আদিত্য নজরুলের ''চিরকুমার দুঃখগুলো'' থেকে একগুচ্ছ কবিতা
jugantor
আদিত্য নজরুলের ''চিরকুমার দুঃখগুলো'' থেকে একগুচ্ছ কবিতা

   

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩:০৪:০৭  |  অনলাইন সংস্করণ

অনভ্যাস
.
আঁকতে গেলাম চোখ
চোখ দুটি উল্টে
কান্না হয়ে গড়িয়ে পড়লো জল।

আঁকতে গেলাম গন্ধভরা একটি গোলাপ
রঙকৌটা উল্টে
বৃন্তছেড়া কোমল পাপড়ি
বাসি খোঁপার অভ্যাসে খুলে গেলো।

একটা মসৃণ পথ আঁকতে গেলাম
গন্তব্যে পৌঁছাবো বলে
কি মুশকিল, ফসকে হাতের তুলি
বনেদী বাড়ির গৌরেবের মতো
তছনছ হয়ে গেলো পথ...

অনভিজ্ঞদের
এমনই হয় তো হয়,
স্বপ্ন দেখতে গিয়েও চোখ পুড়িয়ে ফেলে!


আবিষ্কার
.
আমি কাঁদছি,
কালবৈশাখী তাড়া খাওয়া বেদনায়
ভেঙেচুরে মা দৌঁড়ে
এসে বললেন: ‘কী হয়েছে বাবা’
কাঁদছিস কেন?

আমি কাঁদছি
বড় বোন দৌঁড়ে এসে
কচি গাবপাতার মতো কোমল কণ্ঠে
বললেন:
‘কাঁছিস কেন তুই ?’

বিদ্রুপ কটাক্ষ অতিক্রম করে
বন্ধুরা পৃথিবী ঝড়ো হাসি দিয়ে বললো:
‘কাঁদছি কেন’?

আমাকে কাঁদতে দেখে
পাড়ভাঙ্গা উপমায় নদীও বললো
তুমি কাঁদছো কেন
কান্না তো উদ্বাস্তুরদের মৌলিক অধিকার।

কি করে বলবো তাদের
আমি শুধু মানুষের কান্নার প্রতিনিধিত্ব করছি !


নিঝুম
.
বাবার প্রসঙ্গ এলে
ঢেঁকিছাটা চালরঙ হয়ে যায়
মায়ের দু’চোখ...

লজ্জাভেজা মা’র মুখে
বাবা’র তারুণ্যের গল্প মানেই
কাঁশার থালায় সূর্যডোবা...

মায়ের করুণ মুখে
লজ্জাডোবা দেখতে দেখতে
ছেড়া পালের বাদাম তোলা নৌকা হয়ে
কেঁপে ওঠে আমাদের বুক।


বর্ষাতি
.
ঘরের সামনে, ডালিম গাছের নিচে
সময়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঠাঁয় বসে থাকেন মা...
তাঁর হাতে লাঠি-
জীবিকা বিহীন বৃদ্ধদের
কালো পাঁজরের মতো...

লাঠিটা থুতনির নীচে রেখে
মা যখন একমনে কিছু ভাবতে থাকেন
তাঁকে শাদাবক মনে হয়।

মায়ের সারস ভাবনা দেখে
থৈ থৈ জলাশয় আমাদের চোখ।

ভাবছি কখন মা- সাদাবক
আমাদের একা করে উজাড় উড়ালে দূরে চলে যায়...!


বিমুক্ত
.
দুপুরটা হাওয়া দিচ্ছে খুব-

জনপ্রিয় নেতাদের
সমাবেশে ভেসে ওঠা অগোছালো
এলোমেলো হাততালির মতোই।

পৃথিবীকে মনে হচ্ছে হাওয়ার পুকুর।

হাওয়ার প্রচন্ড দাপটে
শুকনো পাতাও
চ্যালা-চামচাদের স্বভাবে
রাস্তায় রাস্তায় গুন্ডামি করছে...

হাওয়ার উন্মুক্ত পুকুরে
কলাপাতা
চিতল মাছের কাটছে সাঁতার ।

ব্যর্থশ্রান্ত মানুষের পদচিহ্ন অনুসরণ করে
দুপুরটা কি তাহলে
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ছেড়ে একটু জিরিয়ে নিচ্ছে...


এপিটাফ
.
কী রঙ চাই তোমার ?
পতাকার কাছে সবিনয়ে জানতে চাওয়া হলো।

সন্তপ্ত কুসুমহাসি দিয়ে
পতাকা বললো
সবুজের সাথে
গাঢ় লালের কম্বিনেশন।

তারপর থেকে
শৈলী ও প্রকরণে
পতাকার রঙ হলো: লাল-সবুজ।

পতাকার পরিধি মানেই তো
একটি দেশের সারভৌমত্বের পরিসীমা।


টেলিপ্রিন্টার
.
হেমন্ত এসেছে মাঠে
অভাবের দৌরাত্ম্যকে পরাজিত করে
কমান্ডারের মতো
উল্লাস করছে মাঠে মাঠে
সরফরাজি কৃষক...

পরাজিত শোকে খাকি পোষাকের
পাকিস্তানি সৈন্য হয়ে
ক্ষেতে ক্ষেতে শুয়ে আছে মুড়ি।

হেমন্তের মাঠে বিজয়ে এসেছে।

ফ্যান-ভাতের সুঘ্রাণে
জুঁইফুল হয়ে ফুটবে এবার ক্ষুধা।

কৃষাণীর মাখনফর্সা পেটে
কৃষক আঁকবে সুখে
এই হেমন্তে একটি সন্তানের মুখ।


সন্তাপ
.
মেকাপ বক্সটা চুরি হয়ে গেছে..

খুঁজতে খুঁজতে তুমি চৌদ্দ গুষ্টিকে
যখন নানান বিশেষণ দিচ্ছো
তখনি পশ্চিম আকাশের সূর্য মোহগ্রস্ত করে দিলো।

অবিকল মেকাপ বক্সের নকশায়
গোল সূর্য কোথা হতে এলো ?

সূর্যের মেকাপ মাখতে মাখতে
মেঘলা দিনটা বুঝি
মেয়েদের ডালিম গালের
রূপ ধারণ করেছে !

পশ্চিম আকাশে ওটা সূর্য নয়
ড্রেসিং টেবিলের মেকাপ বক্সটি
চুরি করে গিয়ে পড়া বেড়াচ্ছে আকাশে!


উদ্বস্ত্ব
.
এই হাত দুটি যুক্তরাষ্ট্র
ফিউশন রেজারটা শক্তিশালী ইজরাইল।

অজস্র মানুষের ভীড়ে
আমি একজন হত্যাকারী?

ক্লীনসেভ করতে করতে
আজ সকাল বেলায়
আমার গালকে
ফিলিস্তানের একখন্ড ভূমি মনে হলো।

দাড়িগুলো কি তাহলে
একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠন করতে চেয়েছিলো
থুতনিতে, গালে-
যার অপরাধে আমি
জন্মভূমি থেকে
দাড়িগুলোকে বিতাড়িত করে দিচ্ছি।

সেভ করতে করতে মনে হলো
আমি একজন হত্যাকারী।

আমার হাতদুটো যুক্তরাষ্ট্র
ফিউশন রেজারটা শক্তিশালী ইজরাইল।


তুষানল
.
পিতার নামের পূর্বে- মৃত লিখতেই
ডালিম দানার চোখে তাকালাম :
দুঃখিত বলে লোকটি
শুধু লিখলেন
‘গিয়াসউদ্দিন আহম্মেদ।’

যার কথা বলতেই
গর্বে বাংলা ঘরের চৌহদ্দি হয়ে যায় বুক।

বাবা বাংলা ঘরে
ছোট-খাটো বিচারে বসলে
নৃত্তের ভঙ্গিতে নড়তো আঙ্গুল
আঙ্গুলের মেধায় বিস্মিত হতাম!

বাবার নামের স্থলে
কি করে মৃত শব্দটি লিখবো?

বাবার নামের পূর্বে মৃত লিখে
মৃত্যুকে উদ্বুদ্ধ করতে পারিনা আমি।


জীবনের কড়চা
.
মৃত নদী হয়ে
হস্তরেখা চিৎ হয়ে শুয়ে আছে।

হস্তরেখা দেখতে দেখতে
মনে হলো একদিন জোয়ার ইচ্ছায়
বের হয়েছিলাম ভ্রমণে, নদী।

ছোট ছোট
নৌকাগুলো দেখে
বলেছিলে:
ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়া
সারি সারি বালিকা বধুর চোখ!

হস্তরেখায় চিৎ হয়ে থাকা
মৃত নদী দেখে স্মৃতিজুড়ে ভেসে ওঠে
কোমরের বাঁকে
কলসের নিপুণ মুদ্রায় নাচার দৃশ্য।

হস্তরেখায় চিৎ হয়ে থাকা মৃত নদী
মাঝে মাঝে মনে এতো ঢেউ তোলে কেনো!


পরিদৃশ্যমান
.
নিপূণ মুদ্রায় একটি সারস পাখি
জলাশয়ের দিকে চেয়ে আছে...

পাখিটি দেখছে ঢেউ
নিরন্তর বেদনায় ভরা জলাশয়...

তন্দ্রালশ জলশয়ে পাখিটি খুঁজছে
ঢেউএর পাহাড় ভেঙে-
কোথায় লুকালো খোয়াজখিজির।

পাখিটি দেখছে
ঢেউএর জন্ম ঢেউএর আত্মহত্যা।

পাখিটির দিকে চেয়ে চেয়ে
ভালোসেসে ফেলি আমি সারস জীবন।


কাটলেট
.
জীবন আমাকে ঠকিয়েছে...

আমি ঠকে গেছি
এই আফসোস করতেই
মা-হাসতে হাসতে
আমার মাথায় হাত রেখে বললেন:
‘তোর মনে নেই।’-

যময ভাইকে
মাতৃদুগ্ধ থেকে
সরিয়ে একাই তুই
উদর ভরতি !

ভাগাভাগি নয়
হরণ করাই জীবনের জন্মগত
এ্যাকজিবিশন।

তারপর
মা-
একটু সিরিয়াস হয়ে বললেন :
শোন-
জীবনে প্রথম যে হেরেছে
সে আসলে গণিত বিষয়ের প্রবর্তক।

আদিত্য নজরুলের ''চিরকুমার দুঃখগুলো'' থেকে একগুচ্ছ কবিতা

  
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০১:০৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

অনভ্যাস
.
আঁকতে গেলাম চোখ
চোখ দুটি উল্টে
কান্না হয়ে গড়িয়ে পড়লো জল।

আঁকতে গেলাম গন্ধভরা একটি গোলাপ
রঙকৌটা উল্টে
বৃন্তছেড়া কোমল পাপড়ি
বাসি খোঁপার অভ্যাসে খুলে গেলো।

একটা মসৃণ পথ আঁকতে গেলাম
গন্তব্যে পৌঁছাবো বলে
কি মুশকিল, ফসকে হাতের তুলি
বনেদী বাড়ির গৌরেবের মতো
তছনছ হয়ে গেলো পথ...

অনভিজ্ঞদের
এমনই হয় তো হয়,
স্বপ্ন দেখতে গিয়েও চোখ পুড়িয়ে ফেলে!

 

 


আবিষ্কার
.
আমি কাঁদছি,
কালবৈশাখী তাড়া খাওয়া বেদনায়
ভেঙেচুরে মা দৌঁড়ে
এসে বললেন: ‘কী হয়েছে বাবা’
কাঁদছিস কেন?

আমি কাঁদছি
বড় বোন দৌঁড়ে এসে
কচি গাবপাতার মতো কোমল কণ্ঠে
বললেন:
‘কাঁছিস কেন তুই ?’

বিদ্রুপ কটাক্ষ অতিক্রম করে
বন্ধুরা পৃথিবী ঝড়ো হাসি দিয়ে বললো:
‘কাঁদছি কেন’?

আমাকে কাঁদতে দেখে
পাড়ভাঙ্গা উপমায় নদীও বললো
তুমি কাঁদছো কেন
কান্না তো উদ্বাস্তুরদের মৌলিক অধিকার।

কি করে বলবো তাদের
আমি শুধু মানুষের কান্নার প্রতিনিধিত্ব করছি !

 

 


নিঝুম
.
বাবার প্রসঙ্গ এলে
ঢেঁকিছাটা চালরঙ হয়ে যায়
মায়ের দু’চোখ...

লজ্জাভেজা মা’র মুখে
বাবা’র তারুণ্যের গল্প মানেই
কাঁশার থালায় সূর্যডোবা...

মায়ের করুণ মুখে
লজ্জাডোবা দেখতে দেখতে
ছেড়া পালের বাদাম তোলা নৌকা হয়ে
কেঁপে ওঠে আমাদের বুক।

 

 


বর্ষাতি
.
ঘরের সামনে, ডালিম গাছের নিচে
সময়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঠাঁয় বসে থাকেন মা...
তাঁর হাতে লাঠি-
জীবিকা বিহীন বৃদ্ধদের
কালো পাঁজরের মতো...

লাঠিটা থুতনির নীচে রেখে
মা যখন একমনে কিছু ভাবতে থাকেন
তাঁকে শাদাবক মনে হয়।

মায়ের সারস ভাবনা দেখে
থৈ থৈ জলাশয় আমাদের চোখ।

ভাবছি কখন  মা- সাদাবক
আমাদের একা করে উজাড় উড়ালে দূরে চলে যায়...!

 

 


বিমুক্ত
.
দুপুরটা হাওয়া দিচ্ছে খুব-

জনপ্রিয় নেতাদের
সমাবেশে ভেসে ওঠা অগোছালো
এলোমেলো হাততালির মতোই।

পৃথিবীকে মনে হচ্ছে হাওয়ার পুকুর।

হাওয়ার প্রচন্ড দাপটে
শুকনো পাতাও
চ্যালা-চামচাদের স্বভাবে
রাস্তায় রাস্তায় গুন্ডামি করছে...

হাওয়ার উন্মুক্ত পুকুরে
কলাপাতা
চিতল মাছের কাটছে সাঁতার ।

ব্যর্থশ্রান্ত মানুষের পদচিহ্ন অনুসরণ করে
দুপুরটা কি তাহলে
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ছেড়ে একটু জিরিয়ে নিচ্ছে...

 

 


এপিটাফ
.
কী রঙ চাই তোমার ?
পতাকার কাছে সবিনয়ে জানতে চাওয়া হলো।

সন্তপ্ত কুসুমহাসি দিয়ে
পতাকা বললো
সবুজের সাথে
গাঢ় লালের কম্বিনেশন।

তারপর থেকে
শৈলী ও প্রকরণে
পতাকার রঙ হলো: লাল-সবুজ।

পতাকার পরিধি মানেই তো
একটি দেশের সারভৌমত্বের পরিসীমা।

 

 


টেলিপ্রিন্টার
.
হেমন্ত এসেছে মাঠে
অভাবের দৌরাত্ম্যকে পরাজিত করে
কমান্ডারের মতো
উল্লাস করছে মাঠে মাঠে
সরফরাজি কৃষক...

পরাজিত শোকে খাকি পোষাকের
পাকিস্তানি সৈন্য হয়ে
ক্ষেতে ক্ষেতে শুয়ে আছে মুড়ি।

হেমন্তের মাঠে বিজয়ে এসেছে।

ফ্যান-ভাতের সুঘ্রাণে
জুঁইফুল হয়ে ফুটবে এবার ক্ষুধা।

কৃষাণীর মাখনফর্সা পেটে
কৃষক আঁকবে সুখে
এই হেমন্তে একটি সন্তানের মুখ।

 

 


সন্তাপ
.
মেকাপ বক্সটা চুরি হয়ে গেছে..

খুঁজতে খুঁজতে তুমি চৌদ্দ গুষ্টিকে
যখন নানান বিশেষণ দিচ্ছো
তখনি পশ্চিম আকাশের সূর্য মোহগ্রস্ত করে দিলো।

অবিকল মেকাপ বক্সের নকশায়
গোল সূর্য কোথা হতে এলো ?

সূর্যের মেকাপ মাখতে মাখতে
মেঘলা দিনটা বুঝি
মেয়েদের ডালিম গালের
রূপ ধারণ করেছে !

পশ্চিম আকাশে ওটা সূর্য নয়
ড্রেসিং টেবিলের মেকাপ বক্সটি
চুরি করে গিয়ে পড়া বেড়াচ্ছে আকাশে!

 

 


উদ্বস্ত্ব
.
এই হাত দুটি যুক্তরাষ্ট্র
ফিউশন রেজারটা শক্তিশালী ইজরাইল।

অজস্র মানুষের ভীড়ে
আমি একজন হত্যাকারী?

ক্লীনসেভ করতে করতে
আজ সকাল বেলায়
আমার গালকে
ফিলিস্তানের একখন্ড ভূমি মনে হলো।

দাড়িগুলো কি তাহলে
একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠন করতে চেয়েছিলো
থুতনিতে, গালে-
যার অপরাধে আমি
জন্মভূমি থেকে
দাড়িগুলোকে বিতাড়িত করে দিচ্ছি।

সেভ করতে করতে মনে হলো
আমি একজন হত্যাকারী।

আমার হাতদুটো যুক্তরাষ্ট্র
ফিউশন রেজারটা শক্তিশালী ইজরাইল।

 

 


তুষানল
.
পিতার নামের পূর্বে- মৃত লিখতেই
ডালিম দানার চোখে তাকালাম :
দুঃখিত বলে লোকটি
শুধু লিখলেন
‘গিয়াসউদ্দিন আহম্মেদ।’

যার কথা বলতেই
গর্বে বাংলা ঘরের চৌহদ্দি হয়ে যায় বুক।

বাবা বাংলা ঘরে
ছোট-খাটো বিচারে বসলে
নৃত্তের ভঙ্গিতে নড়তো আঙ্গুল
আঙ্গুলের মেধায় বিস্মিত হতাম!

বাবার নামের স্থলে
কি করে মৃত শব্দটি লিখবো?

বাবার নামের পূর্বে মৃত লিখে
মৃত্যুকে উদ্বুদ্ধ করতে পারিনা আমি।

 

 


জীবনের কড়চা
.
মৃত নদী হয়ে
হস্তরেখা চিৎ হয়ে শুয়ে আছে।

হস্তরেখা দেখতে দেখতে
মনে হলো একদিন জোয়ার ইচ্ছায়
বের হয়েছিলাম ভ্রমণে, নদী।

ছোট ছোট
নৌকাগুলো দেখে
বলেছিলে:
ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়া
সারি সারি বালিকা বধুর চোখ!

হস্তরেখায় চিৎ হয়ে থাকা
মৃত নদী দেখে স্মৃতিজুড়ে ভেসে ওঠে
কোমরের বাঁকে
কলসের নিপুণ মুদ্রায় নাচার দৃশ্য।

হস্তরেখায় চিৎ হয়ে থাকা মৃত নদী
মাঝে মাঝে মনে এতো ঢেউ তোলে কেনো!

 

 


পরিদৃশ্যমান
.
নিপূণ মুদ্রায় একটি সারস পাখি
জলাশয়ের দিকে চেয়ে আছে...

পাখিটি দেখছে ঢেউ
নিরন্তর বেদনায় ভরা জলাশয়...

তন্দ্রালশ জলশয়ে পাখিটি খুঁজছে
ঢেউএর পাহাড় ভেঙে-
কোথায় লুকালো খোয়াজখিজির।

পাখিটি দেখছে
ঢেউএর জন্ম ঢেউএর আত্মহত্যা।

পাখিটির দিকে চেয়ে চেয়ে
ভালোসেসে ফেলি আমি সারস জীবন।

 

 


কাটলেট
.
জীবন আমাকে ঠকিয়েছে...

আমি ঠকে গেছি
এই আফসোস করতেই
মা-হাসতে হাসতে
আমার মাথায় হাত রেখে বললেন:
‘তোর মনে নেই।’-

যময ভাইকে
মাতৃদুগ্ধ থেকে
সরিয়ে একাই তুই
উদর ভরতি !

ভাগাভাগি নয়
হরণ করাই জীবনের জন্মগত
এ্যাকজিবিশন।

তারপর
মা-
একটু সিরিয়াস হয়ে বললেন :
শোন-
জীবনে প্রথম যে হেরেছে
সে আসলে গণিত বিষয়ের প্রবর্তক।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন