মন যেখানে প্রকৃত প্রস্তাবে সায় দেয় সেটাই ভালোবাসা

  যুগান্তর ডেস্ক ০৫ জুন ২০২০, ০৪:২৩:৫৫ | অনলাইন সংস্করণ

ছবি: যুগান্তর

কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার জন্ম ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৪৯ সালে কক্সবাজার জেলার পূর্ব পোকখালি গ্রামে। কবিতায় তিনি প্রেম, প্রকৃতি, স্বদেশ ও জাতিসত্তার পরিচয় তুলে ধরার প্রয়াস পেয়েছেন।

বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাবের তিনি অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তার পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে সময়মানুষ নামে একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। তিনি বহু কাব্য ও গদ্য গ্রন্থের রচয়িতা। অনুবাদেও তিনি সিদ্ধহস্ত।

শোভাযাত্রা দ্রাবিড়ার প্রতি, অগ্নিময়ী হে মৃন্ময়ী, আমরা তামাটে জাতি, দেখা হলে একা হয়ে যাই, রাজার পোশাক প্রভৃতি তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পুরস্কার ও সম্মাননা তিনি লাভ করেছেন।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮৮), যশোর সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৩), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৩), কবি আহসান হাবীব কবিতা পুরস্কার (১৯৯৫) প্রভৃতি।

যুগান্তর: করোনায় গৃহবন্দি সময়ে কী লিখছেন কী পড়ছেন?

মুহম্মদ নূরুল হুদা: করোনায় গৃহবন্দি সময়ে মনে হল একটা শহর চোখের সামনে হঠাৎ বদলে গেল, নিঃসঙ্গ হয়ে গেল। প্রথম দিন থেকে আমি লেখা শুরু করেছি করোনা আশ্রম। দিনলিপি ঠিক নয়, এ সময়ের অনুভূতিমালা বলা যায়। এ ছাড়া পবিত্র কোরআন শরিফ অনুবাদ করছি। পড়ছি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের কবিতা।

যুগান্তর: বর্তমানে বাংলাদেশের সাহিত্যে ভালো লেখকের অভাব নাকি ভালো পাঠকের অভাব?

মুহম্মদ নূরুল হুদা: দুটোরই অভাব। লেখকের যে অভিনিবেশ থাকা দরকার তা নেই। ভালো পাঠক তাহলে থাকবে কীভাবে?

যুগান্তর: জীবিত তিনজন লেখকের নাম জানতে চাই যাদের লেখা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

মুহম্মদ নূরুল হুদা: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আহমদ রফিক, সলিমুল্লাহ খান।

যুগান্তর: লেখক হিসেবে বহুল আলোচিত কিন্তু আপনার বিবেচনায় যাদের নিয়ে এতটা আলোচনা হওয়ার কিছু নেই- এমন তিনজন লেখকের নাম জিজ্ঞেস করলে কাদের কথা বলবেন?
মুহম্মদ নূরুল হুদা: আমাদের এখানে প্রায় আশিভাগ লেখক চিন্তাহীনভাবে অসতর্কভাবে লেখেন। তাদের নাম বলতে চাচ্ছি না।

যুগান্তর: আপনার দেখা সেরা সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্র কোনটি?
মুহম্মদ নূরুল হুদা: তিতাস একটি নদীর নাম।

যুগান্তর: অভিনয় শিল্পীদের মধ্যে কার অভিনয় আপনার ভালো লাগে?
মুহম্মদ নূরুল হুদা: হুমায়ুন ফরীদি।

যুগান্তর: এমন কোনো নায়িকা আছে কি যাকে দেখলে প্রেমে পড়তে ইচ্ছা করে?
মুহম্মদ নূরুল হুদা: কবরী

যুগান্তর: জীবিত একজন রাজনীতিবিদের নাম জানতে চাই যাকে আপনি আদর্শ মনে করেন।
মুহম্মদ নূরুল হুদা: শেখ হাসিনা।

যুগান্তর: দুই বাংলার সাহিত্যে তুলনা করলে বর্তমানে আমরা কোন বিভাগে এগিয়ে আর কোন বিভাগে পিছিয়ে আছি?
মুহম্মদ নূরুল হুদা: সব বিভাগে আমরা পিছিয়ে আছি। আমাদের লেখার চেয়ে গলাবাজিটা বেশি।

যুগান্তর: একজন অগ্রজ ও একজন অনুজ লেখকের নাম জানতে চাই যাদের আপনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।
মুহম্মদ নূরুল হুদা: রফিক আজাদ, ইমতিয়াজ মাহমুদ।

যুগান্তর: এমন দুটো বইয়ের নাম জানতে চাই যেগুলোকে আপনি অবশ্যপাঠ্য মনে করেন?
মুহম্মদ নূরুল হুদা: বলাকা ও বনলতা সেন।

যুগান্তর: গানে আছে ‘প্রেম একবারই এসেছিল জীবনে’। আপনার জীবনে প্রেম কতবার এসেছিল?
মুহম্মদ নূরুল হুদা: বহুবার বহুভাবে এসেছিল। মানসীর প্রতি প্রেম, মানবীর প্রতি প্রেম, স্রষ্টার প্রতি প্রেম। প্রেম এবং যৌনতা এক নয়। মন যেখানে প্রকৃত প্রস্তাবে সায় দেয় সেটাই ভালোবাসা।

যুগান্তর: প্রচলিত সমাজব্যবস্থার কোন বিষয়টি আপনার ভালো লাগে আর কোনটি খারাপ লাগে?

মুহম্মদ নূরুল হুদা: খারাপ লাগে এই যে, সমাজ এগিয়ে চলছে, বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হচ্ছে। কিন্তু মধ্যম আয়ের কিংবা নিম্ন শ্রেণির মানুষের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। বণ্টন ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। আর ভালো লাগে সবকিছু সত্ত্বেও মানুষ সংগ্রাম করছে। টিকে থাকার, টিকিয়ে রাখার প্রবণতাই মানুষের শুভবোধকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত