বইমেলায় আসছে অধ্যাপক আকমলের গবেষণাগ্রন্থ ‘কাশ্মীর’
jugantor
বইমেলায় আসছে অধ্যাপক আকমলের গবেষণাগ্রন্থ ‘কাশ্মীর’

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:২৮:৫২  |  অনলাইন সংস্করণ

বইমেলায় আসছে অধ্যাপক আকমলের গবেষণাগ্রন্থ ‘কাশ্মীর’

কয়েক যুগ ধরে চলমান কাশ্মীর সংকট নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. আকমল হোসেনের গবেষণাগ্রন্থ শিগগিরই প্রকাশিত হচ্ছে। ‘কাশ্মীর দেশীয় রাজ্য থেকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, প্রলম্বিত সংকটের আখ্যান’ শীর্ষক বইটি ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে পাওয়া যাবে একুশে বইমেলায়।

ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতে কাশ্মীর ভূখণ্ডটি দেশীয় রাজ্য হিসেবে এক স্বতন্ত্র পরিচয় ধারণ করত। কিন্তু ভারত-বিভক্তির প্রাক্কালে রাজ্যটিকে নিজ নিজ নিয়ন্ত্রণে আনার পাকিস্তান ও ভারতের আকাঙ্ক্ষা শেষ পর্যন্ত রাজ্যটিকে দুই ভাগে করে পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত এবং ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর হিসেবে পরিচিত করে তোলে। তবে কাশ্মীরের জনগণ তাদের নিজস্ব সত্তাকে হারিয়ে নতুন পরিচয়ে সন্তুষ্ট হয়নি।

ভারত সংবিধানে ৩৭০ ধারা সংযোজন করে নিজ নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের জন্য 'বিশেষ মর্যাদা’ দেয়ার বিধান করেছিল। তবে শুরু থেকেই এ মর্যাদা হ্রাস করার নীতি ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কাশ্মীরি নেতা শেখ আবদুল্লাহ ভারতভুক্তি মেনে নিলেও জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। তিনি ও তার সহকর্মীরা কাশ্মীরিদের পৃথক সত্তা বজায় রাখার পক্ষে ছিলেন। কিন্তু ভারত সরকার ৩৭০ ধারা এবং দুপক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত দিল্লি চুক্তি অনুযায়ী কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন সম্পর্কীয় সমঝোতা ভঙ্গ করে ভূখণ্ডটির ওপর কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে থাকে।

প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ এবং বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে কাশ্মীরে সরকার পরিবর্তন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। তাদের ভেতর ক্রমান্বয়ে সৃষ্ট অসন্তোষ একপর্যায়ে তা সশস্ত্র বিদ্রোহে রূপান্তরিত হয়েছিল।

ভারত রাষ্ট্রের পাল্টা সহিংসতা কাশ্মীরি সমাজকে অস্থিতিশীল করে তোলে এবং ক্রমাগত মানবাধিকার লঙ্ঘন করার ঘটনা ঘটতে থাকে।

দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতিতে কাশ্মীর সংকট সাত দশকের বেশি সময়জুড়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ অঞ্চলের দুই বৃহৎ প্রতিবেশী, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বৈরিতার পেছনে মূলত কাশ্মীর নিয়ে তাদের পরস্পরবিরোধী দাবিকে দায়ী করা যায়। কাশ্মীরকে নিয়ে দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের শত্রুতা কাশ্মীরি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের সংগ্রামকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে কাশ্মীর এখন ভারত-পাকিস্তানের বিরোধের অন্তর্গত এক ইস্যু হিসেবেই বিবেচিত। ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারত সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫ক ধারা বাতিল করে রাজ্যটিকে ভাগ করে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করায় ভিন্ন এক জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে কাশ্মীর সংকট নিরসন না হয়ে দীর্ঘায়িত হয়েছে।

কাশ্মীর সংকটের আদোপান্ত নিয়ে অধ্যাপক ড. আকমল হোসেনের লেখা বইটির প্রকাশক সংহতি প্রকাশন। বইটির মোড়ক উন্মোচন ২৬ ফেব্রুয়ারি। মূল্য ২৪০ টাকা। পাওয়া যাবে একুশে বইমেলার ৫২১-৫২২ নম্বর স্টলে।

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আকমল হোসেন এর আগেও কাশ্মীর সংকট নিয়ে লেখালেখি করেছেন। এই বইটিতে দীর্ঘমেয়াদি কাশ্মীর সংকট নিয়ে লেখকের পর্যবেক্ষণ এবং গভীর অনুসন্ধানেসংকটের ব্যবচ্ছেদ উঠে আসবে।

বইমেলায় আসছে অধ্যাপক আকমলের গবেষণাগ্রন্থ ‘কাশ্মীর’

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:২৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
বইমেলায় আসছে অধ্যাপক আকমলের গবেষণাগ্রন্থ ‘কাশ্মীর’
বইমেলায় আসছে অধ্যাপক আকমলের গবেষণাগ্রন্থ ‘কাশ্মীর’। ফাইল ছবি

কয়েক যুগ ধরে চলমান কাশ্মীর সংকট নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. আকমল হোসেনের গবেষণাগ্রন্থ শিগগিরই প্রকাশিত হচ্ছে। ‘কাশ্মীর দেশীয় রাজ্য থেকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, প্রলম্বিত সংকটের আখ্যান’ শীর্ষক বইটি ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে পাওয়া যাবে একুশে বইমেলায়। 

ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতে কাশ্মীর ভূখণ্ডটি দেশীয় রাজ্য হিসেবে এক স্বতন্ত্র পরিচয় ধারণ করত। কিন্তু ভারত-বিভক্তির প্রাক্কালে রাজ্যটিকে নিজ নিজ নিয়ন্ত্রণে আনার পাকিস্তান ও ভারতের আকাঙ্ক্ষা শেষ পর্যন্ত রাজ্যটিকে দুই ভাগে করে পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত এবং ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর হিসেবে পরিচিত করে তোলে। তবে কাশ্মীরের জনগণ তাদের নিজস্ব সত্তাকে হারিয়ে নতুন পরিচয়ে সন্তুষ্ট হয়নি। 

ভারত সংবিধানে ৩৭০ ধারা সংযোজন করে নিজ নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের জন্য 'বিশেষ মর্যাদা’ দেয়ার বিধান করেছিল। তবে শুরু থেকেই এ মর্যাদা হ্রাস করার নীতি ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কাশ্মীরি নেতা শেখ আবদুল্লাহ ভারতভুক্তি মেনে নিলেও জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। তিনি ও তার সহকর্মীরা কাশ্মীরিদের পৃথক সত্তা বজায় রাখার পক্ষে ছিলেন। কিন্তু ভারত সরকার ৩৭০ ধারা এবং দুপক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত দিল্লি চুক্তি অনুযায়ী কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন সম্পর্কীয় সমঝোতা ভঙ্গ করে ভূখণ্ডটির ওপর কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে থাকে। 

প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ এবং বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে কাশ্মীরে সরকার পরিবর্তন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। তাদের ভেতর ক্রমান্বয়ে সৃষ্ট অসন্তোষ একপর্যায়ে তা সশস্ত্র বিদ্রোহে রূপান্তরিত হয়েছিল। 

ভারত রাষ্ট্রের পাল্টা সহিংসতা কাশ্মীরি সমাজকে অস্থিতিশীল করে তোলে এবং ক্রমাগত মানবাধিকার লঙ্ঘন করার ঘটনা ঘটতে থাকে। 

দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতিতে কাশ্মীর সংকট সাত দশকের বেশি সময়জুড়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ অঞ্চলের দুই বৃহৎ প্রতিবেশী, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বৈরিতার পেছনে মূলত কাশ্মীর নিয়ে তাদের পরস্পরবিরোধী দাবিকে দায়ী করা যায়। কাশ্মীরকে নিয়ে দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের শত্রুতা কাশ্মীরি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের সংগ্রামকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। 

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে কাশ্মীর এখন ভারত-পাকিস্তানের বিরোধের অন্তর্গত এক ইস্যু হিসেবেই বিবেচিত। ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারত সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫ক ধারা বাতিল করে রাজ্যটিকে ভাগ করে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করায় ভিন্ন এক জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে কাশ্মীর সংকট নিরসন না হয়ে দীর্ঘায়িত হয়েছে।   

কাশ্মীর সংকটের আদোপান্ত নিয়ে অধ্যাপক ড. আকমল হোসেনের লেখা বইটির প্রকাশক সংহতি প্রকাশন। বইটির মোড়ক উন্মোচন ২৬ ফেব্রুয়ারি। মূল্য ২৪০ টাকা। পাওয়া যাবে একুশে বইমেলার ৫২১-৫২২ নম্বর স্টলে। 

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আকমল হোসেন এর আগেও কাশ্মীর সংকট নিয়ে লেখালেখি করেছেন। এই বইটিতে দীর্ঘমেয়াদি কাশ্মীর সংকট নিয়ে লেখকের পর্যবেক্ষণ এবং গভীর অনুসন্ধানে সংকটের ব্যবচ্ছেদ উঠে আসবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : বইমেলা-২০২০