মৃগী রোগীর চিকিৎসাসেবায় কুকুর!

  ডা. মো. সাঈদ এনাম ০৫ মে ২০১৮, ২০:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

মৃগী রোগীর চিকিৎসাসেবায় কুকুর

স্নায়ুরোগগুলোর মধ্যে এপিলেপ্সি বা মৃগী রোগ বেশ রহস্যময়। মৃগী রোগের অনেক ধরন রয়েছে। ব্রেইনের কিছু কোষের অকস্মাৎ, অস্বাভাবিক ইলেকট্রিক্যাল ডিসচার্জের ফলেই মৃগী রোগের লক্ষণ শরীরে দেখা দেয়।

লক্ষণগুলো দেখা দেয় ব্রেইনের ঠিক কোন অংশের কোষগুলো এ রকম অস্বাভাবিক আচরণ করছে তার ওপর। এসব লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে হঠাৎ শরীরের কোনো অংশ বা অঙ্গ অস্বাভাবিকভাবে কাঁপতে থাকা, কেঁপে কেঁপে পড়ে যাওয়া, পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়া, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। এ সময় রোগীরা প্রস্রাব-পায়খানাও করে দেন। পুরো ব্যাপারটা মাত্র কয়েক মিনিটেই শেষ হয়।

এই লক্ষণগুলো আবার মানসিক রোগ কনভারসন ডিসঅর্ডারের লক্ষণগুলোর সঙ্গে কিছুটা মিলে যায়। তবে কনভারসন ডিসঅর্ডারের রোগী রা কখনো পড়ে গিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হন না, অজ্ঞান হন না বা প্রস্রাব-পায়খানা করে দেন না।

কনভারসন ডিসঅর্ডারের বেশকিছু ব্যক্তিগত, বা সামাজিক কারণ থাকে যা নিয়ে রোগীরা থাকেন খুবই উদ্বিগ্ন, বিব্রত, বিপদগ্রস্ত এবং এই কারণগুলোই কালক্রমে শারীরিক লক্ষণের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সহজ ভাষায় সাইকোলজিক্যাল কনফ্লিক্ট কনভার্টেড টু ফিজিক্যাল সিমটম। আমি কনভারসন ডিসঅর্ডারের এ পর্যন্ত যত রোগী দেখেছি তার বেশির ভাগই রয়েছেন টিনেজের মেয়ে। সাইকোথেরাপির মাধ্যমে এ রোগ পুরোপুরি সেরে যায়।

মৃগীরোগীদের মধ্যে আবার অনেকের বেশকিছু মানসিক রোগ দেখা দেয়, যেমন এনজাইটি ডিপ্রেশন। মৃগীরোগের আধুনিক চিকিৎসা রয়েছে। বেশকিছু ওষুধ এখন বেশ কার্যকরী, তবে তা নিয়মিত খেতে হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে। চিকিৎসাকালীন সময়ে মৃগী রোগীদের বেশকিছু নিয়মের মধ্যে চলতে হয়। তাদের বিশেষ পরিচর্যায় থাকতে হয়। কেননা হঠাৎ যে কোনো স্ট্রেস বা কোনো স্ট্রেস ছাড়াই দেহের মধ্যে মৃগী রোগের লক্ষণ চলে আসে, ফলে ঘটে যেতে পারে বেশ ভয়াবহ বিপত্তি।

উন্নত দেশে মৃগী রোগীদের দেখভাল করার জন্যে কুকুরকে কাজে লাগানো হয়। এই বিশেষ কুকুরগুলোকে বলে সিজার ডগ।

সিজার ডগ (Seizure Dog) একধরনের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর। যেহেতু এপিলেপ্সিতে (মৃগী রোগ) আক্রান্ত রোগীরা হঠাৎ করে প্রচণ্ড খিঁচুনি দিয়ে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ফলে সামান্য একটু অসতর্কতায় যে কোনো সময় পারিপার্শ্বিক কারণে এপিলেপ্সি বা মৃগী রোগীদের জীবন হুমকির মধ্যে পড়ে।

নিয়মিত ওষুধের পাশাপাশি কিছু ঝুঁকিপূর্ণ কাজ তাদের পরিহার করে চলতে হয় যেমন ড্রাইভিং, সুইমিং। এই এপিলেপটিক পেশেন্টের টেককেয়ারের জন্য পশ্চিমা কয়েকটি দেশে কিছু কুকুরকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে সার্বক্ষণিক মৃগী রোগীদের প্রহরায় রাখা হয়। এদের মধ্যে কিছু কুকুরের কাজ থাকে মৃগীরোগী দের খিঁচুনির পূর্বাভাস এলার্ম বাজানোর মাধ্যমে আশপাশের সবাইকে জানিয়ে দেয়া, কিছু কুকুরের কাজ থাকে খিঁচুনি এবং অজ্ঞান হয়ে পড়ে গিয়ে মৃগী রোগীর যাতে কোনো শারীরিক ক্ষতি না হয় তার দিকে খেয়াল রাখা আর কিছু কুকুরের কাজ থাকে সঙ্গে সঙ্গে ইমার্জেন্সি টেলিফোন কল করে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা।

কুকুর কি খিঁচুনির পূর্বাভাস বুঝতে পারে বা পারলেও তা কীভাবে এ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। তবে অনেকে বিশ্বাস করেন, গৃহপালিত পশুপাখিদের অদ্ভুত কিছু ক্ষমতা রয়েছে যার মাধ্যমে তারা সুনামি, ভূমিকম্প, বজ্রপাতসহ নানান প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিছুটা পূর্বেই টের পেয়ে যায়।

লেখক: ডা. মো. সাঈদ এনাম, সাইকিয়াট্রিস্ট

[প্রিয় পাঠক, আপনিও দৈনিক যুগান্তর অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন-[email protected]-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : ডা. সাঈদ এনামের লেখা

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter