আন্তর্জাতিক ঘটনাবলির বিশ্লেষণ নিয়ে নতুন বই 'কনটেম্পরারি ওয়ার্ল্ড'

প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৮:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

  পলাশ মাহমুদ

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে পিএইচডি গবেষণারত সাংবাদিক রহমত উল্লাহ’র সম্পাদনায় বাজারে এসেছে ‘Contemporary World: Policy, Politics and International Relations’ নামে একটি একাডেমিক বই।

বাংলাদেশ, তুরস্ক, মধ্যপ্রাচ্য ও ভারতের সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশি গবেষকদের বিশ্লেষণধর্মী লেখার সমন্বয়ে বইটি তুরস্ক থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

বইটিতে জননীতি, অভিবাসন নীতির বিশ্লেষণ, ইতিহাস ও সভ্যতা, সেনাবাহিনী ও রাজনীতি, শান্তি ও সংঘর্ষ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক শিরোনামে ৬টি অধ্যায়ে ১৭টি প্রবন্ধ স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশে বইটির পরিবেশক ‘একাডেমিক প্রেস অ্যান্ড পাবলিশার্স লাইব্রেরি। অমর একুশে বইমেলার ৩২৯-৩৩০ স্টলে ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বইটি পাওয়া যাচ্ছে।

বইটির প্রথম অধ্যায়ে তুরস্ক, বাংলাদেশ ও কসোভোর জননীতি সম্পর্কিত ৩টি প্রবন্ধ স্থান পেয়েছে। প্রথম প্রবন্ধে তুরস্কের নারী ক্ষমতায়নের ওপর বিস্তারিত আলোচনা স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশের সুশাসন সম্পর্কিত প্রবন্ধে অতিরিক্ত জনসংখ্যা, রাজনৈতিক সংকট, জঙ্গি সমস্যা, দারিদ্র্য ও দুর্নীতিকে সুশাসনের প্রধান অন্তরায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই অধ্যায়ের তৃতীয় প্রবন্ধে কসোভোতে তথ্য অধিকার, স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যম সম্পর্কিত অধিকারের বর্তমান চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

দ্বিতীয় অধ্যায়ে অভিবাসন নীতি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ ৩টি লেখা রয়েছে। প্রথম প্রন্ধটিতে তুরস্কে ইউরোপবহির্ভূত দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীদের বিভিন্ন সমস্যার ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। দ্বিতীয় প্রবন্ধে তুরস্কে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মানবেতর অবস্থার বিশ্লেষণ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে বৈধ অভিবাসী হয়েও অধিক টাকার লোভে ইউরোপের যাওয়ার উদ্দেশ্যে তুরস্কে প্রবেশকরা অভিবাসীদের দুর্ভোগ ও অভিজ্ঞতার বর্ণনা করা হয়েছে। তৃতীয় প্রবন্ধে আধুনিক সীমান্ত ব্যবস্থা ও এর ফলে উন্নত দেশেগুলোর সুবিধা ও অনুন্নত দেশের জনগণের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

ইতিহাস ও সভ্যতা শিরোনামে তৃতীয় অধ্যায়ের প্রথম প্রবন্ধে প্রাচীনকাল থেকে বাংলা ভূখণ্ডে অভিবাসন,সাংস্কৃতিক রূপান্তর, বিদেশি আগ্রাসন ও ধর্মীয় বিপ্লবের বিস্তারিত বিশ্লেষণ স্থান পেয়েছে। অধ্যায়ের দ্বিতীয় প্রবন্ধে ওসমানী খিলাফতের সঙ্গে ভারতীয় উপমহাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। তৃতীয় প্রবন্ধে আরকান ভূখণ্ডে রোহিঙ্গাদের হাজার বছরের ইতিহাস ও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা স্থান পেয়েছে।

চতুর্থ অধ্যায়ে তুরস্কের ২০১৬ সালের সামরিক অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে তুরস্কে সরকার-সামরিক বাহিনীর সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় প্রবন্ধে তুরস্কে ২০১৬ সালের অভ্যুত্থান প্রতিহতে জনগণ ও মিডিয়ার ভূমিকা বর্ণনা করা হয়েছে। তৃতীয় প্রবন্ধে বাংলাদেশের ২০০৭-০৮ রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপট ও প্রকৃতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ রয়েছে।  

পঞ্চম অধ্যায়ে ফিলিস্তিন ও ইসরাইল সংঘাতের প্রেক্ষাপট, ইতিহাস ও সম্ভাব্য যৌক্তিক সমাধানগুলো আলোচনা করা হয়েছে। দ্বিতীয় লেখাটিতে মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসলামের ভূমিকা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।

ষষ্ঠ ও সর্বশেষ অধ্যায়ে, বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের বেসামরিক শক্তিগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এ অধ্যায়ের দ্বিতীয় প্রবন্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সক্ষমতা ও ব্যর্থতা তুলে ধরা হয়েছে। শেষ প্রন্ধটিতে ইউক্রেন সংকট পরবর্তী ন্যাটো ও রাশিয়ার সম্পর্কে বিশ্লেষণ স্থান পেয়েছে।

বাংলাদেশ, তুরস্ক ও মধ্যপ্রাচ্যোর বিভিন্ন বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী বইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান ও কলা অনুষদের শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সংগ্রহ হতে পারে।