প্রেম শেষবার যখন এলো একবারে স্থায়ী হয়ে গেল

  হাইকেল হাশমী ১২ জুন ২০২০, ১৭:১৯:০২ | অনলাইন সংস্করণ

হাইকেল হাশমী একজন বহুভাষী কবি। তিনি বাংলা, ইংরেজি এবং উর্দু ভাষায় কবিতা লিখেন। বাংলায় ছোটগল্প লিখেন এবং বাংলা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন এবং উর্দু আর হিন্দি থেকে বাংলায় অনুবাদ করেন। তার তিনটি কবিতার সংকলন বেরিয়েছে, ‘শেষ নিঃশ্বাসের প্রথম গান’, ‘কবিতার ক্যানভাস’ আর ‘শব্দের রক্তক্ষরণ’। অনুবাদের বইগুলো হচ্ছে- ‘বাংলাদেশের উর্দু ছোটগল্প’, ১ম আর ২য় খণ্ড এবং ‘উপমহাদেশের উর্দু ছোটগল্প’। তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত।

যুগান্তর: করোনায় ঘরবন্দি সময়ে কী লিখছেন কী পড়ছেন?
হাইকেল হাশমী: কিছু কবিতা ও গল্প লিখেছি, অনুবাদ করেছি। এতদিন কেন পড়া হয়নি জানি না, হার্পার লি’র ‘টু কিল এ মোকিং বার্ড’ পড়েছি, গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের ‘ইন দ্য টাইম অব কলেরা’ পড়েছি, মোজাফফর হোসেন’-এর ‘দক্ষিণ এশিয়ার ডায়াসপোরা সাহিত্য’ পড়েছি। এখন ছোটগল্প পড়ছি মাহবুব আজীজের ‘লুব্ধক’ এবং শাকিব লোহানীর ‘একটি বাজপাখি আর ক’জন মানুষ’। সৈয়দ ইকবালের একটি উপন্যাস ‘মেয়ে তুমি জাঞ্জিবার টরন্টো’ পড়ছি, আর কবিতা তো সবসময় আমার সঙ্গী। ওয়েলিয়াম ডালরিম্পেলের ‘দি আনারকি’ পড়ার চেষ্টা করছি।

যুগান্তর: বর্তমানে বাংলাদেশের সাহিত্যে ভালো লেখকের অভাব নাকি ভালো মানের পাঠকের অভাব?
হাইকেল হাশমী: ভালো লেখকও আছেন, পাঠকও আছেন, শুধু পড়ালেখার মাধ্যম পরিবর্তন হয়ে গেছে। সামাজিকমাধ্যম এখন এত শক্তিশালী হয়ে গেছে যে বই মানুষকে আর মনে হচ্ছে আটকিয়ে রাখতে পারছে না। ওয়েবের মাধ্যমে মানুষ খুব বেশি পড়াশোনা করছে, অন্যদিকে ডিস্ট্রাকশানও অনেক বেশি। লোকজন এক পেজ থেকে অন্য পেজে জাম্প করে আর খুঁজে পায় না কোথায় ছিল। তবুও অনেক গ্রুপ পেজ আছে যেখানে লেখকরা তাদের লেখা দেন এবং ওইসব গ্রুপের লাখ লাখ মেম্বার আছে এবং কয়জন পড়ে তা আমি বলতে পারব না। আমি নিজে কিন্ডেলে বই পড়ি যেটাকে বইয়ের মতোই মনে হয়; কিন্তু ল্যাপটপের স্ক্রিনে খুব বেশি মনযোগ রাখতে পারি না।

যুগান্তর: যাদের লেখা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে জীবিত এমন তিনজন লেখকের নাম।
হাইকেল হাশমী: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আসাদ চৌধুরী, সেলিনা হোসেন।

যুগান্তর: লেখক হিসেবে বহুল আলোচিত কিন্তু আপনার বিবেচনায় এদের নিয়ে এতটা আলোচনা হওয়ার কিছু নেই বিশ্বসাহিত্যের এমন তিনজন লেখকের নাম।
হাইকেল হাশমী: এমন কি কোনো লেখক আছেন যাকে নিয়ে সামলোচনা হয় না অথবা আলোচনা হয় না? লিখতে গেলে দুটোরই সম্মুখীন হতে হবে। তবে, চেতান ভাগাত (Five Point Someone), ই এল জেমস (Sixty Shades of Grey), রুপি কাউর (Milk and Honey) এদের নাম বলা যায়।

যুগান্তর: সাহিত্য থেকে হওয়া আপনার দেখা সেরা সিনেমা।
হাইকেল হাশমী: পথের পাঁচালি।

যুগান্তর: কার অভিনয় ভালো লাগে?
হাইকেল হাশমী: ছবি খুব বেশি দেখা হয় না। আগে বুলবুল আহমেদ, হুমায়ুন ফরিদী, এহসান আলী সিডনি, ফেরদৌসী মজুমদার, সুবর্ণা মোস্তাফা প্রমুখের অভিনয় ভালো লাগতো।

যুগান্তর: এমন একজন নায়িকার কথা বলুন যার প্রেমে পড়তে চান।
হাইকেল হাশমী: এখন তো আর পড়তে চাই না, বাড়িছাড়া হব। কিন্তু যখন যুবক ছিলাম তখন কবরী ‘হার্ট থ্রব’ ছিল।

যুগান্তর: জীবিত একজন আদর্শ রাজনীতিবিদের নাম বলুন।
হাইকেল হাশমী: কেউ কি আছেন এখন- বঙ্গবন্ধু বা মওলানা ভাসানীর মতো?

যুগান্তর: দুই বাংলার সাহিত্যে তুলনা করলে বর্তমানে আমরা কোন বিভাগে এগিয়ে কোন বিভাগে পিছিয়ে?
হাইকেল হাশমী: আমি কোনো তুলনা করতে চাই না কিন্তু আমার মতে আমরা সব বিভাগেই এগিয়ে আছি।

যুগান্তর: একজন অগ্রজ এবং একজন অনুজ লেখকের নাম বলুন, যারা বাংলা সাহিত্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
হাইকেল হাশমী: কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, কবি ওবায়েদ আকাশ।

যুগান্তর: এমন দুটো বই, যা অবশ্যই পড়া উচিত বলে পাঠককে পরামর্শ দেবেন।
হাইকেল হাশমী: বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের চিলেকোঠার সেপাই।

যুগান্তর: গানে আছে ‘প্রেম একবার এসেছিল জীবনে’- আপনার জীবনে কয়বার এসেছিল?
হাইকেল হাশমী: শেষবার যখন এলো একবারে স্থায়ী হয়ে গেল। ওনার ধারণা যে, আরও কিছু ছিল যা নিজে স্বীকার করে বিপদে পড়তে চাই না।

যুগান্তর: আপনার সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয়, সবচেয়ে খারাপ লাগার বিষয়।
হাইকেল হাশমী: যখন বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আড্ডায় মিলিত হই তখন সবচেয়ে ভালো লাগে আর যখন খুব ‘ফর্মাল’ কোনো অনুষ্ঠানে যেতে হয় তখন দম বন্ধ হয়ে আসে এবং ওটাই সবচেয়ে খারাপ লাগার বিষয়।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত