বাংলা ভাষা জয় দেশের বড় অর্জন: ভাষাসৈনিক আবদুল গফুর

  যুগান্তর ডেস্ক ০১ মার্চ ২০১৯, ১৪:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

পদক প্রদান অনুষ্ঠানে অতিথিরা।
পদক প্রদান অনুষ্ঠানে অতিথিরা।ছবি-সংগৃহীত

বাংলাদেশের কিংবদন্তি ভাষাসৈনিক, লেখক ও সাংবাদিক মোহাম্মদ আবদুল গফুর বলেছেন, ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষার জন্য রক্তক্ষয়ী আন্দোলন ও সংগ্রামের মাধ্যমে আমাদের বাংলা ভাষা অর্জন এই জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে সম্প্রতি রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ঐতিহ্য সংসদ আয়োজিত পদক ও সম্মাননা প্রদান এবং আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন।

৯০ বছর বয়সী এ লেখক বলেন, ১৯৪৭ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের দাবি নিয়ে যারা মাঠে নেমেছিলাম, শেষ পর্যন্ত ১৯৫২ সালে রক্তদানের মাধ্যমে এ দেশে রাষ্ট্রভাষা মায়ের ভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি এ জাতির জন্য একটি বিরল ও বিশাল ইতিহাস।

তিনি বলেন, আমি এই মহান আন্দোলনের একজন সৈনিক হিসেবে গর্বিত ও আনন্দিত। আমি আশা করি, যে রক্তদানের মাধ্যমে আমাদের বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষা অর্জিত হয়েছে, তার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকবে চিরকাল।

আবদুল গফুর বলেন, আজ বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিকতার আকাশ ছুঁয়েছে। এটি একটি বিস্ময়কর ব্যাপার। প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষার মতো এত সুন্দর আর মধুর ভাষা পৃথিবীতে বিরল।

তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, যারা রাষ্ট্রভাষা বাংলার সংগ্রামে নিবেদিত ছিলেন, তাদের অনেকের নাম এখন কারোর মুখে উচ্চারিত হয় না। এমনকি তাদের সেই ত্যাগ ও সংগ্রামের কথাও কেউ বলতে চান না। আবার কোনো কোনো ভাষাসৈনিকের নাম তো কেউ মুখেও উচ্চারণ করেন না। অথচ আমরা একই সঙ্গে এই বৃহৎ আন্দোলনে অংশীদার ছিলাম। তাদের নাম কোথাও উচ্চারিত না হওয়ার কারণে আমি অত্যন্ত লজ্জিত হই ও অপমানবোধ করি।

এই ভাষাসৈনিক বলেন, আমি মনে করি- ভাষা সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস এ দেশের মানুষের কাছে পৌঁছানোর দায়িত্ব ও কর্তব্য রাষ্ট্রের। কিন্তু তারা নিরপেক্ষভাবে সেই কাজটি করতে ব্যর্থ হয়েছে। এখন প্রয়োজন রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ও সংগ্রামের উজ্জ্বলতম অবিকৃত ইতিহাস জাতির সামনে তুলে ধরা। তা না হলে একসময় এই জাতি ভুলেই যাবে যে কারা প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষা আন্দোলনে, স্বাধিকার আন্দোলনে ও স্বাধীনতা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য সাহিত্য সংস্কৃতিকেন্দ্রের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে তিনি বলেন, এসে আমি খুবই আনন্দবোধ করছি। আমার সামনে যেসব নবীন তরুণ লেখক, কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী ও সাংবাদিক বসে আছেন, তারা প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস জানতে চান। আমার এই বয়সে এখন স্বপ্ন ও তরুণদের কাছে চাওয়া একটিই- তারা যেন রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস জানার চেষ্টা করেন। তারা সব ভাষাশহীদ এবং ভাষাসৈনিকদের যথাযত মূল্যায়নের পদক্ষেপও গ্রহণ করেন।

এর পর সম্মাননা পদক প্রদান করা হয় নবীন-তরুণ পাঁচ গুণীজনকে। তারা হলেন- সাহিত্যে আহমাদ বাসির, সংগীতে আবুল আলা মাসুম, নাটকে আহসান হাবিব খান, অনুবাদে আলী আহমেদ মাবরুর, সম্পাদনায় কবি হাসান রুহুল।

বক্তব্যের মাঝে মাঝে ভাষা দিবসের গান ও কবিতা আবৃত্তিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠান।

সাংস্কৃতিক পৃষ্ঠপোষক শাহাদাত টুটুল ও মাহবুব মুকুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাহিত্য সংস্কৃতিকেন্দ্রের সভাপতি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি মোশাররফ হোসেন খান। এ ছাড়া স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাহিত্য সংস্কৃতিকেন্দ্রের সেক্রেটারি কবি ও শিল্পী যাকিউল হক জাকী।

এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন ঐতিহ্য সংসদের সভাপতি মাহবুবুল হক, বাংলাদেশ কালচারাল একাডেমির চেয়ারম্যান শরীফ বায়জীদ মাহমুদ, সেক্রেটারি আবেদুর রহমান, নতুন মাত্রার সম্পাদক ড. ফজলুল হক তুহিন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লেখক সংগঠক এমদাদুল হক চৌধুরী, ডিইউজের সহসভাপতি শাহিন হাসনাত, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এমএ তাওহীদ, সুরকার-গীতিকার লিটন হাফিজ চৌধুরী, সাংবাদিক আবুল খায়ের, আবু শাকের ইউনুস, সংগঠক ইবরাহিম বাহারী, মোকাররম বিল্লাহ, নাট্যকার ফারুক খান, আ. হাই সেলিম, কারি বেলাল হোসেন, আহমেদ ফয়সাল, মাহবুব বিন আতাহার, কবি যাকারিয়া সৌরভ, তোফাজ্জল হোসেন, জহির বিন বাশার, জয়নাল আবেদিন, রাকিব হাসান, কবি ফারুক মুহাম্মদ ওমর প্রমুখ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×