ডাক্তারদের হাতের লেখা খারাপ কেন?

  ডা. মো. সাঈদ এনাম ০৫ মে ২০১৮, ০৩:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

ডাক্তারের হাতের লেখা

অফিস চেম্বার বাসা আড্ডা এসবের ফাঁকে একটু সময় পেলে চিকিৎসা বিষয়ক বিভিন্ন জার্নালে চোখ বুলাই। টুকটাক লিখি। ইদানিং কয়েকটি পত্রিকায় লেখালেখি করি।

প্রতি শুক্রবার সবার বন্ধ হলেও ডাক্তারদের ব্যস্ততা থাকে সারা সপ্তাহের চেয়েও বেশি। আমার আবার তা থাকে সবার থেকে কিঞ্চিত বেশি কারণ প্রতি শুক্রবার পত্রিকায় লেখা দেয়ার জন্য পত্রিকার সম্পাদকের সাহেবদের একটা তাড়া থাকে।

আজ এক ফাঁকে মিনিট পাঁচেক সময় বের করে একটা আর্টিকেল ড্রাফট করছি, ক্লাস টু পড়ুয়া আমার মেয়েটি ব্যাগ থেকে রাইটিং প্যাড বের করতে যেয়ে সেটা দেখলো। তারপর ভ্রু কুচকিয়ে বললো,

‘আব্বু তোমার হাতের লেখা এতো খারাপ। কিচ্ছু বুঝা যায় না। তোমাকে প্লে গ্রুপে ঠিকমতো অক্ষরগুলো শিখিয়ে দেওয়া হয়নি? একটা লাইনও তো পড়া যাচ্ছে না। কী লেখেছো?’

মেয়ের কথায় নিজের লেখায় চোখ বুলিয়ে কিছুটা লজ্জাই পেলাম।

আসলে কেনো এমন হয়..?

ডাক্তারিদের পড়াশুনার প্রথম বর্ষ থেকে এতো এতো পড়তে হয়, লেখতে হয় যে, যদি তার লেখার খাতাগুলো কেউ কালেকশন করে রাখতে চায় তাহলে রীতিমত একটা লাইব্রেরির প্রয়োজন পড়বে।

আর সে কারণে মেডিকেল স্টুডেন্টদের লিখতে লিখতে লেখার স্পিড এতো বেড়ে যায় যে, এর মর্ম উদ্ধার অনেক সময় ডাক্তার আর ফার্মাসিস্ট ছাড়া অন্য কারো পক্ষে সম্ভব হয় না।

স্টুডেন্ট লাইফে ঢাকা মেডিকেলে আমার কয়েকজন সহপাঠী, সহপাঠিনী সামনে বোর্ডের দিকে তাকিয়ে, কিংবা স্যার ম্যাডামদের মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে থেকে তাদের কথাবার্তা আর লেকচারগুলো অনায়াসে এতো দ্রুত লিখে যেতে পারতো যে , তা দেখে আমি রীতিমত অবাক হয়ে যেতাম।

এ যেনো একটা কম্পিউটার....!

শুনে শুনে চোখ বুঝে নিখুঁতভাবে লিখে যাওয়া কেবল মেডিকেল স্টুডেন্টদের পক্ষেই সম্ভব।

আসলে দ্রুতগতিতে লেখার জন্যেই লেখা অনেক সময় ডাক্তারদের লেখা দুর্ভেদ্য হয়। এটা পৃথিবীর প্রায় সকল দেশের ডাক্তারদের জন্যে প্রযোজ্য ।

লেখক, ডা. মো. সাঈদ এনাম

সাইকিয়াট্রিস্ট, (ডি এম সি, কে-৫২)

[প্রিয় পাঠক, আপনিও দৈনিক যুগান্তর অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন-[email protected]-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : ডা. সাঈদ এনামের লেখা

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.