অমর একুশে গ্রন্থমেলা

ছুটির দিনে বইপ্রেমীদের ঠাসা ভিড়

  রীনা আকতার তুলি ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৪:৩৪ | অনলাইন সংস্করণ

মেলায় বইপ্রেমীদের ভিড়
মেলায় বইপ্রেমীদের ভিড়

মায়ের ভাষাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ও ভাষা শহীদদের স্মরণে প্রতি বছরের মতো এ বছরও বাংলা একাডেমির আয়োজনে শুরু হয়েছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের আনাগোনায় মুখর ছিল মেলা প্রাঙ্গণ। মেলা ঘুরে নিজেদের পছন্দের বই কিনতে তাই স্টলগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন বইপ্রেমীরা। বিক্রেতারা বলছেন, মেলার শুরু থেকেই পাঠকদের আনাগোনা থাকলেও ছুটির দিনগুলোতে ভিড় বেশি থাকে। তবে সামনের দিনগুলোতে আরও বিক্রি বাড়ার প্রত্যাশা করছেন বিক্রেতারা।

শুক্রবার সরেজমিন অমর একুশে গ্রন্থমেলা ঘুরে দেখা যায়, মেলায় পাঠক বয়োজোষ্ঠ্যদের চেয়ে তরূণ-তরুনীদের ভিড় বেশি। আবার বাবা-মায়ের কোলে চড়ে ও হাত ধরে হেঁটে মেলায় বই কিনতে এসেছে অনেক কোমলমতি শিশু। মেলায় সব বইয়ে উল্লিখিত মূল্যে ২৫ শতাংশ ছাড় দেয়া হয়েছে। প্রতিদিন পাঠকদের আগাগোনায় মুখর থাকে মেলা প্রতিটি স্টল। বেচাবিক্রি ভালো।

মেলা ঘুরে আরও দেখা যায়, মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নিরাপত্তাকর্মীরা। নিরাপত্তার জন্য মেলায় এলাকাজুড়ে ২৫০ সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মেলায় বই কিনছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অরুণ রায় তিনি যুগান্তরকে বলেন, বইমেলা বাঙালির প্রাণের মেলা। ভালোবাসা আর প্রাণের টানে আমরা প্রতিবছরই বইমেলায় ছুটে আসি পছন্দসই বই কিনতে। আমি মূলত হুমায়ুন স্যারের ভক্ত। তার বই-ই বেশি পড়ি। তবে নতুন লেখকদের অনেক বই এসেছে, সেগুলো দেখছি। ভালো লাগলে কিনব।

মেলায় মা মমতা বেগমের সঙ্গে মেলায় ঘুরতে এসেছেন অর্চি। মমতা যুগান্তরকে বলেন, নিজের দেশ, সংস্কৃতি ও ভাষা সম্পর্কে জানার জন্য শিশুদের জন্য বইমেলার বিকল্প নেই। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, নিজের দেশে মায়ের ভাষা সঠিক ইতিহাস জানান শিশুদের মেলায় নিয়ে আসা উচিত।

মেলায় ভিড় ও নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, মেলায় ভিড় বেশি তবু ভালো লাগছে আসতে পেরে। আর পর্যাপ্ত পুলিশ নিরাপত্তা দিচ্ছে। সব মিলিয়ে নিশ্চিতে ঘুরে বেড়ানো যায় বইমেলায়।

বিক্রেতা মো. আরেফিন জানান, ছুটির দিনে মেলায় পাঠকদের ভিড় সামাল দিতে আমাদের ঘাম ছুটছে। কিন্তু বেচাবিক্রি বাড়ায় আমরা খুশি। তবে সামনের দিনগুলোতে বিক্রি আরও বাড়বে বলেও প্রত্যাশা করেন ওই বিক্রেতা।

মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ও বাংলা একাডেমির পরিচালক ড. জালাল আহমেদ জানান, মেলায় পাঠকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবসা জোরদার করা হয়েছে। মেলার প্রবেশ ও বাহির পথে পর্যাপ্তসংখ্যক আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া গ্রন্থমেলা সম্পূর্ণ পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত রাখা হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রয়েছে।

আসন্ন অমর একুশে গ্রন্থমেলায় ৬৬২ স্টল বরাদ্দ দিয়েছে বাংলা একাডেমি। গতবারের চেয়ে এবার স্টলের ইউনিট বৃদ্ধি পেয়েছে ১৩৩টি।

মেলা ১-২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ছুটির দিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা এবং ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে।

ঘটনাপ্রবাহ : বইমেলা-২০১৮

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter