ভালো লেখকের সঙ্গে ভালো পাঠকের যোগাযোগ গড়ে উঠছে না

  যুগান্তর ডেস্ক ০৩ জুলাই ২০২০, ০৩:৩৯:৩৭ | অনলাইন সংস্করণ

ছবি: যুগান্তর

মঈনুস সুলতান কবিতা এবং গল্প লিখলেও প্রধানত পাঠক মহলেও ভ্রমণ-লেখক হিসেবেই বেশি পরিচিত।

ভ্রমণ-সাহিত্যের লেখক হিসেবে বিখ্যাত মঈনুস সুলতানের জন্ম ১৯৫৬ সালে, সিলেট জেলার ফুলবাড়ী গ্রামে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাস চুসেটস থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ে ডক্টরেট করেছেন।

ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস এবং স্কুল অব হিউমেন সার্ভিসের খণ্ডকালীন অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেছেন। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ আফ্রিকার ভিজিটিং স্কলার ছিলেন।

শিক্ষকতা গবেষণা ও কন্সালট্যান্সির কাজে একাধিক দেশ ভ্রমণ করেছেন। সিওরা লিওন এ ডেমোক্র্যাসি অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস কর্মসূচির সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৫ সালে ভ্রমণ সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান।

যুগান্তর: করোনায় ঘরবন্দি সময়ে কী লিখছেন কী পড়ছেন?

মঈনুস সুলতান: যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি সেটেল্ড হওয়া শরণার্থীদের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যৎসামান্য ত্রাণ-কাজ করছি, তাই আমার দিনযাপনকে ষোলআনা ঘরবন্দি বলা যায় না।

বর্ণবাদবিরোধী জমায়েতেও মাঝেসাজে সামাজিক দূরত্ব বহাল রেখে প্লেকার্ড হাতে দাঁড়াই; এ দুটি বিষয় প্রতিফলিত হচ্ছে আমার ইদানীংকার লেখাজোখায়। এছাড়া আমেরিকার আদিবাসীদের সান্নিধ্যে যাওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি পাণ্ডুলিপিতে হাত দিয়েছিলাম করোনা-ক্রান্তির শুরুতে...।

গেল কয়েকদিন ধরে শ্রী রাম দাস রচিত ‘স্টিল হিয়ার : এমব্রেইসিং এজিং, চেঞ্জিং অ্যান্ড ডেথ’ শিরোনামে একটি পুস্তক পাঠ করছি।

যুগান্তর: বর্তমানে বাংলাদেশের সাহিত্যে ভালো লেখকের অভাব নাকি ভালো মানের পাঠকের অভাব?

মঈনুস সুলতান: আমার ধারণা কোনটারই অনটন নেই, তবে ভালো লেখকের সঙ্গে ভালো পাঠকের যোগাযোগ গড়ে উঠছে না।

যুগান্তর: যাদের লেখা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে জীবিত এমন তিনজন লেখকের নাম।

মঈনুস সুলতান: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, বদরউদ্দীন উমর, মোকারম হোসেন।

যুগান্তর: লেখক হিসেবে বহুল আলোচিত কিন্তু আপনার বিবেচনায় এদের নিয়ে এতটা আলোচনা হওয়ার কিছু নেই এমন তিনজন লেখকের নাম।

মঈনুস সুলতান: এ রকম লেখকদের নাম আমার জানা নেই।

যুগান্তর: সাহিত্য থেকে হওয়া আপনার দেখা সেরা সিনেমা।

মঈনুস সুলতান: তিতাস একটি নদীর নাম

যুগান্তর: কার অভিনয় ভালো লাগে?

মঈনুস সুলতান: গোলাম মোস্তফা

যুগান্তর: এমন একজন নায়িকার কথা বলুন যার প্রেমে পড়তে চান।

মঈনুস সুলতান: জয়শ্রী কবির। সামান্য সহবতের সূত্র ধরে ভালো লাগার সূচনা হয়েছিল।

যুগান্তর: জীবিত একজন আদর্শ রাজনীতিবিদের নাম বলুন।

মঈনুস সুলতান: জবাব দানে অপারগতার জন্য দুঃখিত।

যুগান্তর: দুই বাংলার সাহিত্যে তুলনা করলে বর্তমানে আমরা কোন বিভাগে এগিয়ে কোন বিভাগে পিছিয়ে?

মঈনুস সুলতান: সত্তর দশকের মাঝামাঝি একটি ধারণা সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলাম যে, গদ্যে পশ্চিম বাংলা এগিয়ে আছে বিগতভাবে, আর কবিতার ক্ষেত্র ডমিনেট্ করছেন বাংলাদেশের কবিরা।

এ ধারণা আমার মধ্যে তেমন দানা বাঁধেনি, নিজস্ব-পাঠে মনে হয়েছে, দুই বাংলাতেই কোন কোন কবি ও কথাশিল্পী অসামান্য অবদান রাখছেন।

যুগান্তর: একজন অগ্রজ এবং একজন অনুজ লেখকের নাম বলুন, যারা বাংলা সাহিত্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

মঈনুস সুলতান: বেশ কয়েকজন অগ্রজ ও একাধিক অনুজের লেখা গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছিল, এদের লেখার মান বিবর্তিত হয়েছে, আমারও মতামত পাল্টেছে। নির্দিষ্ট একজন অগ্রজ বা অনুজের নাম বলা মুশকিল।

যুগান্তর: এমন দুটো বই, যা অবশ্যই পড়া উচিত বলে পাঠককে পরামর্শ দেবেন।

মঈনুস সুলতান: পরামর্শ দেয়ার দায়িত্ব আমি সবিনয়ে এড়াতে চাই, তবে দুটি বই পাঠের অভিজ্ঞতা আমার স্মৃতিতে খুবই প্রাণবন্ত, নাম উল্লেখ করছি, রাজনগর ও পৃথক পালঙ্ক।

যুগান্তর: লেখক না হলে কী হতে চাইতেন।

মঈনুস সুলতান: পাখি পর্যবেক্ষক

যুগান্তর: গানে আছে ‘প্রেম একবার এসেছিল জীবনে’- আপনার জীবনে কয়বার এসেছিল?

মঈনুস সুলতান: কোন কিছুতে একবারে সন্তুষ্ট হওয়ার বান্দা আমি নই, ভালোলাগার ব্যাপারটা ঘটেছে আকসার, বন্ধুত্ব পর্যন্তও গড়িয়েছে বহুবার, পরবর্তী ধাপে উত্তরণের বিষয়ে সৎভাবে সংখ্যাতাত্ত্বিক উপাত্ত দেয়া আমার পক্ষে মুশকিল।

যুগান্তর: আপনার সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয়, সবচেয়ে খারাপ লাগার বিষয়।

মঈনুস সুলতান: সুযোগ করে গ্রহ-নক্ষত্রবিষয়ক প্রবন্ধ-নিবন্ধ পাঠ কিংবা নেচার ওয়াক করা প্রভৃতি আমার ভালোবাসার বিষয়, আর গিবত গাওয়াটা ঘৃণা করি।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত