গদ্যগুলোর নতুনত্ব পাঠকের সমাদর পাবে: মলয় রায় চৌধুরী

  যুগান্তর ডেস্ক    ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৩:৪৬ | অনলাইন সংস্করণ

গদ্যগুলোর নতুনত্ব পাঠকের সমাদর পাবে: মলয় রায় চৌধুরী

অমর একুশে গ্রন্থ মেলায় প্রকাশ হয়েছে গোলাম রাব্বানীর প্রথম গল্পগ্রন্থ ‌'মহিমান্বিত আনারস'। বইটি নিয়ে একটি লেখা লিখেছেন ভারতীয় কবি মলয় রায় চৌধুরী। তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক, সাংবাদিক এবং সর্বোপরি ১৯৬০-এর দশকের হাংরি আন্দোলন হাংরিয়ালিজম তথা বাংলা সাহিত্যে প্রতিষ্ঠানবিরোধিতার জনক।

এ কারণে ১৯৬০-এর দশক থেকেই ব্যাপক পাঠকগোষ্ঠীর দৃষ্টি আর্কষণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। আধুনিক বাংলা কবিতার ইতিহাসে তিনি এক বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব। গতানুগতিক চিন্তাধারা তিনি সচেতনভাবে পরিহারের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে উত্তর আধুনিকতাবাদ চর্চা এবং প্রতিষ্ঠানবিরোধী আন্দোলন শুরু করেন। ১৯৬৪ সালে প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক ছুতার কবিতার জন্য রাষ্ট্রবিরোধী মামলায় গ্রেফতার ও কারাবরণ করেন। মলয় রায় চৌধুরীর রচনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য সাহিত্যের সনাতন ধারা অনুশাসনের বিরুদ্ধাচারণ।

গোলাম রাব্বানীর প্রথম গল্পগ্রন্থ ‌'মহিমান্বিত আনারস' সম্পর্কে তিনি বলেছেন, গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ পরিচয় হয়নি কখনও। অবশ্য বাংলাদেশের কোনো সাহিত্যিকের সঙ্গেই আমার সাক্ষাৎ পরিচয় হয়নি, সম্পাদক-লেখক মীজানুর রহমান ছাড়া। গোলাম রাব্বানী আমার একটা ইন্টারভিউ নিয়েছিলেন তাঁর সাইটের জন্য, সেই সূত্রে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ। ইন্টারভিউটি প্রকাশিত হবার পর বাংলাদেশের কয়েকজন বুদ্ধিজীবি জানিয়েছিলেন যে গোলাম রাব্বানী ফিল্ম লাইনের সাংবাদিক।

ওনারা গোলাম রাব্বানীর সমালোচনা করতে গিয়ে হয়তো আমার সমালোচনা করতে চাইছিলেন। আমি মুম্বাইতে থাকি, বলিউডের শহরে এবং ফিল্ম লাইনে রয়েছেন গুলজার, আখতার, ছিলেন শাহির লুধিয়ানভি, কইফি আজমি, জাঁ নিসার আখতারের মাতন গুণীজন। তাই ফিল্মে র বা টিভির সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেই তাকে খাটো করাটা বালখিল্য। তবে তিনি ফিল্ম ও টিভির সাংবাদিকতা ও অভিনেতা অ্যাঙ্করদের কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান বলে তাদের প্রসঙ্গ এসেছে গদ্যগুলোয়, তাদের প্রতি খোঁচাও এসেছে।

গোলাম রাব্বানী যখন আমাকে তাঁর বইয়ের জন্য, জানি না একে মুখবন্ধ বলব কিনা, লিখে দিতে বললেন, তখন এই জন্য অবাক লেগেছিল যে বিশাল বাংলাদেশে বহু সাহিত্যিক আছেন, যাঁরা আমার চেয়ে যোগ্য। আমাকেই কেন লিখতে বললেন? সম্ভবত এজন্য যে আমি ইংরেজিতে বাংলা ছোট গল্প সম্পর্কে একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ লিখেছিলাম, যা ঢাকার সংবাদপত্র 'দি ডেইলি স্টার'-এ প্রকাশিত হয়েছিল।

কিন্তু গোলাম রাব্বানীর তিন ফর্মার বইটির গদ্যগুলোকে ছোটোগল্পের পরিভাষার আওতায় ফেলা যায় না, উত্তরাধুনিক ছোটোগল্পও বলা চলে না, কেননা ছোটোগল্পে যে হুইপ ক্রাক এনডিং বা শেষ চমক থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন বিদ্যায়তনিক আলোচকরা, সেই মানদণ্ড বা ক্যাননকে মান্যতা দেয়নি তাঁর গদ্যগুলো। বাস্তব জগতের ঘটনার সঙ্গে অসমভাব্যতার মিশেল দেয়ার দরুন এগুলোকে শর্ট ফিকশান বলা যেতে পারে। সেই তর্কে গদ্যগুলো নিরীক্ষামূলক।

'মহিমান্বিত আনারস' নামগদ্যটি মাত্র সাড়ে তিন লাইনের এবং এই গদ্যটির মাধ্যমেই গোলাম রাব্বানী তাঁর বইটির উদ্দেশ পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছেন। তিনি গল্পের অনুসন্ধান করছেন অসম্ভাব্যতায়, একটি চরিত্রকে অনুসরণ করে শেষ মোচড় দেবার পরিবর্তে লিমিনাল পরত গড়ে তুলতে চাইছেন।

অন্যান্য গদ্যগুলোর শিরোনাম ছায়ামাতাল, আয়নার গতর, আমাদের জীবনে মশার গুরুত্ব, পায়জামা, শিমুলতলার সাপ বিদ্রোহ, পা আছে? পা নাই?, শেষ পর্যন্ত গল্পটা উকুনের, এ শহরে একটা প্রেম ছিল, ভগবানের ঘুম ভাঙলো (লেখকের মতে গদ্যটি বনফুল-এর 'ভগবান' গল্পের সিকু্যয়াল) এবং নদী থেকে উঠে আসে ট্রেন।

গদ্যগুলো, যেহেতু তাতে অসম্ভাব্যতার মিশেল দেয়া হয়েছে, অস্বাভাবিকতাকে সেঁদিয়ে দেয়া হয়েছে, একরৈখিক নয়, যা ছোটোগল্পের ঔপনিবেশিক ক্যাননে মান্যতাপ্রাপ্ত। গদ্যগুলোর নতুনত্ব পাঠকের সমাদর পাবে, এরকমটা অনুমান করতে পারি।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.