ড. ইমরান রফিক    |    
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
শাহাবুদ্দীন নাগরীর মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক ছোটগল্প আকবর রাজাকার হয়েছিল
শাহাবুদ্দীন নাগরী আমাদের সাহিত্যে একটি উল্লেখযোগ্য নাম। শিশু-কিশোরদের জন্য লেখালেখি দিয়ে গত শতকের সত্তর দশকে তার যাত্রা শুরু। শিশুদের ছড়ার পাশাপাশি গণমানুষের জন্য ছড়া লিখেও তিনি বিখ্যাত এ দেশের ছড়াসাহিত্যে। কিশোরদের জন্য গল্প-উপন্যাস লিখে চলেছেন শুরু থেকেই, তার ঈর্ষণীয় কিশোর-কবিতার বই ‘ছেলেবেলার দিন’ (১৯৮৮, প্রকাশক : শিশুসাহিত্য বিতান, চট্টগ্রাম) এখনও কিশোর-কবিতার বৈচিত্র্য-বিন্যাসে মাইলফলক হয়ে আছে। বিগত এক দশক ধরে তিনি নিবিষ্ট মনে লিখে যাচ্ছেন উপন্যাস এবং ছোটগল্প। তার ‘ছায়ামানব’ (২০১২), ‘ফুলশার্ট’ (২০১৫), ‘পুলিশ লাশটি গুম করতে চেয়েছিল’ (২০১৬) ইত্যাদি গল্পগ্রন্থ যারা পাঠ করেছেন তারা শাহাবুদ্দীন নাগরীর কাহিনী নির্মাণ এবং ভাষা ও বর্ণনায় মুগ্ধ হয়েছেন নিঃসন্দেহে। ঘটনার চমক ও চূড়ান্ত পরিণতি ছোটগল্পের প্রাণ, সেটিতে তিনি কুশলী এবং সিদ্ধহস্ত।
এবারের গ্রন্থমেলায় অন্যপ্রকাশ বের করেছে শাহাবুদ্দীন নাগরীর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্পের বই ‘আকবর রাজাকার হয়েছিল’। ৫টি ছোটগল্প সংকলিত হয়েছে এ বইটিতে। গ্রন্থের প্রথম গল্প ‘একাত্তরের আদেল’ গল্পে কুড়ি বছর বয়সী আদেল মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়, তাদের দলটি বিভিন্ন পাকিস্তানি-স্থাপনায় হামলা করে শত্রুর ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। এই সাদামাটা কাহিনীর ভেতর আর একটি গল্প তৈরি করেছেন লেখক, যে কাহিনী অতিপ্রকৃত ঘটনা হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা আদেলকে শংকিত-আলোড়িত করেছে। এ ঘটনাগুলো শাহাবুদ্দীন নাগরী এত চমৎকারভাবে গল্পের শরীরে বুনে দিয়েছেন যে, পাঠক আগ্রহী হয়ে উঠতেই পারেন এর শেষটা দেখার জন্য। ‘আকবর রাজাকার হয়েছিল’, ‘একাত্তরের এক রাত’, ‘পরিমলের বাবা’ এবং ‘কনস্টেবল আসগর আলীর যুদ্ধজয়’ গল্পগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সময় ও ঘটনাকে বাস্তবভাবে তুলে আনায় বয়স্ক-পাঠক-সম্প্রদায় গল্পগুলোর কোনো কোনো চরিত্রে নিজেকেই খুঁজে পাবেন। তার গল্প থেকে দুটি অংশ তুলে দেয়া যায় :
ক. ‘শমসেরের নিষেধ উপেক্ষা করেই আসগর আলী ঢুকে পড়েছিল দরবার খানের রুমে। স্যালুটও দিয়েছিল, তারপর বলতে চেয়েছিল, ‘স্যার, দো মাহিনে ছুট্টি হামারে লিয়ে বহুত জরুর হ্যায় স্যার, মাই ওয়াইফ ইজ...।’ কিন্তু কথা বলার সুযোগ না দিয়ে দরবার খান চেয়ার থেকে লাফিয়ে উঠে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে চিৎকার দিয়ে বলেছিল, ‘ব্লাডি বাঙাল, দিস টাইম পাকিস্তানকো প্রটেক্ট র্ক না হাম সাবকো লিয়ে র্ফাজ হ্যায়। ব্লাডি, তুম ছুট্টি মাঙ্তা? নো ছুট্টি, নো লিভ। গেট আউট ফ্রম মাই রুম বাস্টার্ড।’ আরও কী কী সব বলেছিল অসভ্য লোকটা, আসগর আলীর কান দিয়ে ঢোকেনি।’ ( কনস্টেবল আসগর আলীর যুদ্ধজয়)
খ. ‘পরিমলের বাবার পুরো নাম সুবিমল চক্রবর্তী।
‘তো, আপ সুবিমল চ্যাটার্জি হ্যায়?’
পাঞ্জাবি সৈন্যটা তার বাবার বুক বরাবর অটোমেটিক রাইফেল তাক করে আছে। ভঙ্গিটা এমন করেছে যেন এক্ষুণি গুলি করে দেবে।
‘ইয়েস, আই অ্যাম সুবিমল চ্যাটার্জি, আই অ্যাম এ গভর্নমেন্ট সার্ভিস হোল্ডার অব পাকিস্তান।’
‘উর্দ্দু নেহি আতা সুবিমল সাহাব? আপ জরুর গোস্বা কিয়া, ইস লিয়ে ইংলিশমে বাতচিৎ শুরু কিয়া।’
( পরিমলের বাবা )
এভাবেই শাহাবুদ্দীন নাগরী তার গল্পের ভেতর দিয়ে পাঠককে টেনে নিয়ে গেছেন একাত্তরের দিনগুলোতে।
বইটির শুরুতে লেখক বাংলাদেশের ছোটগল্প নিয়ে একটি স্বল্পায়তনের ভূমিকা লিখেছেন, যা তরুণ-কথাসাহিত্যিকদের কিছুটা হলেও ভাবাবে। আমাদের কথাসাহিত্য নিয়ে গবেষণা হয় না, আলোচনা-সমালোচনা হয় না, অগ্রজ-গল্পকাররা পাঠককে ‘আধুনিক ছোটগল্পে’র চরিত্র এবং রবীন্দ্রোত্তর ছোটগল্পের বিকাশ এবং চিহ্নিত বৈভবকে পরিচয় করিয়ে দিতে অনাগ্রহী, সেটি দুঃখ ও ক্ষোভের সঙ্গেই উচ্চারণ করেছেন তিনি। ৮৮ পৃষ্ঠার বইটি এক বৈঠকেই পড়ে ওঠা যায়। ধ্রুব এষের প্রচ্ছদটি বইটির নান্দনিকতা বাড়িয়ে দিয়েছে নিঃসন্দেহে।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত