পাঠকরা সেলসম্যান ভেবে আমার থেকে বই নিয়েছে: তকিব তৌফিক

  যুগান্তর রিপোর্ট ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

তরুণ লেখক তকিব তৌফিকের নতুন বই বাজারে এসেছে।
তরুণ লেখক তকিব তৌফিকের নতুন বই বাজারে এসেছে।

এবারের বই মেলাতে তরুণ লেখক তকিব তৌফিকের লেখা বই ‘অধ্যায়’ বাজারে এসেছে। প্রকাশ করেছে নালন্দা প্রকাশনী। তাঁর দ্বিতীয় বইটি নিয়ে কথা বলেছে যুগান্তরের সঙ্গে।

যুগান্তর: আপনার লেখালেখিকে কীভাবে বিশ্লেষণ করেন?

তকিব তৌফিক: মৃত্যু নিশ্চিত এক পরিণতি। তবুও বেঁচে থাকার লড়াইয়ে সবাই যেমন বাঁচে। আমিও বাঁচি। নিজের জন্য না হলেও একজন মা, একজন বাবা আর বোনদের জন্য বাঁচতে হয়। জীবিকার কাজটাকে যতোটা জরুরি ভাবে নিয়েছি, লেখালেখির কাজকেও সেভাবে নিয়েছি। আমি শখের বসে লেখক হতে আসিনি। জাতির দাবি পূরণে একজন শব্দ-শ্রমিক হতে এসেছি। আশা করি কোনোটাই বিফলে যাবে না, ব্যর্থতা ছুঁতে পারবে না। যদি ছুঁয়েও যায়। নিজেকে তা থেকে বের করে আনতে পারবো।

যুগান্তর: এবার বইমেলাতে আপনার কী কী বই বের হচ্ছে? বই সম্পর্কে সংক্ষেপে পাঠকদের জন্য কিছু বলুন।

তকিব তৌফিক: নালন্দা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে আমার দ্বিতীয় উপন্যাস ‘অধ্যায়’ (http://bit.ly/2UsH2CF)'। অধ্যায় একটি সমকালীন উপন্যাস। যার মূল চরিত্র ইজাজ আনসারী হাজারো আনসারীর রোজকার দিনের পরিস্থিতি এবং পরিণতি বয়ে বেড়ায়। গ্রন্থমেলা'১৯-এ নালন্দা প্রকাশনীর প্যাভিলিয়ন ১০ 'অধ্যায়' থাকবে মেলার প্রথম দিন থেকেই। পাঠকদের কাছে আকুল অনুরোধ আপনারা গ্রন্থমেলায় আসুন। 'অধ্যায়' সংগ্রহ করুন এবং পড়ুন। একজন ইজাজ আনসারীর মধ্যে দিয়ে হাজারো ইজাজ আনসারীকে জানুন। আপনাদের উপস্থিতি গ্রন্থমেলা'১৯-এর সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করবে।

যুগান্তর: বইটি কোন প্রকাশনী হতে বের হচ্ছে? কোথা থেকে কেনা যাবে? দাম সম্পর্কেও ধারণা দিন।

তকিব তৌফিক: শুরুতেই জানিয়েছি আমার দ্বিতীয় উপন্যাস 'অধ্যায়' নালন্দা প্রকাশনী থেকেই প্রকাশ পেয়েছে। এবং বইটি বর্তমানে বইবাজার.কমে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া দেশের আরও কিছু অনলাইন বুকশপেও বইটি থাকছে। এছাড়া চট্টগ্রাম ও ঢাকার বাতিঘরে বইটি পাওয়া যাবে। আর গ্রন্থমেলা'১৯-এ পুরো মাস জুড়ে নালন্দার প্যাভিলিয়ন ১০ এ 'অধ্যায়' উপন্যাসটি থাকবে।

যুগান্তর: এর আগে আপনার যে বই বের হয়েছে সে সম্পর্কে বলুন।

তকিব তৌফিক: আমার প্রথম উপন্যাস 'এপিলেপটিক হায়দার'। গ্রন্থমেলা'১৮ তে বইটি নালন্দা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। এটি একটি সামাজিক উপন্যাস। যার গল্প ছিল মৃগী রোগীদের নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কার নির্ভর এবং ধর্মীয় আত্মশুদ্ধির উপলব্ধি। আলহামদুলিল্লাহ, প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস হিসেবে বইটি পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা রেখেছিল। পাঠকদের প্রতি রইল আমার ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা।

যুগান্তর: আপনার প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে কোন বইটি সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে?

তকিব তৌফিক: আমার প্রকাশিত উপন্যাস দুইটি। 'এপিলেপটিক হায়দার' এবং ‘অধ্যায়’। 'এপিলেপটিক হায়দার' প্রকাশের পর আলহামদুলিল্লাহ বেশ সাড়া পেয়েছিল এবং পাঠকের হাতে হাতে পৌঁছে গিয়েছিল। আর 'অধ্যায়' কেবল প্রকাশিত হল। দেখা যাক সমীকরণ কী বলে! পাঠকই জানাবেন অধ্যায়-এর কথা।

যুগান্তর: বই লেখার অনুপ্রেরণা কিভাবে পেলেন?

তকিব তৌফিক: এই প্রশ্নটি ছোট কিন্তু প্রচন্ড ভারি এবং স্মৃতি জড়িত। বলতে গেলে এ নিয়ে অনেক অনেক বাক্য লেখা যায়। কিন্তু বিশদভাবে না বলে এটুকুই বলবো, জাতির দাবি পূরণে লেখালেখিতে এসেছি। জাতিও তো আমাদের মতো তরুণদের কাছ থেকে কিছু আশা করে! এই আশা পূরণের দায়িত্ব পূরণে লেখালেখিকে বেছে নিয়েছি।

যুগান্তর: প্রথম বই প্রকাশের কিছু মধুর অভিজ্ঞতা পাঠকদের সঙ্গে কি শেয়ার করা যায়?

তকিব তৌফিক: আমার হাতের লেখা সুন্দর নয়। অটোগ্রাফ দিতে গেলে হাত কাঁপে। কিন্তু পাঠক তখন আমার অটোগ্রফের দিকে তাকিয়ে থাকে। কি যে লজ্জা! বুকের ভেতর দুরুদুরু করে। কিন্তু বুঝতে দেই না। নিজেকে নিয়ে নিজে মৃদু হাসি কেবল।

যুগান্তর: এবারের প্রকাশিত বইটির পেছনের কোন গল্প আছে? যা বারবার মনে পড়ছে?

তকিব তৌফিক: 'অধ্যায়' লিখতে গিয়ে খুব মনে পরেছে পারিপার্শ্বিক দায়িত্বের কথা। বারবার স্বপ্ন ভাঙনের কথা। এই যে ধরুন, যা চেয়ে অপেক্ষা করি, প্রভাতে তার বিপরীত বার্তা আসে। আর দায়িত্বের সঙ্গে গুপ্ত ভালোবাসা সে-কী লড়াই! চূর্ণ করে তবু পূর্ণতা পায় না।

যুগান্তর: পাঠকদের ভালবাসা প্রাপ্তির অনেক মধুর অভিজ্ঞতা হয়ত রয়েছে। সেগুলো হতে কোন একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন।

তকিব তৌফিক: মধুর অভিজ্ঞত আছে বটে। ভুলভাল সম্বোধন করে বসি। কাকে কখন কি বলে ডেকেছি ভুলে যাই। প্রথম দেখায় আর দ্বিতীয় দেখার সম্বোধন গুলিয়ে যায়। এছাড়া গেলো বইমেলায় পাঠক আমারই বই কিনে নেবার সময় পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম। আর তারা ওখানকার সেলসম্যান ভেবে বই নেবার প্যাকেট চেয়েছে, টাকা পরিশোধ করতে টাকা এগিয়ে দিয়েছে। আমিও চুপচাপ সব করে যেতাম। এমনটা হয়েছে কয়েকবার। বহুদিন পর দু'একজন ম্যাসেঞ্জারে জানিয়েছে এই ব্যাপারে। তারা দুঃখিত আর লজ্জিত জানিয়েছে। আমি শুনে হাসি। বেশিকিছু বলতে পারি না। শুধু বলি, নিজের বই নিজে বিক্রি করেছি, তাতে কি হলো? এটা আমারই ভালো লাগা।

যুগান্তর: ভবিষ্যতের আর কী কী বই লেখার পরিকল্পনা রয়েছে?

তকিব তৌফিক: ইদানীং দুটো বই নিয়ে কাজ করছি। একটি 'অর্বাচীনের উপাখ্যান' অন্যটি 'সমাজ-দেহে অস্ত্রোপচার'। 'অর্বাচীনের উপাখ্যান' জীবন থেকে নেয় গল্প। এটি আত্মজীবনী কোনো গ্রন্থ নয়। বলতে পারেন জীবনের বিক্ষিপ্ত গল্পগুলোকে এক করার একটা চেষ্টা। 'সমাজ-দেহে অস্ত্রোপচার' হবে সামাজিক গল্প নির্ভর গ্রন্থ। যেখানে সমাজের পিছিয়ে পরার কারণগুলো গল্পের মধ্যে দিয়ে জানান দেয়া হবে। এছাড়া 'ভয়ঙ্কর প্রেমানুভূতি' নামক একটি কাব্যগ্রন্থের পাণ্ডুলিপি তৈরি করছি। 'অধ্যায়' উপন্যাসে কিছু কবিতা যুক্ত করেছিলাম, তা পড়ে পাঠক যদি চায় তাহলে 'ভয়ঙ্কর প্রেমানুভূতি' কাব্যগ্রন্থ হয়ে আসবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×