদের চরিত্রেও। এখন লোকজন কী বলবে তা নিয়ে খুব বেশি ভাবে না তারা। প্রায় সবার হাতে  আছে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেটে অবাধ প্রবেশ। এসবের হাত ধরে পাল্টেছে টিনেজ প্রেম। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে প্রতিদিন চ্যাট হচ্ছে নতুন নতুন মানুষের সাথে। এখনকার টিনএজারদের মধ্যে সবসময় একটি অন্যরকম অনুভূতি কাজ করে; যা অনেক সময় মা-বাবার জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। খুব সাবধানে বাবা-মাদের এসব বিষয় মোকাবেলা করতে হবে। 

কী করবেন? 

# আপনার ছেলে বা মেয়ে কোনো সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে জানতে পারলে প্রথমেই রেগে যাবেন না। নিজের টিনএজের কথা ভাবুন,আপনার জীবনেও নিশ্চয়ই এমন ঘটনা ঘটেছিল। বয়ঃসন্ধির সময় শরীর ও মনের নানা পরিবর্তন আসে, আর সেজন্য বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ বোধ করা খুবই স্বাভাবিক। এত বিস্মিত হওয়া বা হতাশ হওয়ার কিছু নেই। ছেলে বা মেয়ের কাছে গল্পচ্ছলে তার বন্ধু-বান্ধবদের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করুন। তবে অতিরিক্ত উৎসাহ দেখানো বা একবারে চুপ থাকা উচিত হবে না। যতটা সম্ভব স্বাভাবিকভভাবে জেনে নিন তার কারো প্রতি বিশেষ টান কা আগ্রহ আছে কিনা, সে এটি নিয়ে কতদূর এগিয়েছে, তার বন্ধুটি কোন ধরনের মানুষ, তাদের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না তা জেনে নিন।

আপনার কথাবার্তায় যেন  সে বুঝতে না পারে আপনি তাকে চাপ দিচ্ছেন বা সে অন্যায় কিছু করছে। আরো ভালো হয় যদি আপনি সময় করে আপনার ছেলে বা মেয়ের সেই বন্ধুটি সহ অন্য বন্ধু-বান্ধবদের আপনার বাসায় নিমন্ত্রণ করেন। সবার সাথে অবশ্যই স্বাভাবিক এবং স্নেহপ্রবণ ব্যবহার করবেন। তবে ছেলে বা মেয়েটির সাথে আলাদাভাবে কথা বলুন। জেনে নেন তার পড়াশোনা, পরিবার, ধ্যানধারণা সম্পর্কে। তাহলে আপনি খুব সহজেই বুঝতে পারবেন সে আসলে মানুষ হিসেবে কেমন। 

# আপনার সন্তান ও তার বিশেষ বন্ধু কিন্তু অপ্রাপ্ত বয়স্ক। তাই এখনি তাদের কাছ থেকে ভবিষ্যৎ জীবনের কোনো কমিটমেন্ট আশা করবেন না। তাদের বন্ধুর মতোই থাকতে দিন। বড় হওয়ার পরেও যদি এ সম্পর্ক থেকে যায়, তার থেকে ভালো কিছুই আর হতে পারে না। তাই এখন থেকেই ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাদের স্বাভাবিক বিকাশে কোনোভাবেই বাধা হয়ে দাঁড়াবেন না।  

# ছেলেমেয়ের কোনো বন্ধু বা তার পরিবার সম্পর্কে অশোভন মন্তব্য করবেন না। এতে আপনি আপনার সন্তানের কাছে ছোট হয়ে যাবেন। তবে হ্যাঁ, সন্তানের বন্ধুর ব্যাপারে উদার হলেও বাড়ির বেসিক ডিসিপ্লিনের ব্যাপারে কোনো আপস করবেন না। নির্দিষ্ট সময়ে বাড়ি ফেরা, দেরি হলে ফোন করে জানিয়ে দেওয়া, না জানিয়ে কোথাও চলে যাওয়া, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে কথা বলা বা কম্পিউটারে চ্যাট করা- এসব পরোক্ষভাবে আপনার সন্তানের ক্ষতি করতে পারে। তাই চেষ্টা করুন নিজের হাতে এসব কন্ট্রোল করার। 

# বয়ঃসন্ধির সময় একটা বেপরোয়া, বেহিসাবি ভাব অনেক ছেলেমেয়ের আচার আচরণেই দেখা দিতে শুরু করে। অভিভাবকদের তদারকি তাদের কাছে ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ বলে মনে হয়। যদি দেখেন আপনার ছেলে বা মেয়ে তার সম্পর্কটা ঠিক মতো হ্যান্ডেল করতে পারেছে না বা ওর ব্যক্তিগত জীবন এতে প্রভাবিত হচ্ছে, পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে, তাহলে প্রথমেই তাকে বকাঝকা করবেন না। ওকে বন্ধুর মতো করে বোঝানোর চেষ্টা করুন। 

# আপনার সন্তানকে সময় দিন। নিজের যতোই ব্যস্ততা থাকুক না কেন, নিয়মিত ওর স্কুল, টিউশন- সবকিছু সম্পর্কে খোঁজখবর রাখুন। চেষ্টা করুন ওর বন্ধু হয়ে ভরসার মানুষ হয়ে ওঠার, যাতে ও আপনার থেকে কোনো কিছু লুকিয়ে না রাখে। একসাথে শপিং করুন, সিনেমা দেখুন, তাহলে আপনাদের বন্ধন আরও শক্ত হবে।

[প্রিয় পাঠক, আপনিও দৈনিক যুগান্তর অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন-jugantorlifestyle@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন