‘আর্তনাদ’ বইয়ের ছোটগল্প

ব্যথাভরা কচি চোখ, ক্ষতবিক্ষত হৃদয়!

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৪:৫৫ | অনলাইন সংস্করণ

আর্তনাদ বইয়ের মোড়ক
আর্তনাদ বইয়ের মোড়ক

সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছিল, উঁচু পাহাড়ের মাথা ডিঙিয়ে রক্তিম আভা নিয়ে ডুবতে বসেছে সূর্য। তার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে খ্রিস্টাল লিলিয়ান্দাল। দু’চোখ ভিজে আসছে। ‘এক্সকিউজ মি, ডু ইউ ওয়ান্ট টু রিটার্ন টু রুম?’ ৫ মিনিট পেরিয়ে গেলেও মিলছিল না উত্তর।

কিছুক্ষণ পর আবারও বললাম, এক্সকিউজ মি, খ্রিস্টাল। পরক্ষণে সাড়া মেলে খ্রিস্টালের। প্লিজ, পার্ডন মি, প্লিজ, পার্ডন মি, বলতেই হু হু করে কেঁদে ওঠেন খ্রিস্টাল।

ফ্রিল্যান্স জার্নালিজম হৃদয়ে ধারণ করে আবেগভরা মানুষটি এসেছিলেন ডেনমার্ক থেকে। রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন ক্যাম্পে ঘুরছেন তিনি। তার ক্যামেরার ফ্রেমে তুলে এনেছেন বাবা-মা হারানো হাজারও রোহিঙ্গা শিশুর ব্যথাভরা চোখ। আমি আর নিতে পারছি না, বড় অমানবিক, মানবতাবিরোধী, জুলুম, অত্যাচার- এটি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। লাখ লাখ মানুষ এ মানবতার জীবনকেই শ্রেয় মনে করছে। আমার ভাবতেই অবাক লাগছে, তাদের ওপর মিয়ানমারের সেনারা কী ধরনের নির্যাতন করেছে যে, তারা এই জীবনকে শ্রেয় মনে করছে। প্রাণ নিয়ে পালিয়ে আসাই যেন তাদের বড় পাওয়া। আর শিশুদের কথা চিন্তা করলে তো চোখের পানিই ধরে রাখা যায় না।

কোমলমতি শিশুদের ব্যথাভরা কচি চোখগুলো নিরাপদ আশ্রয় চায়, মাটির কথা বলে, বাঁচার স্বাধীনতা চায়, কেড়ে নেয়া অধিকার ফিরে পেতে চায়, পিতামাতা হত্যার বিচার চায় এবং ফিরতে চায় প্রিয় জন্মভূমিতে।

ওদের কোলে তুলে নিয়ে একটু মমতার পরশ যেন বড় পাওয়া। হতভাগা এই এতিম শিশুদের এখন অন্ধকার ভবিষ্যৎ। আমি আর ভাবতে পারছি না। নিতে পারছি না। বলতেই দু’চোখের পানিতে বুক ভাসান খ্রিস্টাল।

কাজ করতে এসে কোনোদিনই এমনভাবে কাঁদেননি তিনি। আগের সেই উচ্ছ্বাস নেই। ক্যামেরার লেন্সে চোখ মেলাতে পারেন না ছবিপাগল মানুষটি। ক্যামেরার লেন্সে চোখ রাখতেই ভেসে ওঠে রোহিঙ্গা শিশুদের ব্যথাভরা কচিমুখ। এই কচি মুখগুলো যেন পৃথিবীর সব কষ্টকে হার মানায়। মুহূর্তেই ক্ষতবিক্ষত হয় মানবহৃদয়...

নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের ব্যথিত হ্নদয়ের অশ্রু নিয়ে রীনা আকতার তুলি লেখা আর্তনাদ বইটির ১৫টি ছোটগল্পের মধ্যে এটি একটি।

বইটিতে আরও তুলে ধরা হয়েছে- রোহিঙ্গা জাতির জন্মের ইতিহাস, রোহিঙ্গাদের ওপর বর্মি সেনাদের ভয়াবহ নির্যাতন, নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আর্তনাদ, সম্ভ্রম হারানো নারীদের বিয়োগব্যথা, বাবা-মা হারা শিশুদের ব্যথাভরা চোখ, নাফ নদে নৌকা ডুবে যাওয়া, অন্তঃসত্ত্বা নারীদের কষ্ট, বিধবা নারীদের আর্তনাদ, রোহিঙ্গাদের প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভালোবাসা, মমতাময়ী মাতা শেখ হাসিনার কান্না, রোহিঙ্গা শিশুদের শীতবৃষ্টির দুর্ভোগসহ বিভিন্ন বিষয়। বইটির সব লেখা রোহিঙ্গাদের বাস্তবজীবন আর চোখে দেখা রোহিঙ্গা জীবন থেকে নেয়া। প্রতিটি বিষয় রোহিঙ্গাদের বাস্তবজীবনের ব্যথিত হৃদয়ের অশ্রু।

বইটি প্রকাশ করেছে বেহুলা বাঙলা। একুশে বইমেলায় বইটি পাওয়া যাচ্ছে বেহুলা বাঙলার ১৭৩ ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ৬৭ নম্বর স্টলে। এ ছাড়া বইটি সংগ্রহের জন্য ফোন করতে পারেন ০১৭২৩৭৫২৮৯৪ এই নম্বরে।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter